মানসী কবিরাজ/জুন'২০২২

 


রূপ হল তার অভিশাপ

                                 আমাদের সেই তাহার নামটি অহল্যা   

                    বয়ঃসন্ধির সীমায় পা রাখতে না রাখতেই যে অপরূপ লাবণ্যময়ী অনিন্দ্য সুন্দর মেয়েটির বিবাহ হয়ে গেল । বিবাহ হল এমন একজনের সঙ্গে যিনি বয়োবৃদ্ধ , মহাজ্ঞানী , ত্রিকালদর্শী , বীতকাম এক ঋষি । বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা

                                 যতই অসম হোক সে বিবাহ , একবার বিয়ে হয়ে গেলে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানেই তোমাকে থেকে যেতে হবে । কারণ ? কারণ সেই আদিকাল থেকে আজ অবধি সেই একটাই কথা , লোকে কী বলবে ! কারণ ? কারণ তুমি মেয়ে , তুমি সেকেন্ড সেক্স , তোমাকেই তাই সবটা নত মস্তকে  মেনে নিয়ে হাসি মুখে মানিয়ে গুছিয়ে থেকে যেতে হবে । সাত চড়েও যেন রা না কাড়ে মেয়ে । মেয়েদের আবার ইচ্ছা অনিচ্ছা ! সেই কবেই তো বলে গেছেন মনু - নারী শৈশবে পিতার, যৌবনে স্বামীর এবং বার্ধক্যে পুত্রের অধীনে থাকবে


             যে নারী প্রভুত্ব মানে না তার জন্য বরাদ্দ হোক যাবতীয় অশ্লীল ।  নিজের সুখের কথা নিজ মুখে বলবে নারী ! সে তো মহাপাপ  সৃষ্টিকর্তা কে ? স্বয়ং ব্রহ্মা  স্থিতি রাখেন কে ? বিষ্ণু । বিনাশ করেন কে ? মহেশ্বর । সব্বাই যেখানে পুরুষ সেখানে নারীর মতামত নেওয়া হবে এমনটা ভাবাই এক  সৃষ্টিছাড়া ব্যাপার  ! স্বভাবতই  অহল্যার বিবাহের  ক্ষেত্রেও সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা সেটা  মানেননি। তদুপুরি অহল্যা তাঁর মানসকন্যা । ব্রহ্মার পুরো হক আছে অহল্যাকে কাকে দান করবেন  কাকে করবেন না   কন্যা হচ্ছে সেই বস্তু যাকে ইচ্ছা মতো দান করা যায় !

      আসলে হয়েছে কি , সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা  লক্ষ্য করে দেখলেন যে  স্বর্গের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী  অপ্সরা উর্বশী  দিনে দিনে  রূপের দেমাকে এক্কেবারে মটমট করছে  যে কোনও পুরুষকে সে রূপ দিয়ে বিবশ করতে পারে এই আত্মশ্লাঘায় সেই মেয়ে আর কারও বশ্যতা স্বীকার করতে চায় না ! না , এতো ভালো কথা নয় । মেয়েমানুষের আবার গর্ব ! সেসব বরাদ্দ শুধু পুরুষ সিংহের জন্য । অতএব ব্রহ্মা বেশ একখানা কাঁচি করলেন ( তাঁর মুঠোতেই সৃষ্টির চাবিকাঠি কিনা ! )  ব্রহ্মা তখন স্বর্গ মর্ত্য পাতাল  ঘুরে ঘুরে সব জায়গার শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য  ঝোলায় ভরে  সৃষ্টি করলেন এমন এক নারীর যে কিনা অযোনি সম্ভূতা , যে কিনা  ন হল্যা  অর্থাৎ যার কোনও বিকৃতি নেই , নিখুঁত পরমা সুন্দরী এক নারী । এই সেই অহল্যা । পঞ্চ সতীর এক সতী । অবশ্য অহল্যার আরেক অর্থ  অকর্ষিত  ভূমি । এই যে ব্রহ্মা উর্বশীকে ঢিট দেবেন বলে ( একজন নারীকে দমিয়ে দেবার জন্য আরেক নারীর  সৃষ্টি !)  নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে অগ্র পশ্চাৎ না ভেবে যে অনিন্দ্য সুন্দরী  কন্যা সৃষ্টি করলেন , কিন্তু  সেই কন্যার দেখভালের দায়িত্বটি নিজে নিলেন না   ভাবুন একবার !  কন্যা তো অযোনি সম্ভূতা , মা’ নামক মমতার মলম তার কপালে নেই । আর এখান থেকেই  কন্যার জীবনে  ট্র্যাজেডির শুরুয়াৎ 

