চয়ন ভৌমিক

 


অভ্রবালির দেশে 

 

১)

ঠিক বলা যাবে না,

এমন একটা আকাশ নিয়ে

 

আমি ঢুকে পড়েছি ভাদ্র মাসে

 

চোখ চিকচিক করছে -

 

বর্ষার সমস্ত মেঘ গিলে নিয়ে

পুরুষপুঙ্গব আমি

 

মাঝে মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি

শিয়াল কুকুরের বিবাহরোদ্দুর।

 

২)

 

অশ্রুর প্রবণতায় আমি নেই

 

অপমান ও অভিমানের চড়চাপড়

খেতে খেতে আমি এখন

সিজনড উইলো কাঠ।

 

আমাকে নিতে পারো, তৈরী

করতে পারো ক্রিকেট খেলার ব্যাট।

 

যা শূন্য করলেও যতটুকু

মাটিতে কপাল ঠুকবে

 

সেঞ্চুরী করলেও ততটাই।

 

৩)

 

বালি ও সমুদ্র এই দুয়ের

অত্যাশ্চর্য সমাহার উহ্য করে

গড়িয়ে যায় দূরপাল্লার ট্রেন।

 

পুরনো পায়ের ছাপ মুছে দেয়

নতুন পদপল্লব, ঢেউ স্নান

অঙ্গার করে দেয় চর্মশুভ্রকান্তি।

 

লড়াই এগোয়, তরবারি কখনও

ইস্পাত কখনও বা রাংতার নকল

 

গোপন জলাশয়ে জমে ওঠে

রক্তপাত, জোয়ার ভাটার টান,

 

জ্যোৎস্নার স্রোতে পানসি টানে

কালো, শক্ত মুঠি -

 

বোকা বন্দর সোনালী মোড়কে

ঘুমিয়ে পড়ে আকুল, অন্ধকার

আড়াআড়ি ডুবে যায় নোঙর ছুঁয়ে।

 

৪)

আবারও রক্ত ফুলে ওঠে

শিরা তোলা ধনুকের মুখে -

 

যোজনা করি লক্ষ্যপথে -

গিরিখাতে পড়ে থাকে শিলালিপি

মৃত শহরের হাড়, মাস, জঞ্জাল।

 

চামরমণি অন্নর পাশে জ্বালি

অগ্নি, অনন্ত মুখ সামান্য হাঁ হয়

 

সমুদ্র গিলে খায় নৌকার মাস্তুল

অজরামর সম্পর্ক সঙ্গীত,

 

কম্পাস হারিয়ে ভাসতেই থাকে

ভুল ঠিকানা লেখা খামের ভিতর।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন