তরুণ কুমার ঘটক/সাক্ষাৎকার/জুন'২০২২

 


সাক্ষাৎকার : তরুণ কুমার ঘটক

সংগ্রহণে: শীলা বিশ্বাস  

 

[তরুণ কুমার ঘটক – ভারতের অডিট বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণের পর( ১৯৯৮)  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিখ্যাত সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষকতা করেন  এবং হিস্পানিক সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যের অনুবাদ করেন।। 'দন কিহোতে ' এবং 'নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ ' সহ তিরিশটির বেশি প্রকাশিত গ্রন্থের অনুবাদক। দন কিহোতে লীলা রায় স্মারক পুরস্কার অর্জন করে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার অনূদিত গল্প কবিতা ছাড়াও প্রকাশিত হয় স্পেন ও লাতিন আমেরিকার সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ। স্প্যানিশ ভাষার কাজ ব্যতীত তিনি নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কিছু আলাপচারিতা তুলে ধরলাম এবং সইকথার সাক্ষাৎকার বিভাগে।]

 

শীলা : কাকু কেমন আছেন?  আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় নয়ের দশক থেকে। বাবার সহকর্মী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে। তবে আজ এসেছি  ‘এবং সইকথা’ ওয়েবজিনের পক্ষ থেকে। আড্ডার ছলে জেনে নেব আপনার লেখক জীবনের কথা। বিশেষ করে অনুবাদ সাহিত্য জগতে আপনার যে অবদান বা বিশাল কর্মকাণ্ড, সেইসব জার্নির  শুরুর কথা। শিল্পের অন্যান্য শাখায় আপনার যাতায়াত সে বিষয়েও কিছু প্রশ্ন নিয়ে চলে এসেছি।

 

তরুণ ঘটক: আশা করি তোমরা ভালো আছ। অনেক দিনের চেনা কিন্তু মাঝে হল ছাড়াছাড়ি…....গেলেম কে কোথা...

 

শীলা: ভালো আছি আমরা। আসলে সরকারী আবাসন মানেই তো কিছুদিনের…   যাই হোক আজ খুব জানতে ইচ্ছে করছে আপনার লেখার জগতে আসা কীভাবে। মানে শুরুর দিনগুলোর কথা জানতে চাইছি। পারিবারিক পরিমণ্ডল  নাকি বিশেষ কোনও মানুষের সাহচর্য...

 

তরুণ ঘটক: নিজেরই মনে হত কিছু লিখি । এ জি বেঙ্গল- এ লেখা,  অভিনয় করার একটা খুব সুন্দর পরিবেশ ছিল। 'অবসর' নামে একটা পত্রিকা বেরত,  দেওয়াল পত্রিকাও ছিল।

 

শীলা বিশ্বাস: অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ কীভাবে। স্প্যানিশ ভাষার প্রতি কীভাবে আগ্রহ জন্মালো আপনার? স্প্যানিশই বা কেন?

তরুণ ঘটক: স্প্যানিশ ভাষা কুড়ি বছর শেখার পর অনুবাদে হাত দিলাম। দেখলাম মূল ভাষা থেকে অনেক মূল্যবান সাহিত্যের সরাসরি অনুবাদ বাংলায় নেই।

সৈয়োদ মুজতবা আলীর পরামর্শে স্প্যানিশ ভাষার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা। ভালোবাসা না থাকলে ভাষা শেখা সম্ভব না। শ্রদ্ধার আলী সাহেব তাই বলেছেন।

অনেক বাধাবিঘ্ন সহ্য করে টিকে গেলাম। ভাষাটির প্রেমে পড়ে গেলাম। দেখলাম স্প্যানিশ সাহিত্যের মণি মুক্তো বাংলায় নেই। বাঙালি পাঠক এবং প্রকাশক সেইসব গ্রন্থ চান। অবশ্যই মধ্যবিত্ত বাঙালি এবং ছোটো প্রকাশক।

 

শীলা বিশ্বাস:  একজন অনুবাদকের কাজ কী?

 

তরুণ ঘটক: অনুবাদকের কাজ মাঝির মতো। কিন্তু শুধু পারাপার করলেই হয় না, ঘাটের পরিচয় জানতে হয় অর্থাৎ ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতির কথাও অনুবাদক জানবেন আশা করা যায়।

 

  শীলা বিশ্বাস:  একটি দেশের সংস্কৃতি বা ভাষার অন্বয় অন্য একটি ভাষায় যখন অনূদিত হয় তখন তার অভিঘাত কতটা রক্ষিত হয় বলে আপনার মনে হয়।

 

তরুণ ঘটক:  অনুবাদে মূল ভাষার সাহিত্য কিছু অবশ্যই মার খায়। কিন্তু অনুবাদ ব্যতীত সাহিত্যের আদানপ্রদান চলে না। শুধু সাহিত্য কেন? সমস্ত বিষয়ে ভাব এবং জ্ঞানের আদানপ্রদান অনুবাদ ছাড়া সম্ভব নয়।

  

শীলা বিশ্বাস:   দুটি ভিন্নভাষী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিনিময় বা পরিচয় কি সম্ভব অনুবাদের মাধ্যমে ?

