প্রেমাংশু শ্রাবণ কবির

 

গুচ্ছ  কবিতা

বসন্তের জন্মবৃত্তান্ত 


চোরাকারবারি ও সীমান্ত প্রহরীর

খেলা ড্র হলে

উদ্বাস্তুুরা সীমান্ত লঙ্ঘন করে,

 

আমাদের ভালোবাসা হিমবাহু ছুঁলে

শীত নামে---

ভাঁটি-বাংলায়

এপারে ওপারে....

 

ঝরাপাতায় লেখা থাকে শব--

এক একটি বসন্তের জন্মবৃত্তান্ত! 

 

মেরিলিন মনরো


তোমার উড়িয়ে দেওয়া চুম্বনগুলো

কুড়িয়ে নিতে

হামলে পড়াদের ভিড়ে 

কোনদিন আমি কি ছিলাম?

 

আমিতো ছিলাম 

চিরকাল যেখানে ছায়া আর অন্ধকার.... 

একাকার....

সেখানে ছিমছাম -চুপচাপ দাঁড়িয়ে। 

 

পকেটে দু'হাত গুঁজে যে মুখ 

এঁকেছি তোমার 

সেখানে ভিড় নেই,

কোলাহল নেই ---

নেই কোনো পার্শ্বচরিত্র। 

সবটুকু মুখস্থ রেখেও 

কেনো তবু বারবার বাজারেই

বিকোতে চাও 

আমার এই একান্ত একাকিনী 

হীনমন্য সংসার!

 

 রুপকথা 


দরজা বন্ধ থাক

জানালা দিয়ে ঠিক বেরিয়ে পড়বো।

 

এই গোপন রুপকথা

কেউ জানবে না,

 

নতুন এক আকাশ মেঘ

সাজিয়ে অপেক্ষায়!

চলো ভিজি

ধুয়ে ফেলি সমস্ত বিষন্নতা! 

 

৪ 

জলজগন্ধ


ডাঙাটুকু ডুবে গেলে

আমিও হাঁসের মত সাঁতরে পার হয়ে যাবো

বানভাসি নদী

পালকে তুলে নেবো

ছিটেফোঁটা জলজগন্ধ।

 

ক্ষুধা ও শস্যের ভাষা

এক হয়ে গেলে

একদিন অঘ্রাহণের রাতে

নক্ষত্র ভরা আকাশ 

নামতে দেখবো

আমাদের পোড়াবাড়ির আঙিনায়!

 

আজকের কবিতা


ফুসে উঠেছে রোদ্দুর 

তবু আজ তোমাকে ঘিরেই ছিলো

তোমার সম্পূর্ণ সকাল। 

 

আর সেই হিরা-ধাই

নিজে থেকে এসে 

প্রসূতিপাড়ায় খবর দিয়ে গেছে 

দুু'প্রহর জামিরের রঙ---

 

তুমি কি রঙ্গন পাতা 

এভাবে তিরতির কাঁপো?

 

গতকালকের কবিতা


গতকাল 

অবিরাম বৃষ্টি ঝরে গেছে

 

একা করে গেছে

বাগানের ফুল ফল

মালি আর

মূলত তোমাকে

 

জানালায় যথারীতি লোহার গরাদ

তারপরও ডেকেছে তোমাকে

 

হাতে হাতে ডেকে গেছে

এই সকালের গাছ

মুখে মুখে ডেকে গেছে

ওই দুপুরের পাখি।