সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

সৌভিক গুহসরকার: কবিতা

 



দুটি কবিতা


চন্দ্রিমাশরীর

করুণকোমল চন্দ্রিমাশরীর তোমার, আমাকে বনজ্যোৎস্না-স্নান দাও— আমি সবকিছু ভুলে থাকতে চাই; অরণ্যের ঘ্রাণ আমার শিরায়, মাথার অভ্যন্তরে দপদপায় মত্তঝোরা! অথচ আমার আদিমে শৃঙ্খল— আমার ঘরের ধারণা পোকায় কেটেছে— এ কেমন অসুখ আমার! কার কাছে ছুটে যায় মানুষ গভীরতর শুশ্রূষার অভিলাষে? এই খণ্ডিত ব্রহ্মাণ্ডে চর্বিপোড়া মঙ্গোলীয় রুটির মতো অস্তিত্ব আমার—এই নিরালোক মধ্যবয়সের তাঁবু-ছেঁড়া বিপন্নতা—কার কাছে উলঙ্গ ললাটের ক্লান্ত বলিরেখা পেতে রেখে বলি, এই নাও তবে, আমার বিস্তর ভুলের অশেষ তালিকা— আর ভাবতে পারছি না— জাহ্ণবী! জাহ্ণবী! আশ্রয়ের জল দাও! তুমি দিয়েছ! কে তুমি? অখ্যাত বনদেবী? গ্রাম্য-ঈশ্বরী?—‘অপেক্ষা চিরজাগ্রত আমার; ক্লান্ত ভ্রমর, তুমি কুসুমের বিশ্রামে এসো’— আলতাপাড়ার দুহিতা, এই কথার শ্রীচরণে আমার বর্ম-ফাটা গীতগোবিন্দ— বৃষ্টি পড়ছে . . .


শৃঙ্গারপুতুল

 

প্রিয়তমর সঙ্গে কলহে বিনিদ্র রাত্রি কাটিয়েছে যে জোয়ারবর্ণ যুবতী, হে আনন্দভৈরবী, তাকে তুমি নরম রঙের নিদ্রা দিও— অনিদ্রায় তার চোখের তলায় তমাল-শাখা কালি, হে নিদ্রাদেবী, মুছে দিও; দিন ঘুরে গেছে— আজ আষাঢ়ের বাতাসে ভেজা দক্ষিণ— তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের জারুলশাখা ধারাস্নাত— পানকৌড়ির ঝাঁক সজনের ডালে মেঘের কাছাকাছি— জুঁইফুল, তুমি কার শিরা-উপশিরা আলো করে ফুটবে আজ?—‘খালি ঝগড়া, খালি আমাকে কাঁদানো, না?’—নবজাত গিরিমল্লিকার মতো শরীরে শৃঙ্গারমুদ্রা—শিথিল বস্ত্র—‘আরে বাবা, আমি তো তখন’— ‘চুপ করো, খালি অত্যাচার’—ঈগলপাখির খোলা ডানার মতো ধারালো যুবতী— ‘কী ভেবেছ তুমি? শুধুই কষ্ট দেবে?’ একবিংশ শতাব্দীর দুপুরে আজ বিদ্যাসুন্দরের বিপরীত রতি—ওহে নিষ্ঠুর পুরুষ—মেঘ-মেঘাঙ্গ-মেঘান্ত বৃষ্টি আজ তোমার বুকে—লাঙল হাতে উন্মাদিনী কৃষিকাজে মত্ত—আজ তুমি তার অবাধ বিলাসভূমি, শৃঙ্গারপুতুল . . . 





সৌভিক গুহসরকার

 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