 

তরুণ ঘটক:   সম্ভব। আমার স্পেনীয় বন্ধু সদ্য প্রয়াত হোসে পাস রোদরিগেস রবীন্দ্রনাথের  গ্রন্থের স্প্যানিশ অনুবাদ পড়ে রবীন্দ্র ভক্ত  হন এবং কবির ‘শিক্ষা চিন্তা’ নিয়ে ডক্টরেট করেন। তিনি গত কুড়ি বছর শান্তিনিকেতনে বছরে চার থেকে ছয়  মাস থাকতেন , রবীন্দ্র ভবনে নিয়মিত পড়াশুনো করতেন।

অনুবাদের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ  যে হয় এ ব্যাপারে আজ কোনও সন্দেহ নেই।

 

শীলা বিশ্বাস:    মূলের স্বাদ প্রায়ই অক্ষুন্ন থাকে না অনুবাদে। (কবিরা খানিকটা সক্ষম হন) । সোজাসুজি বলছি, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের " বিশাল ডানাওয়ালা থুত্থুরে বুড়ো" পড়তে গিয়ে বোঝা যায়, যে এটা বাংলা গল্প নয়। অথচ আমরা বিদেশি নাটকের যে রূপান্তর দেখি তাতে আছে আশ্চর্য ভারতীয়করণ।

 

তরুণ ঘটক: আগেই বলেছি যে, অনুবাদে মূলের স্বাদ না পাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে। রূপান্তরে স্বাধীনতা অনেক বেশি।

 

শীলা বিশ্বাস: বর্তমান পৃথিবীতে দোভাষীর কাজ প্রচুর। স্প্যালনিশ ভাষা শিখে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন ?

তরুণ ঘটক: স্প্যানিশ কুড়িটি দেশের ভাষা। সুতরাং  কাজের  সুযোগ আছে। এই দেশগুলো ভারতের মতো মহাদশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সদাই আগ্রহী। কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে বাণি্জ্যিক সম্পর্কও স্থাপিত হচ্ছে। খেলা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনেও যোগাযোগ বাড়ছে।

 

  শীলা বিশ্বাস:  বাংলা সাহিত্যাকে স্প্যাানিশদের কাছে অনুবাদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কোনো চেষ্টা আপনি করেছেন বা উদ্যোগ নিয়েছেন ?

 

তরুণ ঘটক: বাংলার  রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ব্যতীত তেমন অনুবাদ  হয়েছে বলে আমার  জানা নেই।

আমি অনুবাদ করলেও বিদেশের স্প্যানিশ গ্রন্থের বাজারে পৌঁছবে  কী ভাবে? অনুবাদ  এবং সাহিত্যের বাজার দুটোর যোগাযোগ দরকার।

ইংরেজি অনুবাদ বিদেশের বাজারে পাঠাবার ব্যবস্থা আছে।

 

 শীলা বিশ্বাস:  ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য  সম্পর্কে স্প্যানিশদের আগ্রহ কেমন ?

 

তরুণ ঘটক: আমি যতটা বুঝেছি, আগ্রহ আছে। অবশ্য এখন সাহিত্যের পাঠক কমছে। কিন্তু যোগ, ধর্ম,  রাজনীতি ইত্যাদির সম্পর্কে আগ্রহ আছে। ভারত এমন এক মহাদেশ যার প্রতি আগ্রহ না থাকা অসম্ভব এক কান্ড।

 

শীলা বিশ্বাস:  অনুবাদ কী সবসময় আঞ্চলিক চিহ্নকে তুলে আনতে পারে! কেমন ভাবে?

 

তরুণ ঘটক: আঞ্চলিক ভাষা অনুবাদে আনা সম্ভব না। কিন্তু অন্যান্য  চিহ্ন সম্ভব।

বাংলায় অনূদিত হতে হলে স্প্যানিশ ভাষার আদল ভেঙে দিতে হয়। তখনই নতুন এক সৃষ্টি। মূল্যের সবকিছু থাকে বাংলা অনুবাদের গঠনে।

 

শীলা বিশ্বাস:  অনুবাদকে আপনি মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছে দিতে চান ?

