
দুটি কবিতা
চন্দ্রিমাশরীর
শৃঙ্গারপুতুল
প্রিয়তমর সঙ্গে কলহে বিনিদ্র রাত্রি কাটিয়েছে যে
জোয়ারবর্ণ যুবতী, হে
আনন্দভৈরবী, তাকে তুমি নরম রঙের নিদ্রা দিও— অনিদ্রায় তার চোখের তলায় তমাল-শাখা কালি, হে নিদ্রাদেবী, মুছে দিও;
দিন ঘুরে গেছে— আজ আষাঢ়ের বাতাসে ভেজা দক্ষিণ—
তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের জারুলশাখা ধারাস্নাত— পানকৌড়ির ঝাঁক সজনের ডালে মেঘের কাছাকাছি— জুঁইফুল,
তুমি কার শিরা-উপশিরা আলো করে ফুটবে আজ?—‘খালি
ঝগড়া, খালি আমাকে কাঁদানো, না?’—নবজাত গিরিমল্লিকার মতো শরীরে শৃঙ্গারমুদ্রা—শিথিল
বস্ত্র—‘আরে বাবা, আমি তো তখন’—
‘চুপ করো, খালি অত্যাচার’—ঈগলপাখির খোলা ডানার মতো ধারালো যুবতী— ‘কী ভেবেছ
তুমি? শুধুই কষ্ট দেবে?’ একবিংশ
শতাব্দীর দুপুরে আজ বিদ্যাসুন্দরের বিপরীত রতি—ওহে নিষ্ঠুর
পুরুষ—মেঘ-মেঘাঙ্গ-মেঘান্ত বৃষ্টি আজ তোমার বুকে—লাঙল হাতে উন্মাদিনী কৃষিকাজে মত্ত—আজ তুমি তার অবাধ
বিলাসভূমি, শৃঙ্গারপুতুল . . .
সৌভিক গুহসরকার


0 মন্তব্যসমূহ