প্রদীপ চক্রবর্তী/জুন'২০২২

 


 গুচ্ছ কবিতা

    ইন্দ্রনাথের বাঁশি 

  

লেবুপাতা দিয়ে তৈরী ইন্দ্রনাথের বাঁশি ,

ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে আসছে অবাঙ বনের  গুণপনায়  

 

নীল গ্রীবা তুলে মেয়েটির টোল পড়ে গালে 

অন্ধকার সুরের ওঠানামায় 

লজ্জাসন্ধি ফুটলো ...

 

মিতবাক সূক্ষ্ম শরীর নিঃশব্দে বেরিয়ে 

পাখিদের খোঁজে 

দিলচোর গুনগুন গঞ্জ 

বাঁশির ফুরন্ত এঁটোকাঁটা মিশে যায় মেঘের গায়ে 

 

বৃষ্টির গন্ধে 

বীজধান রুইতে রুইতে দুধ আসে মালতির বুকে 

 

যেদিন ইন্দ্রনাথ অস্থির কোনও সুরের  মেরামতকারী 

দূরে বৃষ্টি , শহরতলীর ওই আঁধিয়ারে 

 

হত্যাকারী ফিরে গেছে সাদা ঘোড়ার দলে 

নদীর শরীর থেকে জলের কুহকী এক বাড়ি 

মাথা তুলছে একটু একটু 

পোড়োবাড়ির ভিজে গন্ধ নিয়ে ...

 

 

পাখিদের ঢেউ 


বৃষ্টি ছোঁয়া আর রূপান্তরের মাঝে 

বিজলিলতার বিছানা ,

লিলিপুলে ছড়িয়ে নামলো  সন্ধ্যা 

 

ল্যামার্ক ম্যালথাস ডারউইন অথবা দলে দলে 

ছায়া নেমে এসেছিলো সেই বারো ভূঁইয়ার দেশে ,

নি:স্বন নিষিক্ত আলোছায়ায় 

 

এই লৌকিক জীবনের ভেতর 

সূতিকাগারে স্বপ্ন প্রসব করে অলৌকিক ঘুম , 

ঘুমে যেভাবে পেয়েছি 

বাংলাপ্রদেশের মেগাফোন কোম্পানির বাইজি 

গহরজানকে , তার গান আবছায়া নীল কুয়াশা 

 

মেঘভাঙা বৃষ্টি ধুয়ে দেয় কলঙ্কপত্রের সারি সারি নৌকো। আলাপনে মধুবনী ছায়া। রক্তঅভুক্তের উত্তরবাহিনী নদী পেরিয়ে চলো সাঙাত , বজ্র চক্র বাঙ্কার ভূমি তুঙ্গশিখর পেরিয়ে ক্রিয়াহীন পাখির অসীম রুহিনায়। রক্তে জমাট বাঁধে , রক্ত পড়ে পড়ে যায় পথে। দুজন আস্ত ও অটুট রাখে গান। গানের ঈষৎ সহমৃত্যুর অলিন্দে ভাসে মেঘ ময়ূরী ...

 

 

নকশাল 

 

রাতের আলো কোথায় এসে থেমেছে। আর কী নিয়ে যেন একটু আধটু রঙ্গ হচ্ছে। খুব আস্তে , তমসানিন্দিত জেনেও , কান পেতে নিজস্ব চলায় চলেছি। ওদের হাসির শব্দ টংঘরে নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রমাণের অভাববসত অনায়াসেই একটা রঙিন বিন্দু থেকে অনুবাদ হতে থাকে 

 

দেখছি , পলাশের লালফুল একধরণের একরতি পাথরবোতাম। জ্বলছে মালবিকাপুর ও ভোরবেলাকার বাড়ি। জ্বলছে নষ্টনীড়ের কদমছাঁটি পহেলবান 

 

নীল বিষাদিয়া নিষাদ। শবডহরের বুনো ডোম। জ্বলছে বিষমোতির ঝরোকা। আহির ভৈরবী ভূষা । অলীক শমশীর। বুন্দ  বুন্দ আঁধিয়ারে হাড়মাস নলিরক্ত ছিঁড়ে ভেঙে যাচ্ছে শমশীর 

 

সাদাকালো ছবিতেও  ভেঙে যাচ্ছে পলাশ । শরীরের সাংঘাতিক ঈশান বেয়ে , হ্রদের কিনারা ঘেঁষে , নেমে যাচ্ছে একটা কালো গাড়ি , কালো রোদ চশমা ۔۔۔

পলাশ ,গাছ হয়ে ছড়িয়েছিলো বহুদূর ...

  

 

২টি মন্তব্য:

  1. ৩ টি হীরকখণ্ড। কী অসামান্য সংকেত ! এ- কবিতা বঙ্গ-সরস্বতীর ভূষণ হয়ে থাকবে।
    আশিস রইল।

    উত্তরমুছুন