  নিজের বিভিন্ন  মহৎ কর্মযজ্ঞ শিকেয় তুলে সন্তানের দেখভাল ! না না সে সম্ভব নয়  অতএব  ব্রহ্মা অনেক ছকটক কষে কন্যা অহল্যার দেখভালের  গুরুভার  দিলেন ঋষি গৌতমকে  কঠোর তপস্যা পালন করে যিনি বীতকাম এবং বয়োবৃদ্ধ  ,কাজে কাজেই  ব্রহ্মা নিশ্চিন্ত । এদিকে  অহল্যা ?  বেচারি  না পেল মায়ের আঁচল না পেল  বাবার  ছায়া । এক নিরেট অনুশাসন আর নীরস ঋষি সংসর্গে  তার বেড়ে ওঠা ।  ক্রমে প্রকৃতির রীতি অনুযায়ী অহল্যা ঋতুমতী  এবং তার শৈশব থেকে রজোদর্শন সবটাই ঘটে ঋষি গৌতমের তত্বাবধানে !  ব্রহ্মার বরে  অহল্যা হয় চির যৌবনবতী ।  উপছে উপছে পড়ে তার রূপের লালিমা  সুতরাং  দিকে দিকে এই বার্তা রটি গেল ক্রমে পরম সুন্দরী  অনন্ত যৌবনা এক নারী আছেন ব্রহ্মার আশ্রমে । সেইসব শুনে  দেবরাজ ইন্দ্রের  আর তর সয় না । এমত সুন্দরী নারী যদি না তাঁর  বাহুলগ্না হয়  তবে আর দেবরাজ হবার ফয়দা কোথায় । সুতরাং ইন্দ্র সত্বর তাঁর মনের বাসনা জানিয়ে দিলেন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে । এদিকে ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি ।  মানে ঐ দেবরাজের প্লেবয়োচিত স্বভাব চরিত্র আর কী । কিন্তু ইন্দ্রকে সরাসরি সে কথা না বলে( খামোখা কে আর দেরাজ কে চটায় ! )   ব্রহ্মা  দিলেন এক শর্ত  যে পাণিপ্রার্থী সবার আগে ত্রিভুবন প্রদক্ষিণ করে আসবে তার সঙ্গেই অহল্যার বিবাহ হবে ।  ইন্দ্র মহাখুশি । তিনি হলেন গিয়ে দেবরাজ ,  অন্য কারও সাধ্য কী যে তার আগে এই কার্য সম্পন্ন করে ! অহল্যার  মতো সুন্দরীকে পাওয়ার আশায় শুরু হয় ত্রিভুবন প্রদক্ষিণ করার ম্যারাথন রেস । যদিও  দেব অসুর মনুষ্যের এই প্রতিযোগিতায় বলাই বাহুল্য দেবরাজ ইন্দ্রই হলেন প্রথম

      এবারে মুদ্রার  অন্য পিঠে তাকানো যাক   গৌতম ঋষির তত্বাবধানে অহল্যার দিন কাটে ঋষির ফাইফরমাশ খেটে । তাঁর  আহ্নিকের যোগাড়যন্ত্র করা , তার আহার প্রস্তুত করা , তার পদসেবা করা । এবং ঋষি গৌতমও এইসব সেবা শুশ্রূষা পেতে পেতে এতটাই অভ্যস্থ হলেন যে ব্রহ্মার কথা মতো সময় কালে অহল্যাকে ব্হ্মার হাতে প্রত্যার্পন করলেও , তার মনের মধ্যে কী যেন একটা নেই নেই ভাব , কিন্তু আদতে তিনি ঋষি , সংযমই তার চারিত্রিক দৃঢ়তা  !  সুতরাং মনের ব্যাথা মনেই গোপন করে গৌতম  অহল্যাকে ব্রহ্মার  কাছে ফিরিয়ে দিলেন ।ঋষি গৌতমের এই সংযমী আচারে  ব্রহ্মা সন্তুষ্ট কিন্তু  তাঁর অগোচরে তো কিছুই নেই  , তিনি বেশ বুঝেছেন এই মেয়েকে ঋষির মনে ধরেছে   ব্রহ্মা তখন  ঋষি গৌতমকে অহল্যার পাণি গ্রহনের প্রস্তাব দিলেন অবশ্য নাম কে ওয়াস্তে সঙ্গে জুড়ে দিলেন সেই  ত্রিভুবন প্রদক্ষিণের শর্ত । ঋষি গৌতম মনে মনে অহল্যাকেই  চাইছিলেন ( ঋষিরাও তাহলে সুন্দরী অনন্ত যৌবনাকে চায় !)  কিন্তু দেবরাজের সঙ্গে তিনি কী পেরে উঠবেন , কাজেই ঘুরপথে কার্যসিদ্ধি । নিজেরই আশ্রমের আসন্ন প্রসবা  কামধেনুটিকে গোয়াল ঘরের বাইরে এনে তার চারিদিক প্রদক্ষিণ করলেন এবং ইত্যাবসরে গাভীটি এক গোবৎসের জন্ম দিলে সে জন্মলগ্ন প্রত্যক্ষ করলেন ঋষি গৌতম । ব্যাস হয়ে গেল তাঁর সবার আগে ত্রিভুবন প্রদক্ষিণ  কাজে কাজেই  শর্ত মোতাবেক অহল্যা ঋষি গৌতমের ।   হায় নারী তাকে কেউ জিজ্ঞাসাই করল না যে একেই ঋষি গৌতম যথেষ্ট বয়োবৃদ্ধ এবং  তপস্যা জনিত কারণে  বীতকাম  তদুপুরি তিনি অহল্যাকে এক্কেবারে শিশুকাল থেকে ঋতুমতী হওয়া অবধি নিজের তত্বাবধনা রেখেছেন , সেক্ষেত্রে ঋষি গৌতম আসলে অহল্যার কাছে  পালক পিতার  ন্যায় তাকেই অহল্যা কীভাবে বিবাহ করবে ! কিন্তু  মহান সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার নিদান । তার কী অন্যথা হওয়ার জো আছে ! অতএব  অহল্যা এবং ঋষি গৌতমের বিবাহ সুসম্পন্ন হল

