সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

মৃণালকান্তি গায়েন

 




দেবী




নৌকা দেবীর নির্দিষ্ট কোন রূপ নেই। যে নৌকা যেমন দেখতে সেটাই নৌকা দেবীর রূপ। যেমন খেয়া নৌকা এক রকম দেখতে, জেলে ডিঙ্গি এক রকম , মালবাহী নৌকা আরেক রকম দেখতে । খেয়া নৌকা একটু চওড়া হয় তাতে অনেক পারাপারের যাত্রী বসতে পারে। খেয়া নৌকা নদীর এপার থেকে ওপার যাত্রী পারাপার করে, 'মা' যেমন সন্তানদের কোলে তুলে এখান থেকে ওখানে নিয়ে যায়, বিপদ থেকে রক্ষা করে। নৌকা দেবীও তার যাত্রীদের সন্তানদের মতো নদীতে দানব ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে নদীর একুল থেকে ওই কূলে নিয়ে যায়।


জেলে ডিঙ্গি রূপের দিক থেকে দেখতে চতুর্থীর চাঁদের মতো। চওড়া কম হয়। সেই কারণে নদীর ঢেউ কাটিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে পারে। নদীতে জাল পেতে যখন জেলে ডিঙ্গি জালের সাথে মাঝ নদীতে ভাসতে থাকে, তখন কোন কোন সময় তারা বুঝতে পারে যে কালবৈশাখী বা কোন ঝড় উঠতে চলেছে। তখন জাল নদী থেকে টেনে নৌকায় তুলতে সময় দেয় না। কালবৈশাখী উদ্দাম নৃত্যে মাঝ নদীতে ধেয়ে আসে। সে এক দানব মূর্তি। নৌকা তখন নদীর ঢেউয়ে ওঠানামা করে। বড় বড় ঢেউ ছুটে আসে নৌকার দিকে। কোন কোন ঢেউ নৌকার গায়ে লাগার আগে মিলিয়ে যায় । তারপর কোন কোন ঢেউ নৌকার উপর সজোরে ধাক্কা মারে । তখন মাঝিদের কেউ হাল, কেউ দাঁড় বেয়ে দানব ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে । কোন কোন সময় জেলে জেলেনিরাও থাকে । নৌকার দাঁড় ও হাল তখন যেন নৌকার হাত হয়ে যায় । মাঝি আর নৌকা একাত্ম হয়ে দানব ঢেউ এর সাথে লড়াই করে । তাখন নৌকা যেন মা দুর্গা। দুর্গা যেমন অসুরের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে ...  নৌকাও দানব ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে চলেছে...


আমি নৌকার এই রূপ দেখি চিত্রে, ভাস্কর্যে প্রকাশ করি।

                                                                                                                 মৃণালকান্তি গায়েন




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