নিমাই জানা/জুন'২০২২

    

গুচ্ছ কবিতা



(১) নীল ময়ূর ও স্পাইরাল বাবার মৈথুন


নীল অক্ষরের ময়ূরীরা সম্ভোগ পরবর্তী পরকীয়া আগুনের কাছে দাঁড়িয়ে আর অ্যাসপিরিন জনিত বীর্য রেনু গুলো কুরে কুরে খায় না ,
সিলিকেট দ্রবণের পাশে এক অজৈব রসায়ন থেকে উঠে আসা লাইসোজোম বাতাস এলোচুলে দাঁড়িয়ে আমাকে এখনো মৈথুন শিখিয়ে যায় , আমি কেবল বাবার মৈথুনকে পড়ে যাই প্রতিদিন
আমার বাবার শরীর থেকে অসংখ্য পেঁচানো নীল রঙের রজ্জুময় অঙ্গুরীমাল ছায়া আমার মায়ের তলপেটকে অসংখ্য রতিক্ষেত্র করে তোলে , আমরা তৃণভোজী খুঁজছিলাম
আমি অসংখ্য ধ্যানভঙ্গ শৃঙ্গ থেকে উঠে আসা এক সন্ন্যাস পুত্র , প্রতিদিন কিছু উর্বরতার আগুন খেয়ে ফেলি দৈবাৎক্রমে
মহাকাল রঙের এক ফাটিলাইজার দোকানের পাশে নীল রং প্রচ্ছায়া প্রদেশের অসংখ্য প্রতিবিম্ব হয়ে আজকাল নিজেদের পিরামিড গড়ে তুলছি ,
পিরামিডের নিচে জমা রাখা অসংখ্য কঙ্কাল থেকে সকলেই বিশুদ্ধ নারী খুঁজে বের হয় গভীর রাতে , আমার অবৈধ নারীরা সকলেই নৌকা চালাতে জানে ,
পিরামিড রঙের পোশাক থেকে তারা খন্ড-ৎ আকারের পোতাশ্রয় খুঁজে খুঁজে বের করে রক্ত তঞ্চনের পর
আজ কিছু জটিল অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কথা হোক,
  গলার দুই পাশে এক বিপদকালীন মহাদেশ হঠাৎ জেগে উঠবে

আমি শুধু নেফারতিতির কথা বলে যাবো ঘুমের ঘোরে

(২) পদাতিক সৈন্যগন
  ও সবুজ রঙের শুভদীপ



রাতের নাকাড়া শব্দের মতোই কিছু স্বরবর্ণেরা আজকাল আত্মহত্যা করার পর নিজের দীর্ঘদেহকে দশমিক আগুনে পুড়ে রাখে অ্যালুমিনিয়াম কাগজের মতো

আমি কেবল হীরকের দানা জড়িয়ে ধরি সবুজ পাতার মতো
মৃত গাছের ভেতরে কেউ রাসায়নিক ঘন্টা বাজিয়ে চলে মৃতপ্রায় ঘোড়ার কেশরের মত , একটা পাথরকুচি গাছের নিচে আমাদের প্রাচীন অস্ত্রাগার ছিল যেখানে সব পদাতিক সৈন্য বিশুদ্ধ ক্লান্ত দেহে রেখে আসে ভৌম জলে ভিজিয়ে
 
কেউ কেউ নৈসর্গিক দিকে হেঁটে যায় অতিচেতন হয়ে,
  ঈশ্বরী আমাকে কোনদিন চোখের জলের উপর নৌকা চালিয়ে ফিরে যেতে দেয়নি ওই সঙ্গম পরবর্তী প্রদেশের দিকে
একটি নীল রঙের অভিযান থেকে ফিরে আমার শুক্রাণু ব্যবচ্ছেদ ঘরের দিকে মুখ করে এক আকাশ বিপ্রতীপ কোণেরা ছায়ার পাহাড় খাচ্ছে

আমার শুভদীপকে আজও ব্যবচ্ছেদ করতে পারিনি ইউক্যারিওটিক কোষের মতো
আমি তার তিন ইঞ্চি পুরু জমাট রক্ত নালিকা থেকে একটি জয়দ্রথের ঘড়ি আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম মাত্র
অথচ শুভদীপের এখন ২৩ জোড়া ডানা গজিয়েছে বলেই কেউটে সাপের কথাই বলেছে সবাই
আসলে হলুদ ফুলেরা খুব কংক্রিট পাথর ভালোবাসে আমি নিজের ভেতরে অ্যান্থোসায়ানিনের চারা গাছ লাগিয়েছি ভেজা বারান্দায় হর্মোনাল স্পেসিমেন ছত্রাক দিয়ে
উটের মতো ছায়াছবি হয়ে বাবলা গাছের তলায় বসে আছি সবাই, নিজেকে দক্ষিণ নিলয় পোড়াবো বলে
গ্রাফাইট নারীরা ৪০ দৈর্ঘ্যের সাপ হয়ে শীতঘুম ছেড়ে বেরিয়ে এল মাইটোকনড্রিয়ার রস খাওয়ার পর
একটি মৃত মাছ একসাথে দুটো নৌকা চালাতে পারতো না শুকিয়ে যাওয়া পনসেটিয়া তলায় ,
নিরক্ষীয় যোণীর নীল নাবিক নিজের চোখে দেখছে তাদের অনন্ত সহবাসের ভৌগলিক দ্রাঘিমা

