শিরোনামহীন
এক
ওই সূর্যঘড়ি থেকেই আফেন্দি বুঝতে চাইবে
জাহাজের কঙ্কাল নিয়ে ক্রাচের সূর্যাস্তের
কতদূর পৌঁছানো সম্ভব
কিন্তু মরুভূমির সক্রিয়তা বিনবিন করছে ছায়াপুতুলের হারানো
ভাষায়
ভাঙা অন্ধকারের কাচ ভাবনার অরিগামি থেকে
আরও কিছু খুলবে হয়তো
একটা আঙুল শুধু বালিসমমাধির
অনতিক্রম্য সাদা স্ফটিকবিন্দু
পৃষ্ঠা উলটে যাওয়া ধ্বনির কবর
মেহনের শীতে পচে যায়
দুই
আলো নিবে আসছে আর আলো নিববে না যখন
ভারী বলয়ের মোম অনুকম্পাহীন কোনো
ফুরিয়ে যাওয়া চাকাকেই ঠেলবে
কিন্তু কোনো স্থিতি কিংবা গড়িয়ে যাওয়ার
কোনও হঠকারিতাকেও আর দেখাতে চাইবে না
বুড়িয়ে যাওয়া পুতুলদের সাদাঘন চুলের ওপার
আরও নিরুদ্বেগ পোঁচে রূপসাকেই আঁকে
আর স্লেট ভেঙে দেয়
চাকার অস্পষ্টতা নিয়ে গড়ানো রেখার ছায়া
আফেন্দিকে ঠেলে আর কবর অনিঃশেষ হয়ে যায়
তিন
জল ভেদ করে ওঠা ঠান্ডা লাল বালির অবয়ব
খুব গরম হয়ে যাচ্ছে চাঁদের অতিমাংসাশী জিভে
আফেন্দির শরীরী বাঁক আয়তনের গুমোট
কিছু স্ফটিকবিন্দু
কাটা পাঞ্জার ফেলে যাওয়া দ্রুতি সঙ্কেতের
দু-দিক ধারালো
ধ্বনির পাঁজর থেকে মৃত জাহাজের শিস
মুচড়ে দিচ্ছে তীব্রলাল হাওয়ার বন্দর
আলোর মাংসে বিঁধে গতির খনখনে ছোপ
আলোকেও রেহাই দিচ্ছে না
চার
হাত থেকে কাটা পাঞ্জা সরিয়ে ফেলার পর
চামড়ায় ছুরি ঘষার কোনো অতিরঞ্জনই থাকল না
লুকোনো রাস্তাগুলোই সেই ঘন ও অপরিরোধ্য
এসরাজ। আর কাটা পাগুলোর জন্য এত আমন্ত্রণ
উগরে দিচ্ছে জঙ্গলের আত্মরতির খোপ
সফেদাগাছের নীচে জিভকাটা মেয়েদের গাঢ় অধঃক্ষেপ খুব কাঠগুঁড়োর
ভাষায়
জমা হাওয়াকে ঠেলছে
ফাঁকের বয়ানে বসে লাল ঘুঘু স্বপ্নের নাটবোল্ট
আলগা করছে খুব
আর তামার জাহাজ থেকে বেরিয়ে আসছে
তত তত বরফশান্ত টিলা
গুঁড়িয়ে যাওয়া ভাবনার স্লেজ ইশারার ইস্তানবুলও
পৌঁছায় কখনও
সরিয়ে রাখা পাঞ্জাদুই ফ্রেমের বায়োস্কোপে
সাপ-খেলানোর রুদ্ধশ্বাস মহড়া তুলছে



0 মন্তব্যসমূহ