   যে ব্রহ্মা , দেবরাজ ইন্দ্রের অতিরিক্ত মদনাসক্তি এবং ছুকছুক প্রবণতার জন্য  অহল্যাকে তার হাতে দিতে চাননি সেই ব্রহ্মাই ঋষি গৌতমের সঙ্গে অহল্যার বিবাহ নিশ্চিত করলেন ! ব্রহ্মা তো জানতেন যে ঋষি গৌতম একজন বীতকাম মানুষ তাছাড়া এতটাই  বয়োবৃদ্ধ যে তাঁর পক্ষে প্রথম রিপুর উন্মোচন খুব একটা সম্ভবপর নয় । একদিকে ব্রহ্মা দৈববলে  অহল্যাকে দিয়েছেন অনন্ত যৌবন  অন্যদিকে আবার সেই অনন্ত যৌবনাটিকে  ঠেলে দিয়েছেন  ঋষি গৌতমের দিকে ! কী দ্বিচারিতা ! এ যেন আপনি বেশ তরিবৎ করে শা জিরা  শা গরমমশলা , জাইফল জয়িত্রী  সহযোগে শাহী বিরিয়ানি  রেঁধে , বেড়ে দিলেন তাকে যার জিভে লেগে আছে কেমোথেরাপির অন্তিম ছোবল

