কবিতা
বিষাদ
দিনান্তে
পাথরের অন্ধকার থেকে ফুটে ওঠা সঙ্গী কুকুর সূর্যাস্তের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে পড়েছে; তার চোখের তারায় ঢলে পড়া সূর্যের ছায়া। সম্ভবত
পথশ্রমের থেকেও বেশি কিছু তাকে ক্লান্ত করেছে। তার নীরব ভাষার কাছে কান পাতলেই
বোঝা যায় এই শান্ত, আলো-অন্ধকারমাখা কুহকের কাছে সে বলতে
চেয়েছে, এই পথই স্বর্গের দিকে বেঁকে চলে গেছে। প্রতিটি
নির্জনতম পথ স্বর্গের দিকে বেঁকে চলে গেছে। এ পথে যাত্রা তোমার একার । মাঝে মাঝে
গিরিখাদে ঝর্নার শব্দ পাবে শুধু; অন্ধকারে অশরীরী গাছেদের
নিবিড় আলিঙ্গন। তামস স্তনের কাছে ফুটে থাকা অলীক জোনাকি।
আমি
সেই ক্লান্ত ও অবসন্ন সঙ্গী কুকুরটিকে শেষ প্রশ্ন করি, তা হলে স্বর্গ কি এমনই অলীক, শূন্যতার
পাখি?
কুকুরটি
তার নীরব ভাষায় চেয়ে থাকে, উত্তর
দেয়, আরোহন শেষে তীব্রতম হবে তোমার বিষাদ… এক বিন্দু অশ্রু ঝরে পড়বে পাথরের বুকে, সে অশ্রু
দীর্ঘ যাত্রাপথের একমাত্র পানীয়, সমস্ত জীবনজুড়ে তাকে
অশ্রুগ্রন্থিতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছ
টিলার
মাথায় আলোকিত চার্চ, যিশুর
আঁধার বিষাদে শুধু দু-একটা তারা খসে পড়ে



0 মন্তব্যসমূহ