মনিভা সাধু

ভয়

"ভয় পেয়োনা,ভয় পেয়োনা,তোমায় আমি মারবো না"সুকুমার রায়ের এই কবিতার সাথে আমরা পরিচিত।"ভয়"এই ছোট্ট শব্দটির বিস্তার কিন্তু বিশাল।ভয় জীবজগতের এক স্বাভাবিক অনুভূতি। ভয় পায়নি এমন মানুষ মেলাই ভার।স্বাভাবিক শিশুর বয়েস যখন ছ'সাত মাস তখন থেকেই সে ভয়ের অভিব্যক্তি দেখায়।ভয় মূলত নিরাপত্তাহীনতা থেকেই জন্ম নেয়।বয়েসের পরিণতির সাথে সাথে ভয়ের ধরণও বদলে যায়।ভয় আসলে বাস্তব আর আশা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যেকার ফাঁক থেকে জন্ম নেয়।অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আর সেই অনিশ্চয়তায় আমাদের স্থান সম্পর্কে আমাদের ধারণার অস্পষ্টতা থেকেই জন্ম নেয় ভয়।

     ভয় আমাদের জিনের একটা অংশ হয়ে গিয়েছে বহুবছরের অভিযোজনের ফলে।এই পৃথিবীতে অন্যান্য জন্তুজানোয়ারের থেকে তীক্ষ্ণ- নখ-দন্তহীন আদিম মানুষের বেঁচে থাকা অনেক কঠিন ছিল। মূলত মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর করেই মানুষকে নিরন্তর জীবনসংগ্রামে আপন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়েছে।থ্যালামাসের হাই রোড,লো রোডের উৎপত্তিও এভাবেই। ভয়কে বুদ্ধি দিয়ে জয় করেই মানুষ আজ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব।

ভয় পরিমাপের নির্দিষ্ট কোন যন্ত্র নেই। মানসিক গঠন এবং নিজস্ব শিক্ষার ওপর ভয়ের মাপ অনেকটাই নির্ভর করে।তবে ভয় পাওয়ার নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। আমরা যখন ভীতিপ্রদ কিছু দেখি,শুনি বা চিন্তা করি তখন আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশ"এমিগডালা"কাজ করতে শুরু করে, "এমিগডালা" এক ধরণের হরমোন আমাদের সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয় যার ফলে আমাদের "শর্ট টাইম মেমোরি" মুছে গিয়ে শরীরে এক ভয়ের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে,আমরা ভয় পাই। চোখ, কান,নাক দ্রুত চারপাশের পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মস্তিষ্কের থ্যালামাসে জানায়, থ্যালামাসের কাজ অনেকটা রিসিভিং স্টেশনের মতো, সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই থ্যালামাস দুটো রাস্তা দিয়ে সেই খবর মস্তিষ্কের আরো গভীরে পাঠায়,হাইরোড যায় মস্তিষ্কের কর্টেক্সে আর লো রোড যায় মস্তিষ্কের এমিগডালায়।এমিগডালা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসেও খবর পাঠায়। হাইপোথ্যালামাস যেহেতু আমাদের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, এরপরেই শরীরে পরিবর্তন শুরু হয়।সংকেত পৌঁছায় আড্রেনাল গ্ল্যান্ডে।রক্তে মেশে আড্রিনালিন আর কর্টিসোল হরমোন।এদের প্রভাবে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন "ফাইট অর ফ্লাইট " "লড়ো অথবা ভাগো"। এইসময় হৃদপিন্ডের রক্তচলাচল বেড়ে যায়।রক্তচলাচল বেড়ে যাওয়ার কারণে সেটা অভিকর্ষের ফলে আমাদের সর্বাঙ্গে সমানভাবে না ছড়িয়ে নিচের দিকে অর্থাৎ পায়ের দিকে বেশি ছড়িয়ে পড়ে,নিজের অজান্তেই পা পিছু হটে। হৃৎপিন্ডের রক্তচাপ পায়ের দিকে বেশি হওয়ায় ভয়ে মুখ "সাদা"বা "ফ্যাকাশে"হয়ে যায়।