   ব্রহ্মা এবং  ঋষি গৌতমের এহেন প্যাঁচ পয়জারে ইন্দ্রর পৌরুষ  বেজে উঠল রে রে করে । এমন সরেস   হরিণীর স্বাদ  কিনা করায়ত্ত হল এক তপোমগ্ন ঋষির ! যেমন করেই হোক অহল্যাকে  পেতেই হবে ইন্দ্র রোজ চলে আসেন তপোবনে , গোপনে লক্ষ্য করেন অহল্যাকে । তাঁর মন তৃষ্ণার্ত হয় , ইন্দ্রিয় ব্যাকুল হয়  তিনি বেশ বুঝতে পারেন  বিবাহিত হলেও অহল্যা এখনও  আক্ষরিক অর্থেই  অকর্ষিত । সুতরাং একদিন ঝোপ বুঝে কোপ । ঋষি গৌতম   নদীতে গেছেন স্নানের নিমিত্ত  বেশ কিছু সময় লাগবে ঋষির স্নান অর্চনায় ।  ইত্যবসরে  ইন্দ্র , ঋষির ছদ্মবেশে একেবারে প্রেমে গদগদ হয়ে অহল্যার কাছে হাজির । অহল্যা উদ্বিগ্ন । এত তাড়াতাড়ি মুনিবর ফিরে এলেন ! গৌতম রূপী ইন্দ্র জানায় - অহল্যার শরীরী সুধার আকর্ষণই তার ফিরে আসার কারণ । অহল্যা হতবাক । সামান্য বেশভূষা করলেও যেখানে ঋষির কাছে  ধিকৃত হতে হয় সেই তিনিই  ......     কিন্তু নারীর অনুভব ? সেই অনুভবেই ধরা পড়ে যায় গৌতম রূপী ইন্দ্র ।  ততক্ষণে অবশ্য  অভিজ্ঞ ইন্দ্রের প্রেম স্পর্শে অনাঘ্রাতা অনভিজ্ঞা অহল্যার সমস্ত তন্ মন পুলকে শিহরিত । এই প্রথম অহল্যা  স্বাদ পায়  অধরা মাধুরীর  হিতাহিত ভুলে  যৌবন ছুটে যায়  যৌবনের ডাকে । যৌবন ভুলে যায় সতর্কতা ।  তারপরই ক্লাইম্যাক্স । সত্যিকারের  ঋষি গৌতম  এসে হাজির । আর যায় কোথা ! হলেনই বা তিনি বীতকাম এবং বয়োবৃদ্ধ কিন্তু তিনি হচ্ছেন অহল্যার স্বামী , অহল্যার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা  বলে কথা ! আর সেদিনের সেই একরত্তি মেয়ে অহল্যা কিনা নির্দ্বিধায় বলে - ইন্দ্রের এবং তার যে  এই শরীরী  অনুরাগ  সেখানে অহল্যাও সমান ভাবে পরিতৃপ্ত !  এতদিনে নাকি সেই মেয়ে  যৌবনের  আঘ্রাণ সম্যক ভাবে অনুভব করেছে !  এমন কঠোর বাস্তব , সামান্য এক নারীর চোখে নিজের  এমন কাছাছাড়া রূপ  দেখা কোন পুরুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব  ! ঋষি গৌতমের পক্ষেও এই অবমাননা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি যদিও তিনি অহল্যাকে  দাম্পত্য স্বাদে বঞ্চিত করেছেন , কিন্তু তাতে কী যায় আসে ! তিনি স্বামী , আর স্বামী মানে তো মনিব । যে নারী কথা বলে চোখে চোখ রেখে  অসংকোচে জানান দেয় রিপু তৃপ্তির কথা এই মুহূর্তে  কাঠগড়ায় তোলা হোক তাকে । শুরু হোক জবরদস্ত  পৌরুষ প্রদর্শন !  অহল্যার মাথার উপর তূরন্ত নেমে আসে  ঋষির অভিশাপের খাঁড়া – এই অনিন্দ্যসুন্দর রূপরাশি আর কেউই দেখতে পাবে নাঅবশ্য  কিঞ্চিৎ দয়া পরবশ হয়ে তিনি একথাও বলেন যে  এই সত্যযুগ  শেষ হবার পর ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র যখন বনবাসে আসবেন তাঁর স্পর্শে মুক্তি ঘটবে অহল্যার । ততদিন শুধু বায়ু ভক্ষণ  ভষ্মের শয্যায় শয়ন এবং কঠিন তপোশ্চারণ এই অহল্যার নিয়তি  

তবে হ্যাঁ , ইন্দ্রও সে যাত্রায় অভিশপ্ত হলেন । সহস্র যোনি চিহ্ন ফুটে উঠল তার গায়ে । লজ্জায় আত্মগোপন করলেন ইন্দ্র । ব্যাস দেবসভায় ত্রাহি ত্রাহি রব । পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঋষি গৌতম ইন্দ্রকে দেওয়া অভিশাপ  মডিফাই করলেন  ইন্দ্রের গায়ের সহস্র যোনি চিহ্ন রূপান্তরিত হল সহস্র লোচনে , আরও  সুন্দর হয়ে উঠলেন তিনি । যেন শাপে বর  হাজার হোক ইন্দ্রও পুরুষ , ঋষি গৌতমও পুরুষ ।  আমে দুধে  মিশে গেলেন তাঁরা  একা আঁটি হয়ে পড়ে থাকল অহল্যা ।  পরে থাকল তার অনিন্দ্য রূপরাশি আর অনন্ত যৌবন নিয়ে  লোকচক্ষুর আড়ালে , পড়ে থাকল অভূক্ত পাথর প্রতিমা হয়ে

 শেষমেশ অবশ্য ত্রেতাযুগে  শ্রীরামচন্দ্র তার পবিত্র চরণ কমলখানি  রাখলেন পাষাণী অহল্যার গায়ে । শাপমুক্তি ঘটল তার । কী বিধান ! এক পরপুরুষের ছোঁয়ায় প্রস্তরীভূত আরেক পরপুরুষের ছোঁয়ায় মুক্তি  ! অবশ্য  শোনা যায় , অহল্যাকে পুনরায় নিজের মুঠোয় আনার  জন্য ঋষি গৌতম নাকি যোগবলে খুব সত্বর সত্যযুগের অবসান ঘটিয়ে ত্রেতাযুগের আগমনি ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন   হাজার হোক পুরুষ মানুষ বলে কথা , তাঁর কী  সেবাদাসী ছাড়া চলে !   

      কামনা রহিত অহল্যা ফিরে গেল ঋষি গৌতমের আশ্রমে । উঠোনে গোবরছড়া দেওয়া বাকি , সন্ধ্যামালতির গাছে জল পড়েনি কতদিন , কতদিন হল নিজের হাত পুড়িয়ে খাচ্ছেন ঋষি গৌতম ...  অহল্যার , অহল্যাদের কী  দীর্ঘদিন পাষাণী হয়ে  থাকাও  চলে !   

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন