অনুপ মণ্ডল

 


গুচ্ছ কবিতা


পাখিবৃত্ত 


 

ডানার ক্লান্তি ভেঙে একটা করে পাথর খসে পড়ছে

কোনওটা রঙিন;কোনওটা রোদ্দুর

মেঘ রঙের পাথরও আছে;কিছুটা অন‍্যবিকেল

পাখির ওমরৈখিক তল বরাবর পাথর কুড়োতেকুড়োতে

যেখানে গিয়ে আমরা মিলিত হলাম,দেখি

তার অনেক আগেই পাখি ছায়া হয়ে গেছে

ছায়ার বক্রতা নির্দেশ করছে পরবর্তী প্রজনন

 

জ‍্যামিতিক উড্ডয়ন সমাপ্ত হলে

এভাবেই একদিন সব পক্ষীবোধ ছায়া হয়ে যায়

ছায়ার মধ‍্যে জল ছায়ার মধ‍্যে থল

ছায়া পড়ন্ত বিকেল;শেষ বিকেলের ওপড়ানো ঘুড়ি

 

দুপুরে অভিভূত বেবাক জানালা। অবিভক্ত দরজায়

চাপা পড়ে গেছে উড্ডয়নের ক্ষমতায়ন

ছুতো খুঁজে পেয়ে জল সাঁতরে উঠছে ডাঙায়

মাঝিহীন ডাঙা চিৎ সাঁতারে পার হচ্ছে জলের বিদেশ

 

 

                     ফুসমন্তর 

 

চকখড়ি দিয়ে জানালা এঁকেছিলাম। দেয়ালে;অনেক

এবার একটা আস্ত দরজা এঁকে ফেললাম

 

ফুসমন্তর; খুলে গেল

 

সাঁকো ভেঙে পড়ার দুঃখ এক পাশে অন‍্য পাশে

পরিত‍্যক্ত বাসা;বিন্দু বিন্দু মোম ও দু'একটা কুটো

আলোআঁধারি ভাষায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বপ্নগুলো

ততক্ষণে আমি দেখে ফেলেছি

মরুভূমি পেরিয়ে গেল

গলায় মাফলার বাঁধা একটা নকল জিরাফ

 

জন্মমাস জ্বলছে। ঘামে আমার ঐশ্বরিক সুবাস

বেঁটে হয়ে আসছে জন্মগাছ। বারংবার লেহনকারী

একটা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের সঙ্গে আমার কথা হল

ভেতরের জানালা খুলে

আমার হেঁটে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে

ঋতুবিহীন আগ্নেয়গিরি ও একটা শীতল জলের হ্রদ

 

 

              নিবেদিতা টেলারিং

 

আজ তোমার চুলবাঁধাটা অনেকটাই যথাযথ

শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ম‍্যাচিংটাও

শুধু ব্লাউজের গলাটা আর কতখানি নামিয়ে আনলে

নিবেদিতা টেলারিংএর দিদিমণি

এই সন্ধ‍্যায় কিছুটা অসামাজিক হতে পারতেন

ক‍্যালকুলেটর তা' মান‍্য করছে না

বিকেলের ম্লান আলো

তোমার ছলছল চোখদুটোতে বৈঠা নামিয়ে দিয়েছে

সারা রাতের জার্নি আজ

টিপটা কপালের ঠিক মাঝখানে না বসিয়ে

তাকে আজ তুমি

জোড়া ইশারার বাঁকে নামিয়ে এনেছ কিছুটা

 

আগুনের জন্মকথায়

নতুন কোনও বিশ্বাসের জন্ম হয় না

ডিম্বানুতে প্রতিষ্ঠিত

তুমি একজন নারী জটিল ও ভাঙাচোরা বিষাদ মাত্র