গুচ্ছ কবিতা
সকাল
শাদা পাহাড়ের নিচে এসে দাঁড়াই।
প্রাতঃস্মরণীয় অনুশোচনা। তোমার ভালোমন্দ মনে পড়ে।
আরও নীচে অগভীর কফি ক্ষেত। সূর্য এলো।
আনুভূমিক যৌনদ্রাঘিমা।
অনিচ্ছুক মোরগ ফুটে ওঠে কাঠের দরোজায়।
ফুলে ওঠা তাঁবু, মেঘের সারল্য থেকে ক্ষতস্থান ও রোদ
লালসা
বৃষ্টির ভিতর রেখে আসা গোলাপগুচ্ছ থেকে
একটা অজানা রিংটোন বাজছে...
সমস্ত বিষাদের আগে রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজের
মেয়েটিকে দেখি।
ভালো লাগে।
বিংশ শতকের গোঁড়ার দিকে ওর প্রপিতামহ আমার
পিতামহকে
স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন, এরকম একটা গল্প ফাঁদি মনে মনে।
সেই থেকে আমি ওর নুন খাচ্ছি।
কী আশ্চর্য এই ভূখণ্ড, মার্জিনাল জীবন
মুখের ভিতর আখ খেত, সার্কাসের তাঁবু
নস্ট্যালজিয়া
সুলতার নাইটি ঝুলছে বারান্দায়। আর কীভাবে লিখি
নস্ট্যালজিয়া।
গতিজাড্যের তুলনায় এই সমুদ্রশহর, চা-টেবিল, মেরিবিস্কিট।
বস্তুসমূহের ফেনা আমাকে ছুঁয়ে যায়।
আরেকটি রিয়ালিটিও আছে
বিষণ্ণ ঝাউবন আর তার ক্রিয়াপদ্ধতি
এমত স্বরবর্ণ, যতদূর চোখ পড়ে
শ্যামাসংগীত
জীবন পৌনে একঘণ্টা স্লো হয়ে গেছে।
এই ফাঁকে সজল এসেছে। এলআইসি সজল।
ওর ভিতর শ্যামাসংগীত। মাধ্যমিকে ইতিহাসে লেটার।
আমার ভিতর কিছু নেই। শুধু ডেটা অ্যানালিসিস, অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের বিষক্রিয়া।
আর সজলের বোন প্রিয়াঙ্কা।
মনে মনে আমি নরম পানীয়, আর প্রিয়াঙ্কা সেই পানীয়ের বিজ্ঞাপন
এক চুমুকে শেষ হয়ে যাচ্ছি....
আমাদের সব খেলা, সব অনুরোধের আসরে
সজল একটা বালতি হাতে দাঁড়িয়ে
ওর ভিতর শ্যামাসংগীত, ওর ভিতর অশ্রুসজল
বকযন্ত্র
শুনি আধাসামরিক বাহিনী নেমেছে রাস্তায়।
আপাতত বাসস্টপের পিছনে পাইটের বেরাদরি
শান্তির স্বরূপখানি টাল খেতে খেতে রাস্তা পার হয়, গলির ভিতর ঢোকে।
জিপের ধোঁয়ার ভিতর আরেক কাহিনী
তৌফিক জাগে
খাদ্যাভ্যাসে ঢুকে পড়ে গোলাপি দ্রবণ, গণসংগীত
মুহূর্ত
আমার মলিন হল। দুপুরের ছায়া ঘনালো যতদূর
কিছু নেই, মালবিকা নেই, নেই কোনো নতুন যৌন ইশারা।
নাভির নিচে সেই পুরনো বাইসাইকেল পথের নির্জনতা
বইয়ের তাকে খা খা করছে গোয়েন্দা গল্প
উচ্চাশার ফলে নীল মহাকাশে জন্মাচ্ছে সুদৃশ্য
কাপপ্লেট
বেদনা সকলের থাকে
তবু কেউ তারে পায়
কেউ তারে পায় না কখনো
মণিশংকর বিশ্বাস



0 মন্তব্যসমূহ