প্রহরীর মতো আমার নীল বসন পরিহিতা মৎস্যগন্ধা নারীটি এট্রোপিন সালফেট ফেলে যায় চোখের উপর , স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হয়ে যাওয়ার পর আরো একবার জেগে উঠি মৃত মাছের জিওল
  দেহে

(৩) সালফিউরাস ও রমন ক্লান্ত হাইপোথেলামাস



চেয়ে দেখো পাথর ওই কঙ্কালহীন ছায়ার কাছে আমি কতটা সমান্তরাল সালফিউরাসে কতোখানি রক্তাক্ত

বিরামহীন রমন ক্লান্ত দেহে আমি কিছু হাইপোথ্যালামাসের ভেতর থাকা হলুদ স্নায়ুকেন্দ্র ছিঁড়ে খাচ্ছি , দুধ গোলাপ জল দিয়ে
অজস্র সাইন্যাপস গুলো আমাকে কাঁকড়া বিছার মতো কামড়ে ধরে প্রতিদিন , মৃত সূক্ষ্মকোণের সফেদা গাছের মতো আমার পরকীয়া হাসছে
ক্লান্ত সৈন্য বাহিনীরা পরাজিত হয়ে ফিরে আসে আমার নিজের দেহ ঘরের ভেতর ,
চেয়ে দেখেছি প্রতিদিন নারায়ন বল নামক একটি ক্যাকটাস ফুলের গাছ শুনিয়ে যায় তার সেফোডক্সিম কথা

আমি গভীর রাতে নিজের ভেতরে থাকা ছিয়াত্তর রঙের অসুখগুলোকে গলা টিপে মারি রোজ রাতে , আর সামনে দাঁড়ানো জানালার লুকিয়ে থাকা সাপ ১/
৬ দৈর্ঘ্য দিয়েই আমার ভেতরে সাইটোকাইনিন অ্যালকোহল আবিষ্কার করে
আমি প্রতিদিন ঘোড়াদের হত্যা করার পর সুদর্শন চক্র নিয়ে নারীদের শরীর ঘুরে আসি তিনটি এভোমিন খাওয়ার পর , ডিলিটেড কম্পাস কাঁটার নিচে আমি কেবল রক্তাক্ত পাটিগণিতের প্রজননতন্ত্র জীবাশ্ম গুলো ফেলে আসি চলমান বক্ররেখার কাছে আমার পুংলিঙ্গের মত স্থবির থার্মোমিটারের পারদ গুলো খুব কম্পমান স্থির নক্ষত্রের মতো ঝরে পড়ছে শতভিষা নক্ষত্র পাশ দিয়ে ত্বরণহীন
আকাশগঙ্গার নৌকা শরীরের উপর দিয়ে মৃত মানুষেরা অক্ষর দেহ নিয়ে হেঁটে গেলেই আমি ব্রহ্মাণ্ড স্বরুপ হয়ে যাই

মণিকর্ণিকার ঘাটে নীল মথুরাপুর দাঁড়িয়ে আছে অভিসারিকার জন্য


(৪) সাইপ্রোহেপটাডিন ও কৃষ্ণ মন্ডলের জীবাশ্ম সমূহ


ছত্রাকের মতো পূর্বজন্ম নিয়ে শ্মশানঘাটে প্রতিটি রোববারে জেগে উঠি আমি অনিত্য অচৈতন্যের মতো

মাটির তলদেশে জমে থাকা কৃষ্ণ মন্ডলের অস্থি মজ্জা জুড়ে জুড়ে অসংখ্য ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক খুঁজে বেড়াই
আমি কি তবে নিজেকে পোড়াতেই ভালোবাসি বলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজের বিছানার রাখি মৃত সরীসৃপের মতো
তিনটি কমন্ডুল মাথায় রেখে অজস্র ঘোড়ারা
  উড়ে বেড়ায় একটি নিরক্ষীয় নদী বরাবর , যজ্ঞের পুরোহিতেরা বৃত্তাকার বসে বসে আমাকে মেসোপটেমিয়া করে তোলে
আমি এক শ্মশান ঘাট থেকে আমার মৃত পূর্ব জন্ম গন্ধ নিয়ে কালো কালো লিম্ফোসাইট ভেঙ্গে খাচ্ছি সাইপ্রহেপটাডিনের জলীয় দ্রবণ দিয়ে

আমার শিশুটি আমাকে একমাত্র নিরাময়ের নৌকা দেখিয়ে নিয়ে যায় অতলান্ত ছায়ার ভেতর ঢুকে , পরকীয়া দানাময় ঈশ্বর গুচ্ছ আমাকে আরো একবার নিয়ে যায় ওই শুক্র গ্রহের দিকে মুখ করে আজ একবার পিচ্ছিল হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে
কালো রঙের মেহগিনি তলায় দাঁড়িয়ে একটি প্যারাসাইট রঙের সোডিয়াম সাইট্রেট হলুদ জিবিতে রাখি প্রাচীন দৈর্ঘ্যের সমাস ও সাপের মৈথুন পরবর্তী খোলস
আমার সংসারের ভেতর একটি ক্লোরোপ্লাস্ট , তিনটি ভৌম জলের পাত্র , আর অসংখ্য মুকুটের ওপর রাখা স্তন বিভাজিকা গুলোই আমার ভেতরে আগ্নেয় পাহাড় গড়ে তোলে

মৃত অঙ্কুরোদগমের নারীটি একাই এসিব্রফিলিনের ভেতর বাদামি মোমবাতি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পার্থের মতো




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন