দীপ শেখর চক্রবর্তী

 


দুটি কবিতা


সমুদ্রসারসের কবিতা


আমি তাদের দুঃখের কথা বুঝি যারা আর কাউকে তেমন ভালবাসতে পারেন না। তাদের শরীরের ভেতর এখনও যারা ঝিনুক খুঁজতে বেরোন সেইসব মানুষের হতাশার কথাও আমি বুঝি। আমি বুঝি সেইসব মানুষদের কথা যারা নদী থেকে এক আঁজলা জল নিয়ে আসতে গিয়ে ভুলে যান আঙুলের ফাঁকের কথা। এমনকী কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা নিজের ভেতর একসাথে খুঁজে পেয়েছেন সমস্ত অসুখ এবং তার নিরাময়। আমি তাদের নিষ্কৃতি দিতে চাই। এই অভিশাপ থেকে বহুদূরে নিয়ে গিয়ে তাদের শরীর পুঁতে দিতে চাই কোনও ফসলের জমিতে। আমি চাই, সে জমি উর্বর হোক। জমি উর্বর করা ছাড়া এই মনুষ্য শরীরের কী মানে?

আমি চাই নির্লিপ্ত হত্যার পরও আমার শাসন অতিক্রম করে একফোঁটা জল যেন চোখ থেকে পড়ে।

 

  

ভাষা শেখানোর স্কুল


অন্ধকারের ভাষা আছে একটি। আমি সেই ভাষা শেখানোর ইশকুলে পড়ি। যদিও মনোযোগী ছাত্র আমি কোনওকালেই ছিলাম না। সহপাঠীদের কথা আমি এখানে জানানো অনুচিত হবে। শুধু আমাদের তেমন পারস্পরিক কোনও প্রতিযোগিতা নেই। অন্ধকারের এই ভাষা শিখেছিলাম বলে ধীরে ধীরে অনেকেই আমার সঙ্গ ত্যাগ করে গেছে। তাদের ভয়ের কথা বুঝি। ঘুমোনোর সময় তারা মাথার ওপরে খুলে রাখে জানলা। দেখে এক অন্ধকার কুয়োর মধ্যে চাঁদ পড়ে গিয়ে, ভেসে আছে তার মৃতদেহ। এই বীভৎস দৃশ্য থেকে ভয় পাওয়া, বিশেষ অপরাধ নয়। অন্ধকারের ভাষা শিখেছিলাম বলে আমি বুকের ভেতর একটা ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে রেখেছি। যাতে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কোনও অসুবিধে না হয়। যারা সিঁড়ি দিয়ে নামে, তাদের ভেতর কেউ নেই। শুধু রোল কল হলে তারা নীরবে হাত তুলে, বসে পড়ে।

অন্ধকারের ভাষা আছে একটি। সেই ভাষা শেখানোর স্কুলে গিয়ে আমি চুপচাপ সিঁড়িতে বসে থাকি।   

              

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন