শান্তিময় মুখোপাধ্যায়

 

গুচ্ছ কবিতা 

 

 

রাত্রি-১

 

চন্দ্রকোষ থেকে জ্যোৎস্না খসলো কিছুটা নিপুণ

ক্রমশ জড়াচ্ছে তা অলৌকিক, কুশলী মেজরাব

ও কি সেই গান্ধর্ব কোলাজ ; নির্জন,দূরলব্ধ 

দ্রুত লয়ের খেয়ালে একে একে পার হলো চাঁদমারি

তার নামা-ওঠা কিভাবে যে টপকে গেলো ঘরাণা

কোরা কাপড়ে শাঁখ লাগা সে এক অপৌত্তিলিক লহমা 

 

এইসব নস্টালজিয়া যূগিপাড়ার অন্ধকারে চোলাই বিক্রি করে  

 

শ্রবণা নক্ষত্রটিকে তোমার আঙুলে রেখে 

আমিও অতিরিক্ত চাঁদিতে ভোলাতে চেয়েছি

পিনিয়াল গ্ল্যান্ড বরাবর ঝুলে থাকা কিরণ

বিনম্র ছায়ায় যার পরিমাপ অশ্বক্ষুরাকৃতি জলায় 

 

বিবাহবন্ধনী দিয়ে তোমার না-ফেরা সন্ধের ফাঁস

রাশিফের জেনেও রাত্রিকে কখনোই মগ্নহীন হতে দিইনি

 

রাত্রি-২

 

কর্কটে চাঁদ ছিলো,ভাগ্যরেখা সেখান থেকে বিদায় নিয়েছে

বাকি যা, দৃশ্যের বিচি ফেলে মাছরাঙা গিলে নেয়

খ্যাপলা জালের মতো জ্যোৎস্না তবু বিছিয়ে রাখে উৎপাদনক্ষম

 

একই বিছানায় পাশাপাশি ছড়ের নাগাল কেবল

সামান্য টানেই বাজে বহুদূর, দ্বিতীয় প্রহর

আর ঘাঘরা গড়িয়ে নামে মনখারাপের কড়ি মধ্যম

 

গান্ধর্বী পায়ের ঝড়, মুদ্রার লকলকে ঢেউ 

অশরীরী শ্বাস ফেলে কাঁধে

যেন তুলি থেকে ইজেলের খসে পড়া

হতাশ এ্যাকোরিয়াম যেন দিনভর জলকেলি পাবনের ঘুম       

 

রাত্রি-৩

 

ফোড়নধোঁয়া বাতাসের ডানায় নেমে আসা,এই হলো নেপথ্য 

অন্ধকার জমে জমে আরো গাঢ় শব্দের স্ট্র‍্যাপে দাঁত বসাচ্ছে

আর রান্নাটেবিলের মদ কি কম চক্রান্ত নিপুন! 

শরীরের আহাগুলো পাখি হয়ে উড়ে যায় ফিঙ্গার পয়েন্টে

হাতে লেগে থাকে পালককুচির নানা টুকিটাকি

তাদের মৃত্যুকালীন স্বেচ্ছাচারিতা 

অক্ষরগলনের তাপ স্পাইকের বোঁটায় রেখে

দ্রুত আঙুলে তার সূত্র গোপন করা  

 

রাত্রি-৪

 

তৃতীয় পংক্তি থেকে অলৌকিক নেমে আসে

কতোটা অর্থমগ্ন এই বায়ুকাতরতা 

চোখে নিতে দেখি দুটো মলাটের মধ্যবর্তী রোঁয়া 

একে অন্যের গায়ে না আঁকা 

 

ফ্রন্ট কভারের নানা কিছু এরপরও 

তোষকের ফোকরে শাস্তিযোগ্য 

লুকোনো গল্পগুলো খুঁজে খুঁজে অনিশ্চয় মুখ পাল্টে দিচ্ছে  

 

প্রচ্ছদে লেপ্টে থাকা খলখল হাসি

পুরোনো কাঠের গায়ে আসবাবী রং

সীমান্তের স্টেশনে হাতুড়ির নিশি ডাকে 

 

পণ্যপুরুষের হাতে তার অন্তর্বাস খুলে যাওয়া  

 

রাত্রি-৫   

 

আয়ত বিছানা আছে ; ভাঙা পা,নড়বড়ে ইঁট

যৌন খুঁটিনাটি সেরে বেলাবেলি শুয়ে পড়া আছে

ও প্রিয় ডটপেন,রিফিল চোঁয়ানো অক্ষর 

কোন ডাকে সাড়া দেবে তুমি 

 

কাঠের শরীর ঘেঁষে কষ্ট ছিলো আসবাব মলিন

পংক্তি ভেঙে কতোদিন তাকে রন্ধনপ্রণালীর পাশে রেখেছি 

ওই দিকে তাকিয়ে ভুল মেয়েমানুষের মতো অন্যমনস্ক

খিদে পায় খুব 

শক্ত চোয়ালে জড়ানো ধূসর ল্যামিনেশন লুকিয়ে চুরিয়ে

কোন ফাঁকে পড়ে ফেলে অভাবী পদাবলি

রাতেরা বিদ্ধ হয়,স্মৃতির কার্তুজ হয়ে বিদ্ধ হয়