অমিত সরকার

 গুচ্ছ কবিতা


নষ্ট কাগজকুচিদের ডেবিট ক্রেডিট  

 

দুহাতে সুস্থির বাড়িয়ে গুছিয়ে বসল অন্ধকার

প্রেমচোখে চেয়ে আছে রাতকানা জল

ক্ষয়াটে খর্বুটে মেয়ে তুই    

ভালো করে মাসিকও হয় না

বেঁচে থাকিস হিংসে খেয়ে  

মেরে তোকে শুইয়ে রাখব চোখের পাতায় 

আলপিনগুচ্ছ গেঁথে দেব নখে আর বোঁটার ওপরে 

পিঠভর্তি চাবুকের নীল ভালোবাসা    

তবে যদি সিধে হোস

নদীও জঙ্গলের পছন্দমত হোস      

ভেবেছিলি অজ্ঞাতবাসের দিন শেষ হল আজ

 

ফের কেন ফেরত এলি তুলো আর ব্যান্ডেজের দেশে 

ধারালো এয়ারোড্রোম পড়ে ছিল একা

লাল রবারের বল ড্রপ খাচ্ছিল লম্বা করিডোরে  

গান্ধর্ব বিবাহ নিয়ে পড়ে ছিল তাড়াহুড়োর টিউনিক     

সুগঠিত ইচ্ছেগুলো পড়ে ছিল ছেঁড়া ছেঁড়া

আসলে নৌকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে মাঝি

ভাঙা হরফের ফুলকি জ্বলে উঠছে পাঠলুপ্ত পুঁথির পাতায় 

অগুরু চন্দনের আল্পনাও পুড়তে পুড়তে      

কার্বনের কালো দাগ লেগে যাচ্ছে  

দুজনের হাড়ের সাদায়...   

 

 

তুমুল ঘৃণায় চেয়ে আছে রক্তাক্ত ঘুড়িরা

ওরা আমাদের কেউ নয়  

আয়নারা ওদের চিনতো পাঁচহাজার বছরেরও আগে

যেইখানে নোনা পাঁচিলের গায়ে   

একদিন থেঁতলে দিয়েছিলাম তোর মাথা 

সেখানেই নিঃস্পন্দ ছত্রাক  

আজ চেয়ে আছে ঠোঁট ফাঁক করে

দেওয়ালের বুক চিরে উঠে আসছে 

পুরোনো নিঃশ্বাসের সাঁই সাঁই     

সেই শুধু আমাদের চেনা পাতের কোনায় নুন 

জলের গেলাস, কিম্বা কাছের মানুষ...       

 

জ্বলন্ত উনুন থেকে একমুঠো কয়লা তুলে নিলাম

এইবার আদর করে খাইয়ে দেব তোকে 

হন্যে হয়ে দৌড়োব পিছনে পিছনে 

মরা শ্যাওলাদের স্বপ্ন

ঘুরতে ঘুরতে উঠে যাবে তারাদের দিকে

সেইদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দু-চার ফোঁটা কষ্টজল

সেইদিকে নৈঃশব্দ্য জিরোচ্ছে এখন     

ত্রিভুজ ও বর্গক্ষেত্ররা উঠে আসছে পায়েসের বদলে     

বলেছি না, আমি তোর আসলে কেউ নই  

শুধুই রোদের গায়ে হেলান দেওয়া জানলা 

ভাবলেশহীন তাকিয়ে আছি ছাইচাপা আগুনের দিকে       

 

রোজ কেন ফিরে আসিস জামাখোলা আলো

উভচর অন্ধকার পেরোতে পেরোতে

কামড়ে খাওয়া মেঘ ঝুঁকে থাকে খাঁজে   

ভারী বুক খুব পছন্দ আমার   

তোর সেরকম নয়, কিছুটা উদগ্রীব 

ঢিলে রোদে দেখাশোনা করে কোচিঙের ক্লাস   

আমি কেমিস্ট্রির নোটের মধ্যে দিয়ে দেখি      

অবহেলার তেতো কাগজকুচি  

ফসলের গান হয়ে ঝরে পড়ছে ব্যালকনি জুড়ে     

স্কুলব্যাগ খুলে পড়ছে ডানা থেকে 

আর কালো পিউপাদের সারি

একের পর এক ঝুলে রয়েছে

আমাদের মৃত করোটির ভেতরে  

 

কখন সকাল আসবে ?  

ফজরের আজান পেরিয়ে হেঁটে আসছে লাইফবোট

পেরিস্কোপ অনেক বছর শুয়ে জলের তলায়  

সেই যে জাহাজডুবির কথা বেরিয়েছিল কাগজে  

তারপর থেকে আর ঋতুপরিবর্তন হল না

মেয়েমাছেরা ক্লোরোফিল মেখে মেখে আরও যুবতী

ভেবে দ্যাখ, কীরকম কুচুটে, হ্যাংলাটে তুই  

একা একা ডুবে গেছিস সোনাঝুরি গ্রামে   

আমি মীরাদির জানলার পাশে কাল থেকে শুয়ে আছি    

আর উষ্ণ সমুদ্রস্রোত বয়ে যাচ্ছে আমার ওপর দিয়ে...   

 

 

তাহলে কথা রইলো  

আমি ঘুমিয়ে পড়লে তুই শেষবার জেগে উঠবি    

আর একবার লাভা, ছাই, গন্ধক দিয়ে   

তুমুল হোলিখেলা হবে আমাদের    

এক একটা রঙ বুকে নিয়ে উড়ে যাবে

স্ক্যাপুলা, পেলভিস, মাইটোকন্ড্রিয়ারা  

অসম্ভব নরম একটা কোমলগান্ধার নেমে আসবে

আমার স্ট্রাইপ শার্ট, আর তোর নেভি-ব্লু স্কার্টের ধোঁয়ার    

হিমোগ্লোবিন মাখতে মাখতে  

পরস্পরের কাছাকাছি সরে আসবে সব টেকটনিক প্লেট   

 

তারপর নষ্টতা ও কাগজকুচিদের ডেবিট ক্রেডিট নিয়ে   

ফের ঝগড়াঝাঁটি শুরু আবার হাজার বছর পরে...