রবিন বণিক

 



গুচ্ছ কবিতা

বারান্দা


 

অতঃপর শরীরে কোনো বারান্দা রাখে নি কেউ

যতিচিহ্ন বেয়ে  নেমে গেছে কাঁচা ফুটপাত

 

রেলিঙে ঝুঁকে উল্টোপাহাড়ে ধ্বনি ছুঁড়ে দেওয়া

ভঙ্গিমা ভাল লাগে আজকাল

একদন্ড ব’সে তোমার দিকে শান্তিতে  ছুঁড়ে দেব

বৃষ্টিপাত, তারও জো নেই

কারণ শরীরে কোনো বারান্দা রাখেনি কেউ

 

আসলে বারান্দা একপ্রকার কবিতার দৃশ্যরূপ 

যতবার বসবেন ততবার দৃশ্য এগিয়ে  এসে

জিজ্ঞেস করবে চিনি বর্জিত না চিনি প্রদত্ত




দখলের গল্প




একে একে ক্রমশ ঢুকে গেলাম চরিত্রে, আড়ালে–

একে অন্যের দিকে ইশারায় সাজিয়ে নিলাম গল্প

প্রকৃত গল্পের মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে নিলাম ঘিলু

একদিন গল্পকারকে হত্যা ক’রে সাজিয়ে নিলাম

পছন্দমতো মাঠ, মাঠের চারধারে মেহগনির অবয়ব

গল্পকারের রক্ত মুছতে মুছতে একদিন গিলে ফেললাম  সাম্রাজ্য দখলের গল্প



আমরা সাহিত্যের বিরুদ্ধে না

আমরা ইতিহাসের বিরুদ্ধে না

আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে না



শুধু বলতে চেয়েছি 

ঈশ্বরের বিরুদ্ধে,  গল্পকারের বিরুদ্ধে

আমরা গায়ে মাখতে চেয়েছি সমগ্র হরিণের রং–




চক্রান্ত




চক্রান্তেরও নিজস্ব একটা শরীর আছে

চোখ, কান, নাক, হাত, পা

আর হত্যার মতো চমৎকার দুটি ঠোঁট 

যেমন অবহেলার একটা  শীর্ণ হৃৎপিন্ড



ঠোঁটে সায়ানাইড মেখে চুম্বন করার আগে

একবার ভেবে নেওয়া দরকার

চক্রান্তেরও একটা নিজস্ব সাম্রাজ্য আছে, নদী আছে, বাঁধের উপর একশো পরিবার আছে

জলের ভেতর চলমান একটা পৃথিবী–



এতো কিছুর পরেও  একের পর এক  দখল করে নিচ্ছ পৃথিবীর সমস্ত অবহেলা–







 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন