সজ্জ্বল দত্ত

 


একবিংশ শতাব্দীর বাংলা কবিতা : প্রথম দু'দশক



     কবিতা নিজ আত্মার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এ' নিয়ে নিশ্চয়ই দ্বিমত নেই । তবে সময়ে সময়ে নিজ আত্মার চাহিদার দিকনির্দেশ যে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে সময়যাপনের প্রভাবে যথেষ্ট প্রভাবিত হয় -- মানি আর নাইই মানি , এ একেবারে আগুনের মতো সত্যি ।  এখন প্রশ্ন হল এই " সময়ে সময়ে " কথাটির গাণিতিক তাৎপর্য " দশক " অর্থাৎ " দশ বছর " কিনা ! ... সুখের কথা ,"এবং সইকথা "র সম্পাদক  দশ নয় কুড়ি বছরের সময়সীমার মধ্যে বাংলা ভাষায় কবিতা লিখতে আসা তরুণ কবিদের কবিতা নিয়ে আলোচনায় আহ্বান করে আলোচকের জন্য সময় ধরার ক্ষেত্র যেমন অনেকটা বাড়িয়ে বড় করে নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছেন, তেমনি আলোচনার নিজেরও বড় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কিন্তু হয়ে উঠেছে ষোলোর ওপরে আঠারো আনা ।

   এক্কেবারে শুরুতেই এ' কথা নির্দ্বিধায় বলে ফ্যালা ভালো , ঠিক যে সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে  বিগত কুড়ি বছরে কবিতা লিখতে আসা তরুণ কবির দল তাদের কবিতাযাপন শুরু করেছে তেমন প্রেক্ষাপট বোধ'য় বাংলা কেন গোটা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি ।  বিগত শতাব্দীর সবকটি দশকের থেকে এ' সময় নিশ্চিতভাবে  আলাদা । শূন্য দশককে শুধু শূন্য দশক ভাবলে চলবে না , নতুন একশো বছরের প্রথম দশ বছর । একের দশক হচ্ছে দ্বিতীয় দশ বছর । ... গ্যাটচুক্তি পরবর্তী  নতুন অর্থনীতি , বিশ্বায়ন , চারপাশে তার সবরকমের অনিবার্যপ্রভাব এবং যথারীতি প্রভাবিত কবিমননও  - এই হল প্রথম দু'দশকের কবিতার পটভূমি , তাকে সঙ্গে নিয়ে  কাব্যশিল্প , তাকেই জড়িয়ে দশকের কবিতার স্বর ( বা , কুড়ি বছরের কবিতার  স্বর ) । ... নির্দিষ্টভাবে ঠিক কেমন এই স্বর ? আলাদা কোনো কিছু ?..." ধ্বনিয়া উঠিছে শূন্য নিখিলের পাখার এ গানে / হেথা নয় অন্য কোথা অন্য কোথা অন্য কোনখানে " , ..." গাঢ় অন্ধকার থেকে আমরা এ-পৃথিবীর আজকের মুহূর্তে এসেছি / বীজের ভেতর থেকে কী করে অরণ্য জন্ম নেয় / জলের কণার থেকে জেগে ওঠে নভোনীল মহান সাগর / কী করে এ-প্রকৃতিতে - পৃথিবীতে " , ..." একটি সুনীল মাছ একবার উড়ে / দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে স্বচ্ছ জলে / পুনরায় ডুবে গেল - এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে / বেদনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হল ফল  " , ... " ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও /  আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক " , ..." যতদূর চোখ যায় এক কোমর উলু / মাঝেমধ্যে খাড়া তালঝাঁকড়ায় বাবুই-এর বাসা / নিজেকে ভালোবাসতে এরকম মেঘবৃষ্টি চাই / নিজের কাছে চাই চুপচাপ বসে থাকার সময় " , ... " চকিতে তুচ্ছ পাতা নড়ে / শব্দে কোনো দাহ নেই / শব্দ বড় আকস্মিক / কোনো শব্দ বিদ্ধ করে তাকে ? / পোড়ায় অন্তর-মূল লক্ষ কোষ ছাই হয়ে পড়ে থাকে / মানুষেরই এই মৃত্যু এই বেঁচেবর্তে থাকা এই আত্মআবিষ্কার / পিছনে দোদুল্যমান পরিণামহীন ছায়ার বিস্তার / মানুষই মানুষকে খায় চিন্তা দিয়ে / তারপর ফিরে যায় আপন সৌরভ নিয়ে  " , ..." মা দিয়েছিলেন যেটা - সেই মন্ত্র জাগানো মাদুলি - / সেটা কোনখানে আছে ? আর চোখে পড়ে না কিছু তো / বনের ওপর দিয়ে শুকনো হাওয়ার ঝাপটা মুঠো করে ধরে / শূন্যপথে ফিরে চলি /  ওদিকের মাঠে একা পড়ে / চাঁদের  আলোয় জ্বলে আমারই মাথার সাদা খুলি " , .... " প্রথম অধ্যায়ে ছিল ধারালো অপ্রেম / তারপর তীক্ষ্ণতর শুশ্রূষার ছলা / দাঁতে-নখে খেলা করে প্রপঞ্চশরীর / শরীরে ইন্দ্রের চোখ চোখে চন্দ্রকলা / ত্রিবেণীর ঘাটে জাগে মধ্যরাতে চাঁদ / সে-জ্যোৎস্নামারণ লেগে ছেড়েছি সংসার / ছেড়েছি শরীর ডোম্বী-শবরী শিক্ষায় / শরীরে জ্বলেন রক্ত রক্তে মহামার " । ..... মোটামুটিভাবে  এইরকম একটা জায়গাকে যদিপর্যায়ক্রমে  গোটা গত শতাব্দীর বাংলা কবিতা বলে ধরি , তাকে পাশে রেখে এইবার তবে ঢোকা যাক নতুন শতাব্দীর প্রথম কুড়ি বছরের কবিতায় । ... অকারণ দীর্ঘ করে লাভ নেই । কান পাতলে যে অন্যরকম কথাগুলো শুনতে পাই সেগুলোর প্রেক্ষিতেইবরং এগোক আলোচনা ।

