১
বিনোদিনী
অসহ্য
পূর্ণিমা রাতে
রাধা জ্বলে
অনঙ্গ জ্বরে
নীলদেহে
বান্ধব চাঁদ
পুড়ে যায়
চন্দন ঘ্রাণে।
বিছানাতে
জায়গাটি ছোটো
আধাআধি দুই
বাহুপাশ
এর কুঁড়ি ওর
ডালে ফোটে
ওর ঘাড়ে এর
ঘন শ্বাস।
বিনোদিনী
আঁচলের ঘেরে
লীলাময়
বিনোদের ছল
যুগে যুগে
তুই যাস হেরে
ও রাধিকে!
বুঝে শুনে চল।
মধুক্ষরা
অমরার ঘাটে
সে কিশোর
চুকিয়েছে পাট
বিরহিনী
অবিরাম জপে
কানু নাম
একশত আট।
২
নির্মোহী
উদাস বাউল
উত্তরে তার জন্মরেখা
শালের খোলস
মোচন করে একতারাটা
বাগান জুড়ে
রত্নরাজি গোপন করে
নামছে কী ঘুম
শীতঘুমেরই গর্ত খুঁড়ে।
পাতার পোশাক
দুঃখ ঢাকে সন্ন্যাসিনী
দুঃখ শীতল
কমণ্ডলু তাই রাখেনি
ছড়িয়ে দিল...
ছড়িয়ে দিল হু
হু মাঠে দ্বীপান্তরে
অন্ধকারের
জটলা খুলে দুপুর বনে
দীঘির
টানে...
নিবিড় টানে
জমছে ধূসর ছায়ার পাখি
জমছে ধূসর
আশ্বাসে নীল পশম বুকে
ফলের গন্ধ
সাঁতরে ওঠা মৃদুল ঠোঁটে
উপচানো
ওইপারের ছোঁয়া এই প্রবাসে
সামলে রেখো
একশো কোটি মনান্তরে।
৩
একটি তৃণে
একটি তৃণে
হাত রেখেছি
একটি বাহু
ঋণে
অশ্রু
উদযাপনে।
নীলের ঘন
নীলের মোহে
বিরল ছায়া
টানে
একটি
রৌদ্রদিনে।
একটি নীলে
হাত রেখেছি
অষ্টাদশী
চাঁদে
জ্যোৎস্নাভাঙা
রাতে।
জোছনা যেন ধোঁয়ায়
ওড়ে
বিবশ অবয়বে
ঘষা কাচের
কাপে।
একটি কাপে
বিষন্নতা
ডুকরে কেঁদে
উঠে
একটি তৃণে
দোলে।
৪
কাল রাতে
রাতে কাল
বৃষ্টি ছিল
ভেজা তাই
চোখের পাতা
শব্দের
ভাবানুবাদে
খুলে যায়
দুয়ার আঁটা।
কবিতাটি
রোমান্টিক
যে জেনেছে
সেও কি বোঝে?
যুবতীর কাচ
কপালে
কত রঙ রক্ত
টিপে?
তুমি হও আগুন
শিলা
আমি হই
নির্ঝরিণী
আঙুলের গোপন
খেলা
আগুনের শিখায়
নাচে।
যে নামেই
ডাকো আমায়
মৃদু শীতে
উষ্ণ রাতে
বেঁচে থাক
প্রেমহীনতা
বেঁচে থাক
অকুণ্ঠ প্রেম।
৫
অশ্রু-খেলা
এমন ধারা
চাইছ তুমি সিক্তচোখে
তোমায় ভুলে
যাবেই যদি অন্যলোকে
দোষ দিয়ো না
মেঘ-ঋতুর খেলা এমন
একলা পেলে
শিকল তোলা প্রবাসী মন
স্পর্শহীনা
কাঁটা ঘোরে বড্ড ধীরে
নির্জনতা
আত্মসুখী, লোকের ভিড়ে
তখন যদি
চিলেকোঠায় বৃষ্টি নামে
চোখের কোণে
জমিয়ে রেখো অল্প দামে
খরচ কোরো
বুঝে শুনেই বৃষ্টি চোখে
তাকাও তবে, জ্বলুক ওরা নিপাট বুকে
দোষ নিও না
সম্ভাবনা বলছি শুধু
পরাগ বনে
পড়বে ছিটে নিমের মধু।
ইলোরা ভট্টাচার্য



0 মন্তব্যসমূহ