তরুণ ঘটক: স্প্যানিশ ভাষার লেখা যিনি পাঠ করতে চান তার কাছে তুলে দিতে চাই বাংলা ভাষায় লেখা এক কাহিনি বা কবিতা কিংবা নাটক যার উৎস বাংলায় না হলেও যেন প্রসাদ গুণ থাকে।

 

শীলা বিশ্বাস:  ভাষা এবং প্রতিবেশের বিনির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ কীভাবে হয় বলে আপনার বিশ্বাস?

 

তরুণ ঘটক: ভাষা বাংলা। যুগে যুগে ভাষার কিছু কিছু পরিবর্তন হয় কিন্তু বাংলার ভাষা বাংলাই থাকে। প্রতিবেশ বিদেশের। পাঠক কল্পনা করে নিতে পারেন। কল্পনাবিহীন মানুষ সাহিত্য পাঠ করেন না।

বিনির্মাণ কিংবা পুনর্নির্মাণ সবাই করতে পারেন না। যোগ্য ব্যক্তি এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন।

 

শীলা বিশ্বাস:  অনুবাদের কী মৌলিক শিল্প হয়ে ওঠা উচিত?

তরুণ ঘটক: অনুবাদ অবশ্যই  স্বতন্ত্র সৃষ্টি কিন্তু মূলের কথা ভুলে যাওয়া কি সম্ভব?

 

শীলা বিশ্বাস: অনুবাদক তৈরির ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগাজিন কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ  ভূমিকা নিচ্ছে বা নিতে পারে বলে আপনার মনে হয়? অনুবাদ সাহিত্য প্রকাশের বিষয়ে প্রকাশক বা প্রতিষ্ঠান কি সেভাবে এগিয়ে আসছে ?

 

তরুণ ঘটক: একমাত্র লিটল ম্যাগাজিনই অনুবাদক তৈরি করে। যত বিদেশি সাহিত্য বাংলায় অনূদিত হয় তার অধিকাংশই লিটল ম্যাগাজিনে প্রথম প্রকাশিত হয়। তাঁরা অনুবাদের নানা সমস্যা নিয়েও প্রবন্ধ প্রকাশ করে অনুবাদের দিক সম্বন্ধে পাঠকের আগ্রহ তৈরি করে। এখন ‘অনলাইন’ পত্রিকাও অনুবাদে আগ্রহী।

বড়ো প্রকাশক সম্বন্ধে আমার কোনও অভিজ্ঞতা নেই।

 

শীলা বিশ্বাস:  কাকু একটা বিষয় আপনার কাছে খুব জানতে ইচ্ছা করছে যে নতুন  প্রজন্মের যারা অনুবাদক হতে চায় তারা কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখবেন ?  ব্যবহারিক  প্রশিক্ষণ এক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হতে পারে ?

 

তরুণ ঘটক: আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় বলব যে, নিজের ক্ষমতা বুঝে একটি সৃষ্টির অনুবাদে হাত দেওয়া উচিত। খেয়াল রাখতে হবে, মূল লেখাটি ভালো লাগছে কি না, টীকাটিপ্পণি সঠিকভাবে আছে কি না, বাংলার পাঠকের জন্যে লেখাটি আকর্ষক হতে পারে কি না এবং সবশেষে লেখাটি অনুবাদককে অনুপ্রাণিত করছে কি না। অনিচ্ছুক অনুবাদক জোর করে অনুবাদ করলে তার মান নষ্ট হতে পারে। ভাবের ঘরে চুরি করলে সৃষ্টির মাহাত্ম্য কি অটুট থাকে?

ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কে দেবেন? যিনি অনুবাদ করেন তিনি, না, কোনও অধ্যাপক যিনি অনুবাদের কথা অনেক জানেন কিন্তু অনুবাদ করেন না?

ভালো অনুবাদ পড়ে একটা ধারণা গড়ে উঠতে পারে। মূল টেক্সট পড়ে তার বিষয় এবং দৃষ্টিভঙ্গি ধরতে পারলে অনুবাদ ভালো হতে পারে। ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাই খুব জরুরি। অনুবাদে সময় দিতে হয় বেশি, নিজের কল্পনার লেখার চেয়ে অনেক বেশি।

 

শীলা বিশ্বাস: অনুবাদের ক্ষেত্রে লেখকের সম্মতি বা অনুমতিপত্রের একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ । আপনার কাজের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কতটা সহজ ছিল ?