১ ) পাঠকপ্রিয়তার অভাব :- ...

........................................................................                                     যে ভঙ্গীতে  কবিতা প্রকাশিত হয় তাকে  শব্দের নিছক সূক্ষ্ম  শৈল্পিক প্রকাশ শুধু বললে বোধহয় চলে না , প্রকৃতপক্ষে কবিতা সূক্ষ্মশিল্পগুলির মধ্যে সূক্ষ্মতম শিল্প । কিন্তু আমপাঠকের শিল্পবোধের অবস্থানটা ঠিক কোথায়? তা কি শব্দপ্রয়োগমাধ্যমে সূক্ষ্মতম শিল্পের প্রতি রসবিন্দু চেটেপুটে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত ?

" অস্থায়ী রং মশাল হয়ে থাকা সোনার পাথরবাটি / বাতাসের মধ্যে অপদ্রব্যের মতো মিশছে কালো চুল / ঢক্কানিনাদের উপস্থিতি বাড়ছে / টিউলিপের উরু উন্মুক্ত বেরং / দৃশ্যত বৃন্ত ধরে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র এঁকেছে / মথিত উদ্গীরণের জন্য আয়োজন প্রস্তুত "  । ... অন্য একটি কবিতাংশ --  " এখন সাগরের হলুদ পাঞ্জাবিটি নীল রঙের অযৌন জরায়ুজ , / আলোকবর্ষের নীচে দাঁড়ানো অযোগবাহ নক্ষত্রেরা / জীবাশ্মহীন জীবনপাঠে রত থাকা হলুদ মেহগিনি পাতাটি ভরে রাখেন আবৃত দশমিকের মাথায় / নাগেশ্বর তিনি এই অপরাজিতা তলায় / তারপর আমি আর হোমার একসাথে ১০০ এম.এল হেমলক ভাগ করে খেয়ে / অবনত মুখে গুহার লিপিগুলো পড়ে ফেলতে পারবো / নেশাখোর লাল রঙের নার্স রোগীদের মতো " ।