"শর্ট টাইম মেমোরি"মুছে যাওয়ার ফলে ভীত মানুষ সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেনা।ভয় শারীরিক, মানসিক উভয় পরিবর্তন আনে।শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে মাথা ব্যথা,চোখে ঝাপসা দেখা,গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া,কাঁপুনি,বুক ধড়ফড় করা, মুখ শুকিয়ে আসা,শ্বাসকষ্ট,হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া ইত্যাদি।অনেক সময় ব্রেনস্ট্রোকও হতে পারে।মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে মনোযোগের অভাব, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিশ্চয়তার আশঙ্কা,মৃত্যুভয়, স্মরণশক্তি হ্রাস,অস্থিরতা,অকারণ বিরক্তবোধ ইত্যাদি।

১৯৭৭সালে বিজ্ঞানী রাচম্যান ভয় পাওয়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন। ১.ডাইরেক্ট কন্ডিশনিং- কেউ যদি সরাসরি কোন ভীতিকর অবস্থায় পড়ে। ২.ভিকারিয়াস ইকুইজিশন-- ভীতিকর ঘটনা প্রত্যক্ষ করা বা কাউকে ভীতিপ্রদ আচরণ করতে দেখা।৩.ইনফরমেশনাল এন্ড ইন্সট্রাকশনাল পাথওয়ে---কোন বিষয়ে ভীতিজনক তথ্য শুনে বা দেখে ভয় পাওয়া।

  ভয় যে কত ধরণের হতে পারে তার ইয়ত্তা নেই-- রোগ ভয়,লোক ভয়,বার্ধক্যের ভয়, প্রিয়জন বিচ্ছেদের ভয়,নিরাপত্তার ভয়, ব্যর্থতার ভয়,দারিদ্রের ভয়,পোকামাকড়ের ভয়,ভুতের ভয়, মৃত্যুভয়,প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়,জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার ভয়, উচ্চতার ভয়,কোলাহলের ভয়,আগুনের ভয়,আয়নার ভয়,কাগজের ভয়,অন্ধকারে ভয়,সূর্যালোকে ভয় ইত্যাদি। 

ভয় কারণেও হতে পারে,অকারণেও হতে পারে।ভয় সংক্রামকও বটে।অনেক ভয়ের প্রকৃত ও বাস্তব কারণ থাকে আবার অনেক ভয় মিথ্যে,অবাস্তব কোন ধারণা বা বিশ্বাস থেকে জন্মায়।ভয়ের পেছনে শৈশবের অভিজ্ঞতা,পারিবারিক,সামাজিক শিক্ষার বিরাট ভূমিকা আছে।ভয় যখন মানসিক রোগের পর্যায়ে চলে যায় তখনই তাকে "ফোবিয়া"বা অবাস্তব ভয় বলে। মনোবিজ্ঞানীরা অহেতুক ভয়ের পেছনে বংশগতির প্রভাবকেও অস্বীকার করেন না।

নেতিবাচক চিন্তা ভয়কে কাছে ডাকে, সারাজীবন তার পেছনে তাড়া করে বেড়ায়। ভয়ের অবস্থান কিন্তু সচেতন মনে।ভয় কখনো গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের আলো সহ্য করতে পারেনা।ভয় হচ্ছে অন্ধকারের কীট,জীবনের সব সমস্যার মূলে হচ্ছে এই অহেতুক ভয়।ভয়কে মনের গহীন থেকে তুলে জ্ঞানালোকের সামনে দাঁড় করাতে হয়।ভয়কে অবহেলা করলে ভয় জয় করা যায়।প্রাণায়াম,ধ্যান মনোবল বাড়ায়,ভয় তাড়ায়।সুস্থ কাজে নিয়োজিত থাকা,প্রিয়জনের সাথে মনখুলে কথা বলা, যে নেশা মনকে সুস্থ আনন্দ দেয়,যেমন বইপড়া,গানশোনা,প্রকৃতির কাছে থাকা, নিজেকে ভালোবাসা, পরোপকার করা, নিজের কাছে সৎ থাকা,সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ পরিহার করা, সর্বোপরি ভয়কে মোকাবিলা করার চেষ্টা করলেই ভয় দূর হয়।যারা ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেনা তারাই জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়।ভয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ভয় পালায় নতুবা ভয় তার মাথায় চেপে বসে।যেদিন আমরা মনেপ্রাণে "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য,উচ্চ যেথা শির,জ্ঞান যেথা মুক্ত,গৃহের প্রাচীর আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী,বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি--"হতে পারবো সেদিনই ভয়মুক্ত হতে পারবো।

ইতিহাস আমাদের জানায় পৃথিবীর বহু খ্যাত মানুষই নানারকম অদ্ভুত ভয় বা "ফোবিয়া"য় আক্রান্ত।

"স্পীড"খ্যাত অভিনেতা ক্যেনুর কন্যাসন্তান জন্মের আঠেরো মাসের মাথায় গাড়ি দুর্ঘটনায় তার প্রিয়বান্ধবীর মৃত্যুর পরে ক্যেনু Nyctophobia/Scotophobia তে অর্থাৎ  fear of darknessএ আক্রান্ত হন।অগাস্টাস সিজারের মতো পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনারও fear of thunder and lightning অর্থাৎ Astrophobia বা Brontophobia রয়েছে। জনি ডিপের মতো তুখোড় অভিনেতার রয়েছে Coulrophobia, যাকে বলে  fear of clowns. জোকারের মুখোশের ভয় থেকে বাঁচতে তার আশেপাশে Clown Paraphernalia রাখতে হয়।ডেভিড বেকহ্যামের Alaxophobia  আছে,যেকোন অগোছালো,নোংরা পরিবেশেই তার অকারণ ভয়।সিনেমাজগতে উডি আলানের ভূমিকা আকাশছোঁয়া,তারও Panophobia রয়েছে। উচ্চতা থেকে শুরু করে বদ্ধজায়গা, পোকামাকড়, উজ্জ্বল রঙ,লিফটে চড়া সবেতেই তার ভয়। এইজন্য তাকে চল্লিশ বছর ধরে সাইকোএনালিসিসের ওপর থাকতে হয়! নিকোলে  কিডম্যানের Mottephobia, Lepidopterphobia  রয়েছে,অর্থাৎ তার মথ ও প্রজাপতিতে ভয়!আলফ্রেড হিচকক সারাজীবন ভয়ের সিনেমা তৈরি করে মানুষকে ভয় দেখালেও নিজের ভয় ছিল ডিমে! তার Ovophobia ছিল।সারাজীবনে ডিম ছুঁয়েই দেখেনি, খাওয়াতো দূরের কথা।অপেরা উইনফ্রের মতো অনন্যা নারীর Chiclephobia রয়েছে।ছোটবেলায় তার দিদিমা চুইংগাম চিবিয়ে ক্যাবিনেটে আটকে রাখতেন,সেই থেকেই তার এই ফোবিয়া।আইফেল টাওয়ারের স্থপতি গুস্তাফো আইফেলের ভয় ছিল উচ্চতায়,তার Acrophobia ছিল।আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের Taphephobia ছিল।তার নির্দেশ ছিল মৃত্যুর পরে দুদিন দেখে তার মৃত্যু সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে তবেই যেন তাকে কবর দেওয়া হয়।আমেরিকার চৌত্রিশতম প্রেসিডেন্ট  রিচার্ড নিক্সনের  Nosocomephobia ছিল,অর্থাৎ তার হাসপাতাল ভীতি ছিল। নিউরোলজিস্ট,সাইকোলজিস্ট সিগমুড ফ্রয়েডের ভয় ছিল অস্ত্রে এবং ফার্ণ উদ্ভিদে।বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন বিলি বব থর্ন্টনের coulrophobia ছাড়াও Chromophobia   রয়েছে,অর্থাৎ উজ্জ্বল বর্ণ দেখলে তার ভয় লাগে,আবার পুরনোদিনের আসবাবপত্রেও তার ভীতি আছে। পদার্থবিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা Germaphobiaতে আক্রান্ত থাকায় ঘনঘন নিজের হাত ধুতেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসী নেপোলিয়ন,জুলিয়াস সিজার, মুসোলিনি,হিটলার বাস্তবে বেড়ালকে ভয় পেয়ে Ailurophobiaতে আক্রান্ত ছিলেন। ইতিহাস কুখ্যাত নৃশংস চেঙ্গিস খান ভয় পেতেন তিনটি জিনিসে-- তার মা,স্ত্রী আর কুকুরে!!রাশিয়ার জার পিটার দ্য গ্রেটের ভয় ছিল আরশোলায়,মুয়াম্মার গদ্দাফির ভয় ছিল উচ্চতা আর সমুদ্রের উপর দিয়ে দীর্ঘকালীন বিমান ভ্রমণ নিয়ে।উত্তর কোরিয়ার শাসক কিল জং ইল ১৯৭৬ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ফলে তার বিমানভীতি জন্মায়।মিকমাউসের স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনি ইঁদুরে ভয় পেতেন,পামেলা আন্ডারসনের আয়নায় ভয়, ড্রাকুলা-চরিত্রাভিনেতা বেলা লুগোসি হেমাটোফোভিয়ায় অর্থাৎ রক্তে ভয় পেতেন।স্টিফেন স্পিলবার্গের "এন্টোমোফোবিয়া" অর্থাৎ কীটপতঙ্গে ভয়। সারাক্ষণ মোবাইলফোন সঙ্গে রাখলে জানতে হবে সেই মানুষটি "নমোফোবিয়া"য় আক্রান্ত।আবার যে চাঁদ কবিদের মনোজগতে কাব্যপ্রেম জাগায় সেই চাঁদকে ভয় পেয়ে অনেকেই "সেলেনোফবিয়া"য় আক্রান্ত হয়।পৃথিবীর সব মানুষই "জেরাস্কোফোবিয়া"য় আক্রান্ত  অর্থাৎ বৃদ্ধ হতে ভয় পায়।

তবে পৃথিবীতে সবচেয়ে সাংঘাতিক ভয় "ধর্মভয়"।সারা পৃথিবী আজ ধর্মোন্মাদের কবলে।সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে তথাকথিত  "ধর্ম"র হাত ধরে ক্রুর রাজনীতি তার ক্ষমতার বিস্তার চাইছে।সাধারণ মানুষ বিচারবুদ্ধি হারিয়ে সহজেই এতে প্রলোভিত হয়ে পড়ছে।আমরা এখন ভয়ের পৃথিবীতে বাস করি।ভয় এখন মহামারী। আইনশৃঙ্খলাহীন সমাজে দলতান্ত্রিকের দাসত্ব না করলেই অস্তিত্ব বিপন্ন।শিশুই যদি জাতির ভবিষ্যৎ হয় তবে জন্মের পর থেকেই ধর্মের নামে ভয় দেখিয়ে তাদের মগজধোলাই না করে যুক্তির আলোকে বিচার করতে শেখানো হয়না কেন? জ্ঞানার্জনের অসীম সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করা হয় ধর্মীয় নিষেধের সীমানা টেনে।

সাম্প্রতিককালে " করোনা" ভাইরাসের ভয়ে  মানুষ নাজেহাল।

ভয় এবং ভয়ের কারণ থাকলেও তা দূর করার উপায়ও থাকবে।অভিভাবকরা নির্ভীক,মুক্তমনা না হলে সন্তান কিভাবে ভয়ের মুখোমুখি লড়াই করবে?যদি প্রভুত্ব করতে হয় তবে ভয় দেখানোই সবচেয়ে সহজ পথ।আর ভয়ের পথ সুস্থ,স্বাভাবিক পথ কখনোই হতে পারেনা।ভীত মানুষ নিজস্ব মতপ্রকাশ করতে পারেনা।ক্রমাগত ভয় আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়, অন্তর্দৃষ্টি রুদ্ধ করে, মানসিকভাবে একা করে দেয়।ভীতু মানুষ অতীতে বা ভবিষ্যতে বাস করে,বর্তমানে নয়।ভয় মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে।ভীতুমানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।একাধিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে ভয়ের কারণে গত এক দশকে একাধিক মানসিক রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

আসলে আমাদের অধিকাংশের জীবনে ভয় হচ্ছে ভবিষ্যতের কাল্পনিক বিপদ নিয়ে। আগামীকালের চিন্তায় বর্তমান নষ্ট হয়ে যায়।বর্তমানে বাঁচলে ভবিষ্যৎও বাঁচবে। জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানের সময়টাই জীবন আর এই জীবনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, ভুলভ্রান্তি থাকবেই ভয় না পেয়ে ব্যর্থমনোরথ না হয়ে এগিয়ে চলারই অপর নাম জীবন। কবিগুরুর কথায় সুর মিলিয়ে আমরাও যেন বলতে পারি "নাই নাই ভয়, হবে হবেই জয়, খুলে যাবে এই দ্বার।"