 

তরুণ ঘটক: খুব জরুরি প্রশ্ন। বিশ্ববিখ্যাত লেখকদের সাহিত্যের এজেন্ট থাকে, তাদের পেশা ‘রয়ালটি’ সংগ্রহ করা। তারা বাংলার প্রকাশকদের অবস্থা বোঝে না, অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, ফলে অনেক ভালো সাহিত্য আজ পর্যন্ত অনূদিত হয়নি।

রয়ালটি-অতিক্রান্ত লেখকদের অনুবাদ করেছি আর জীবিত লেখকদের কেউ কেউ সম্মতিপত্র দিয়েছেন, রয়াল্টি চাননি। সমাজতান্ত্রিক দেশে রয়াল্টি দিতে হয় না। একমাত্র কিউবার সাহিত্যে সেটা এখন আছে।

স্প্যানিশ ভাষার বহু মূল্যবান গ্রন্থ সংগ্রহ করেছি, পড়েছি, অনুবাদ করতে ইচ্ছে করে কিন্তু পারি না। আইনি প্যাঁচ না বদলালে অনুবাদের পথ সুগম হবে না। আমাদের দেশের সরকার যদি অবস্থাটা বুঝতেন!

 

 শীলা বিশ্বাস:  দন কিহোতে অনুবাদের জন্য আপনি লীলা রায় পুরস্কার পেয়েছেন। আপনাকে এই অনুবাদের কাজের জন্য এবারের বইমেলায় স্পেনের দূতাবাসের তরফ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হল...

তরুণ ঘটক:  হ্যাঁ। অনেক প্রশংসা পেলাম। স্পেনের সাহিত্যে মিগেল দে সেরভানতেস এক পূজনীয় নাম। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের নাম ‘লা মাঞ্চার দন কিহোতে’ যেটি ‘দন কিহোতে’ নামেই পরিচিত।এই গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ আমি প্রথম করেছি বলে আরও কিছু সুযোগ দিয়েছেন ওঁরা।

 

শীলা বিশ্বাস: স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার  আমন্ত্রিত হয়েছেন । সেই অভিজ্ঞতা যদি এবং সইকথার পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করেন…

 

তরুণ ঘটক: দেখলাম ওঁরা কাজের দাম দেন। আমাদের একটা ছোটো কেন্দ্র ছিল। স্প্যানিশ ভাষা চর্চার কেন্দ্র। তার কথা জেনে দূতাবাস আর্থিক সাহায্য দিতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের আমন্ত্রণ করেছিলেন। অন্যান্য ব্যবস্থাও ছিল খুব ভালো। শুধু স্পেন থেকেই এই সুযোগ পেয়েছিলাম।এখনও ওই দেশ সাহিত্য অনুবাদের জন্যে অনুদান দেয়।

এতসব আশা করিনি। কাজ করতাম নিজের মনের আনন্দে আর কিছু নয়...

  

শীলা বিশ্বাস:  গ্রুপ থিয়েটারে আপনার অভিনয় জীবন আর একটি অধ্যায়। অভিনেতা হিসাবেও যথেষ্ট সুনাম, আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাইছি কাকু

 

তরুণ ঘটক: স্কুলজীবন থেকে নাটক ভালো লাগত। এজি বেঙ্গলে বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ এবং থিয়েটার ওয়োর্কশপে  যোগদান কিন্তু পরে  'অন্য থিয়েটার' প্রযোজিত  'মাধব মালঞ্চী কইন্যা' নাটকে অভিনয়ের পর আর নাটক করা সম্ভব হয়নি। স্প্যানিশ ভাষার এত কাজ আসতে লাগল যে, থিয়েটারে সময় দিতে পারতাম না।

 

শীলা বিশ্বাস: অনুবাদের পাশাপাশি আপনি মৌলিক সাহিত্যও রচনা করেছেন । লেখালিখি নিয়ে সামনে আপানার পরিকল্পনা কী?

 

তরুণ ঘটক: অনুবাদক হিসেবে সামান্য পরিচিতি আছে বলে সবাই অনুবাদ চান। তাছাড়া স্পেনীয় সরকারের বার্ষিক অনুদানের লোভে অনুবাদ নিয়েই পড়ে থাকতে হয়।

মৌলিক কিছু লেখা আছে তবে তেমন বলার মতো কিছু নয়। মৌলিক লেখা নিয়মিত পড়ি।

অনুবাদের মধ্যে হয়তো ‘দন কিহোতে’ ছাড়া তেমন কিছু থাকবে না, থাকে না। কিছু বিদগ্ধ বাঙালি অনেকদিন পরেও খোঁজ করবেন ‘দন কিহোতে’। কারণ এমন সৃষ্টি চারশো বছরে একটাই হয়েছিল। এই মত দিয়েছেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যদের জুরি ২০০২ সালে। সংবাদ ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর।

আমি তো এমন গ্রন্থ দ্বিতীয়টি পড়িনি।

 

শীলা বিশ্বাস:  আর একটি প্রশ্ন দিয়ে এই আলাপচারিতা শেষ করব…  এই সুদীর্ঘ লেখক জীবনে আপনার প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি কী?

 

তরুণ ঘটক: প্রাপ্তি অনেক। ভাষাটিতে ব্যুৎপত্তি অর্জনের আনন্দ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বামপন্থীদের সঙ্গে বহু বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে দোভাষীর কাজ করার সুযোগ, স্পেন  লাতিন আমেরিকার সমাজ সমন্ধে কিছু জ্ঞান প্রাপ্তি, অর্থও কিছু, কলকাতার বিশিষ্ট বিদগ্ধ মানুষদের প্রশংসা, স্পেনের দূতাবাস-প্রদত্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি, লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশের সুযোগ, ভালো কৃতজ্ঞ ছাত্রছাত্রী ইত্যাদি।

অপ্রাপ্তি কিছু নেই।

 

 শীলা বিশ্বাস: এবং সইকথা পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ ও  কৃতজ্ঞতা জানাই । ভালো থাকবেন কাকু।

 

তরুণ ঘটকতোমরা ভালো কাজ করছ বলে তোমাদের সঙ্গে আমি যুক্ত থাকতে চাই। সাহস করে এগিয়ে যাও, সাহিত্য কখনও মুছে ফেলা যায় না। ইতিহাসে যার উল্লেখ লঘু করে দেখানো হয় সাহিত্যে তা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

 

 




 

লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকাঃ-

      স্পেনের গল্পগুচ্ছ

      লাতিন আমেরিকার গল্প-সংকলন(সম্পাদনা)

      স্পেনের নাটক

      আমার রক্ত যদিও নীল নয় (কলম্বিয়ার উপন্যাস)

      নীলপাখি (গল্প। সুদেষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে)

      গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর প্রতিবাদী গল্প( সুদেষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে)

      নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ—গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর নোবেলজয়ী উপন্যাস।

      কেমন করে গল্প হয়—চিত্রনাট্যের কর্মসালা— গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস।

      গল্প-সংকলন—হোসে মারিয়া মেরিনো(স্পেনের লেখক। ঢাকার অবসর-প্রকাশনা)

      পলাতক-গল্প-সংকলন—হোসে মারিয়া মেরিনো।

      গহবর—উপন্যাস –হোসে মারিয়া মেরিনো।

      গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এক প্রকাণ্ড বিস্ময়—সম্পাদনা।

      দন কিহোতে (দুই খন্ড)।

      স্পেন ও লাতিন আমেরিকার গল্প।

      স্প্যানিশ ভাষার ক্লাস-(প্রাথমিক শিক্ষার বই।)

      শ্রীমতী পার্ফেক্ট-স্পেনের উপন্যাস।

      লোরকার চিঠি (দুই খন্ড)।

      লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের ইতিহাস- মৌলিক রচনা।

      ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা-(জীবনী)- মৌলিক রচনা।

      অনাম্নী-উপন্যাস- মৌলিক।

      স্মরণ—উপন্যাস- মৌলিক।

      স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্য, কিছু কথা।

      স্প্যানিশে রবীন্দ্রনাথ।

      রাজপ্রতিনিধির স্ত্রী( স্পেনের উপন্যাস)

      স্প্যানিশভাষী দুনিয়া ও রবীন্দ্রনাথ-(ঢাকার অবসর-প্রকাশনা)

      মারিয়ানেলা (উপন্যাস-অনলাইন পত্রিকা ‘তর্কিত তর্জনী’)

      স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্য—(‘ও কলকাতা’-অনলাইন পত্রিকা ও অ্যাপ)


২টি মন্তব্য:

  1. ভীষন ভালো লাগলো। অধ্যাপক তরুণ কুমার ঘটক মহাশয়ের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ এর সৌভাগ্য হয়েছিলো। তাঁর পান্ডিত্য ও সহজ ব্যবহার আমাকে বিস্মিত ও মুগ্ধ করেছিল। তাঁর সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।

    শুভ্রনীল বিশ্বাস

    উত্তরমুছুন
  2. জন কিহোতে বইমেলায় কিনেছিলাম। প্রচন্ড গতিতে পড়ে ফেলেছিলাম।

    উত্তরমুছুন