দেবযানী বসু

 




অ-কোমল ধৈবত -- ৩

লাশকাটা ঘরের চাঁদ তার উদয় ও অস্তের খবর জানায় না। জীবন্ত অবহেলার এককমাত্রায় দাঁড়িয়ে আমি। সঙ্গমরত গ্ৰহের ছবিচিহ্নে দাঁড়িয়ে আমি। মাতব্বর আগ্নেয়গিরির শূন্য আঁকড়ে ছুটছি পিছনে ছন উড়ানোর খেলা। মনখারাপগুলো বিপদসীমা পেরিয়ে চলে গেছে। কাবু হয়ে পড়ছে রুমাল।

ঝনঝনে রেলস্টেশন মেডুলায়। চোখের বাইরে কোকিল
  একঘেয়ে পেয়ারা খেয়ে যায়। নন্দিনী জোয়ার্দারকে খুঁজে পাই ভূতভৌতিক উৎসবে। কিভাবে যেন সে বেঁচে উঠেছে প্রীতম জোয়ার্দারের ডিগবাজি খাওয়া আঙুলে বুড়ো আংলার প্রাণ নিয়ে। মৃত্যুর কানে মন্ত্র ঢালে। পঞ্চভূতের বমি থেকে পায়ু থেকে অকেলাপন।

পায়ু যা ঐশিক মহিমায় কেঁদে উঠতে চেয়েছেন।
আসলে উষ্ণস্রোতের আঘাতে মাছের ঠান্ডা রক্ত ক্রমশ গভীরতম উত্তরে চলে যায়। আপদ বনে যাওয়া আপেল
স্বয়ংক্রিয়তায় বোঁজা চোখ
এরপর সিসিটিভি জন্ম হয় তার
শুকতারার প্রতিসরণ সুরঙ্গমায় অগ্নিশিখায় নীহারিকায়। ধড়ফড় ধড়ফড় সমবাহু ভাঙার আওয়াজ। আনারকলির কণ্ঠ শরীর মেখে নেয় ট্রেকারের সান্নিধ্যে। হাজার হাজার শুকতারার শাস্তি সবুজ আলো জ্বালিয়ে রাখে চলার পথে। ছ্যাবলা কান্নার জায়গা নেই মহাযোনীর মোনোলগে। গরিলার পায়ের ফাঁকে শুকনো শ্লেষ্মা বায়ু। গরিলার পাতা ছিঁড়ে আমিষ টনিক গলায় ঢালি।

ক্রিয়াপদে হাঁটার বিপুল সম্ভার...

লকলকিয়ে ওঠা কান্নার ডগায় বুলবুলি অস্থির। আমার পরিযায়ী শীত যে লুফেছে তাকে তিমিময় ইচ্ছামৃত্যু দিতে মন চায় না। সানফ্লাওয়ার সেবাকেন্দ্রের ধারে দাঁড়িয়ে দারুচিনি বৃক্ষের জিন্দালাশ আবহমান কাল। কফি হাউসের দারুচেয়ার কোল ফাঁকা রাখে না। দারু ছেনে মূর্তি তৈরি হয় নীলনীলিমার ঘর্ষণে ঘর্ষণে। বেড়ালের গা ঝাড়া দেওয়া জল জর্ডন গঙ্গার চাইতে পবিত্র। চৌকো গল্পেরা বাজারের আগুনে ঘুটের আত্মা নিয়ে পোড়ে।
ন্যাকামিতে ভর দিয়ে সোজা হাঁটার চেষ্টা করি। অজস্র মাটির ঘটে দোলা দিয়ে দিয়ে নঞর্থক হয়ে পড়ে প্রেমের ভাষা। শেষ সঙ্গম এক ব্ল্যাকহোল তৈরি করে ঘুমিয়েছে। ধুনকি ভাঙে শীতের ধুনুরি। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে কবিতা - শরীর। মরনোত্তর নিঃশ্বাস চুম্বনপোড়া ছাইয়ে মিশে শান্তি এনেছে। শান্তির স্নানে শাওয়ারের কাজ শুধু লাল চায়ে শরীর ধোয়ানো।কবির মান্দাস হুহু ছোটে ...
ইরাবতী ধূমাবতী মধুমতি নাড়ি ছোটে।
রাক্ষসব্যথা কেঁদে উঠতে পারে নি
কাঁদবার সমুদ্র হারিয়ে গিয়েছে দমচাপা সময়ের ভিড়ে।
শয়ে শয়ে বেড়াল কাটা পড়ে কি এখনো?
বেড়াল সর্দারের মায়াগ্ৰহ পৌরাণিক চরিত্র সরবরাহ করে। এক হাত দূর দিয়ে হাঁটে বামন লেন্স। বামন লেন্স ছুঁয়ে নীহারিকাদের ছোটাছুটি। নৈকট্য রাক্ষসের শুকনো জিভ চেটে নেয়। উপগ্ৰহের পেট ফেটে গ্ৰহ ছিটকে পড়ছে আমাদের মতো। কুমিরের দাঁতে বাজে পিয়ানো। জ্যাক ইন দ বক্সের কায়দায়  কবর চেপে ধরে রাখি। মাথায় শনিগ্ৰহ সংকুচিত হয়ে আসে আর ভুলের বলয় বেড়ে যায়। বোঝা যায় মাত্র লাখখানেক ভূত মাথা ছেড়ে যেতে রাজি। তোমাদের সঙ্গে একবিন্দু মিল নেই বলে তারা বিরক্ত।
বসন্তে শ্রাবণ এল ঐ ।
বিষকথার সেঁক দাও ব্যথা মারতে। হলুদ রুমালে বাঘ ও বাঘিনী শান্ত। রুমাল পেতে সংসার চলছে দিব্যি গাছের নিচে। মায়ানীল আলোর মহিমায় নীলিমায় ধাতবনীল হাসি হাসতে পারি। একটি খামখেয়ালী মৃত্যুও পা মুড়ে বসেছে। বেঁচে থাকা অব্দি দেখছি আমার মৃত্যুর দুইপাশে ছুটে যাচ্ছে অজস্র মৃত্যু। মৃত্যুসঙ্গমে ডুব দিয়ে উঠি। সঙ্গমমৃত্যু ডুকরে ওঠে দোলায় দোলায়।