অন্ধত্বের
ডাকনাম থেকে
১
এতদূর স্বপ্নকুহকস্নানে
দৃঢ় এই
বিহঙ্গ-মরফিনে
শুধু আবছায়া
দৃষ্টিচিহ্নচক্রে
স্ফীত সুখ
হয়ত
অনন্তের মৃত্যুবিভাজিত অঙ্গুষ্ঠ সরিয়ে নিল তোমার
দহনে
অতিধীর বিস্মৃতি
আর জরুরি নয়
ভ্রুমধ্যরাতের এই দৃষ্টিহীনতা
থাকুক,
বাড়ুক আমাদের অনুভবহীন ক্ষত
পরস্পরকে ভেদ করে যাক একটিই ভুক্তাবশেষের ঘোর
এই সুপ্রাচীন বীতংসসংসার
অন্যমনস্ক হোক বহির্গামী ক্ষুধার তলদেশে।
২
অন্ধ
প্রথাব্যঞ্জনের শিস থেকে
ডীপ-ফ্রস্টেড হতে থাকে
বাকি
অস্বীকারটুকু
কিম্বা সহসা
তরল হয়ে ওঠে স্মৃতিমৃত্যুকথন
ছক ও স্রোত – একেকবার দংশন করে’ ফিরিয়ে দেয়
আমাকে।
ভুল হয় এই নির্মম আয়ুপ্রক্ষেপ
অসুখ গড়িয়ে পড়ে।
অভুক্ত এই বিষন্নতা আটকে থাকে পৃথিবীর অনাবিষ্কৃত সতীচ্ছদে
আরো অশ্রুদীর্ঘ জন্মান্তর থেকে
চিৎকার সরিয়ে নেয় বহির্স্রোত, মৃত মাছ, পিঙ্গলা...
ঘন অতিপথ থেকে অনন্ত হৃদয়ের ছাপ
অদৃশ্য বিন্দুর মত
নির্ঘুম এই জন্ম
ছড়িয়ে পড়ে আদিতম অস্ত্রবিষন্নতায়...
৩
মায়ামৃগমথিত
এই পিপাসার
অভ্যন্তরে
দৃশ্যবেদনার
এই আমিষার্থে
প্রতিফলনের কান্না ও অট্টহাসির পিপাসা থেকে
ছিন্নভিন্ন স্থিরগর্ভ তুমিও কি যুগপৎ?
গহন বোধিদ্রুমের দ্রুত পতনস্তব্ধতা?
তুমিও কি স্পর্শপ্রতারিত মাংসের বোবা
ম্যারিয়েনেশন?
তোমার মৃত্যুর গহন স্বাদে
সর্বত্র আমি ব্যর্থ করে চলেছি নদীজল
আশ্চর্য কিনারের আলো, আশ্রয়, বিস্তৃতি...
দৃশ্যঘ্ন হও
এই শূন্যতার অনন্ত প্লাবনের আঘ্রাণে
মায়াকুরঙ্গদৃষ্টির যন্ত্রণায়
এই সমগ্রতা তো শুধুই ক্ষুধাবর্জিত ঘোর
৪
অলখনিয়ন্ত্রিত
এই স্তব্ধতার অনুবাদে কেউ সান্দ্র নয়।
অপাপবিষন্ন
আস্তরণ ও মৃত্যুমুখে
নদী বহুদূর অযোনিসম্ভব
তার চেয়ে
বেশী প্রামাণ্য
সেতুতে
আমরা অগণন জলবিন্দু
পরিপ্লাবিত অস্বীকারের তলদেশে
খুঁজে রাখো
আমার মৃত্যুজন্মবাহী কৌতূহল
বাতাসে স্পর্শহীন আলো
ছক বদলাচ্ছে না কিছুতেই
৫
অস্তিত্বরঙ
শুকোচ্ছে না।
হয়ত এই
দৃশ্যপুতুলের ভ্রুমধ্যরাত্রিতে
ঘুমিয়ে পড়ছে শর্তায়িত অস্তিত্বকৌশল
প্রলাপবিষন্ন কথাসরীসৃপে
স্তব্ধ হয়ে এল এই আত্মকাম বাস্তুভূমি।
অন্ধ সুরের গহন সংঘনন থেকে
আমরা বদলাচ্ছি
তর্জনীর অবিশ্রান্ত ঘৃণা ও প্রেম।
শ্বেতক্রন্দনের আলোর গভীরে কোথাও মেঘ
ভিজে-যাওয়া জন্মান্তর
কিম্বা
বহুদূর দ্রোহের বিষাদপালকলিখনে
গড়িয়ে পড়ছে আমার অসুখ,
শাকান্ন ও প্লুত রক্তের আলিঙ্গন
অন্ধ নদীর এত কাছে
বালি, জল ও অনন্ত
অনস্তিত্ব থেকে খুঁটে ফেলছে তীক্ষ্ণ হংসধ্বনি...

.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