     লিরিকপ্রধান বাংলা কবিতার শরীরে কোথাও কি  ভীষণ একটা ছটফটানি ? অস্বস্তি ?...  সচতনে ?  নাকি অবচেতনে ?... যেটাই হোক , পাঠকের কাছে 'প্রিয়' বলতে ঠিক যা বোঝায়,এই কবিতা পাঠকের সেই প্রিয়তা পাবেনা তো! পাবেনা এটাই স্বাভাবিক। আমপাঠক ট্র্যাডিশনকে নিয়েচলতে অভ্যস্ত যে।

২ ) বড় বেশি ব্যক্তিগত , মূল ভাববস্তুর যুগ ও সমাজের বিরুদ্ধে সরাসরি দাঁড়ানোয় অনীহা :- .........................................................................  কবিতার মতো শিল্প ' বিরুদ্ধে ' ঠিক কিভাবে দাঁড়াতে পারে ? স্পষ্ট ভাষায় জেহাদ ঘোষণার মাধ্যমে ? কবিতা কি কবিতা আর থাকে তখন ? কী হলে ঠিক কী হয় , সে আলোচনার বদলে বরং পড়া যাক কবিতার লাইন । Example is better than precept

"পৃথিবীর ঠোঁট থেকে ওড়ে ক্যাকটাস / পুঁজ খসে ভেঙে পড়ে নিথর বসত / অর্গলহীন রাত্রিযাপন / চপার খেলার শেষে উড়ছে করোটি / মাটি জল সব যেন নাচনী পিঙ্গলা / আকরের লোহারঙে ডুবে আছে ক্যানভাস / পত্রমোচনের দিকে ছুটে যায় সাপ / খোলসে খোলসে তার ব্যথা লেখা আছে / বিমূর্ত অক্ষর যত মাটিখসা লেগে আছে / আকাশের গায়ে " , ... আরও একটি কবিতাংশ-- " পাতলা হয়ে আসে ইস্ট্রোজেনের বিকেল / রঙিন চুলের সিলভার লাইনে হালকা স্বপ্নের শ্যাডো ব্লেণ্ড: / আহা ! ত্বকের যত্ন নিন ! ত্বকের যত্ন নিন ! / চড়ুই সকালের ঝিলিক খেলা করে / ঘটমান অতীতে " । .... পত্র মোচিত হচ্ছে এবং তার দিকে ছুটে যাচ্ছে খোলসে খোলসে ব্যথা লেগে থাকা সাপ । ব্যক্তিগত ? ব্যক্তিগত ছাড়া কবিতা হয় নাকি ? এই আলোচনার এক্কেবারে প্রথম লাইনটিতে আর একবার ফিরে যাই ।  কবিতা নিশ্চিতভাবে আপন আত্মার সঙ্গে কথা বলা । কিন্তু এ' আপন , বৃহত্তর কোনো একটি জায়গায়  এতদিনের গতে বাঁধা সমাজযাপনের বিরুদ্ধতার সাথে মিশছে না ?  ...মিশছে , মিশছে , "zaনতি পারো না ! "... দ্বিতীয় উদাহরণে যে তীব্র স্যাটায়ারের ছোঁয়া, সে ব্যঙ্গ যদি সমাজচলতি যুগধারার বিরুদ্ধে না হয়ে নিছক ব্যক্তিগত অতীত-বর্তমানের তফাৎ বলে মনে হয় , তবে নির্দ্বিধায় বলছি , হয় এ' লেখা কবিতা নয় , স্মৃতিচারণ, অথবা এ এক অত্যন্ত আধুনিক কবিতা এবং এ দূর্ভাগ্যএকান্তভাবে  পাঠকের । 

    ৩ ) নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের বদলে বরং রাজনৈতিক দর্শন থেকেই পুরোপুরি সরে থাকার প্রবণতা :-....................................................................      কদিন আগে পড়ছিলাম " এক " দশকের একজন কবির  একটি কবিতার বই । সেখান থেকে উদ্ধৃত করি ।.... " এক টুকরো মাটির লোভে / চতুষ্পদী শর্ত জেনে / কিছু মানুষের মতো দেখতে জীব উনুন বানায় / আর মাঝের দৈব ধারাকে উপেক্ষা করে অপলক চেয়ে থাকে / মণিকর্ণিকার অনন্ত আগুনের দিকে । / যার দেশ নেই , তার শুধু অন্নের প্রত্যাশা থাকে । / আর চিতা থেকে চুরি করে আনা আগুনের স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে / অন্নপূর্ণার চোখ জটার আড়াল খোঁজে " । .... আর একটি ( একই বই থেকে ) -- " মৃত শরীর থেকে উঠে আসা জ্যান্ত রজনীগন্ধায়  ডুবে যখন ডোমনীর ভাস্কর্যের দিকে চুল্লির ব্যাসার্ধে তাকালে , প্রবাহ সাক্ষ্য দিল , ক্ষুধাকে ভোলাতে পারে , পৃথিবী এখনো সে-শোক প্রসব করেনি " । ..... নারীর নিজস্ব আবেগ অদ্ভূত ভঙ্গিমায় জড়িয়ে থাকলেওএ' আলোচকের কাছে ism-এর  নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনও একদম স্পষ্ট । সবচেয়ে বড় কথা , এ' কবিতা বুঝিয়ে দিচ্ছে নতুন শতাব্দীর কবিতায় রাজনৈতিক দর্শনধারার প্রকাশে " বেয়নেট হোক যত ধারালো " বা " সবচেয়ে ভালো খেতে গরীবের রক্ত "র যুগ শেষ । এখন কবিতা রাজনৈতিক দর্শনে মাতাবে না , শুধু বোধের গভীরতায় থাকা রাজনৈতিক ভাবনাটিকে কাব্যিক মাধ্যমে ছুঁয়ে বেরিয়ে যাবে । বাকি কাজ পাঠকের । 

৪ ) কবিতা পড়লেই বোঝা যায় নিমগ্ন সাধকের নিষ্ঠার অভাব , ফলতঃ আবেগে খামতি , অধিক মস্তিষ্কপ্রধান, অধিকতর নির্মাণসর্বস্ব :-......................................................................কোনো এক সময় নিমগ্ন সাধক বলতে ঠিক যে ছবিটি চোখের সামনে ভেসে উঠত , পরিবর্তিত সময়যাপন যুগযাপন কি নিমগ্ন সাধকের ঠিক একই ছবিকে অনুমোদন করে ? ... আবেগ ও মস্তিষ্কের যুগপৎ ব্যবহারে জীবন চলে , আর কবিতা জীবন বহির্ভূত ? ....  নির্মাণ ?  বরাবর কবিতায় ছিল , শেষ কুড়ি বছরে শুধু নির্মিত হওয়ার ভঙ্গীটি পাল্টেছে । "কৃমিকীট"দের অভিযোগ সর্বযুগে ছিল , আছে , থাকবে , ওসবের উত্তর দেওয়া ছেড়ে পড়া যাক কবিতা ।

" জীর্ণতার ধুনি জ্বেলে বুকে / পড়ন্ত বেলার আখ্যানে / লেখে নাকি নিজেই সে লেখা / আত্মবোধের খতিয়ান / # / আগুনের সারিগান যেন / চিরায়ত দিন জ্বলবার / বাজানোর প্রথাটি নতুন / এটুকুই সারসত্য তার "... কি মনে হচ্ছে আবেগে খামতি ? কবিতা ভেতর থেকে অনুভূতির ছন্দদোলায় জড়িয়ে  উঠে আসছে না ? .... আর একটি । ... "নিঃসঙ্গ উটের শরীরে গোলাকার ছায়া পড়ে আছে / ডাক্তারবাবু জড়িবুটি প্রাচীন শিলাজিত খুলে এখানে বসুন / রাত্রি-সরাইখানায় খেজুরের অশ্রু ঝরে পড়ে / কালো চামড়ায় থলির ওপরে " । শূন্য দশকের কবির কবিতার লাইন । একেবারে একশো শতাংশ নির্মাণসর্বস্ব ? .... আরও একটি । " এ শরীর ভাঙো । ভাবো শূন্যতা ছাড়া নিভৃতে পুড়িয়েছ কাকে । যাকে লিখেছ ভেবে মুছে চলেছো , আদৌ কতটুকু ছিল সে । এত রন্ধ্রপথ শুধু বেনোজল ঢোকে । ডুবে মরি । শস্যসাধনা বৃথাই আমায় চৈতন্য দাও হে হরি । না পারো নিয়ে চলো বহুদূর বিন্দুর গর্ভে । যেখানে তীব্র রূপ আর পুঞ্জ পুঞ্জ আলো তুমি নির্বেদ এসো চরণ ধুয়ে দেই " । ... অদ্ভূত এক নিবেদনী আবেগ গোটা কবিতার প্রকাশভঙ্গী জড়িয়ে । একেও যদি মস্তিষ্কপ্রধান বলি , নির্মাণসর্বস্ব বলি , তবে নিশ্চিতভাবে তা পাঠকীয় অনুভূতির ঘাটতি  প্রমাণ করে । কত উদাহরণ দেবো ? আর একটা পড়া যাক । ... "অবাধ্য হলেও মেয়েটিকে হত্যা না করেই / স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যাবে বরুণ-অগ্নি-যম / দশ গ্রাম কলমিশাক সমেত ভাত বেড়ে দেবে / মথুরা নারী / মাথুর হবে শান্ত সমারোহে / ডুমুরপাতায় টাল খাবে কোকিলের ডিম " । ... নতুন শতাব্দীতে নতুন যুগে দাঁড়িয়ে কী অদ্ভূত শৈল্পিক উচ্চারণে নারীহৃদয়ের গভীরতমস্থল থেকে উঠে আসা আবেগী বিদ্রোহের কাব্যরূপ ! এও মস্তিষ্কপ্রধান? 

৫ ) বিষয়কে প্রবলভাবে কবিতায় রূপান্তরিত করারপ্রচেষ্টা  : -- ........................................................................                                                                  ' রূপান্তরিত করা ' মানেটা কি ? '  বিষয় ' কবিতা হয়ে উঠে এসেছে বরাবর , সর্বসময় । অজস্র উদাহরণ আছে এর , সে উদাহরণ সামনে এনে এই গদ্যকে আর ভারাক্রান্ত করছি না । বরঞ্চ একটু ভাবা যাক , ঠিক কেমন বা কী ধরনের কবিতার প্রতি চোরাগোপ্তা এই অভিযোগ আসতে পারে ।

"ঠোঁটে রেখে গেছে জলের শতাব্দী / চিবুকে তীব্র ধনেশ / ব্যস্তানুপাতে শুয়ে আছে কেউ / ঝাঁঝরা বায়ুতে মৃত মৌনের ঢেউ / #/ জিভের গায়ে লেপ্টে আছে শীত / অপরাহ্ন , কত সন্ন্যাসী চলা পথ / দৃশ্যে রেখে গেছে যত উপসংহার / মানুষ কেবল নির্বাসন , রাত্রির উপাচার"

   যদি ধরে নিই ,  মানুষ কেবল নির্বাসন বা নির্বাসনে - এটাই কবিতার বিষয় হয় , মূলত: কবির বলতে চাওয়া কথা হয় , তাহলে জিজ্ঞাস্য এই যে ,  কোট্ করা সম্পূর্ণ  কবিতাংশে তার প্রতিফলনে কোনো ইঙ্গিতময়তা কোনো কাব্যিক সাঙ্কেতিকতা খুঁজে পাওয়া গেল না ? কবি তো একটা কিছু বলতেই চায় যা তাকে অন্তরে পীড়া দেয়, ভেতরপুকুরে বুদবুদের মতো বুড়বুড়ি কাটতে থাকে । " ঠোঁটে রেখে গেছে জলের শতাব্দী " এই লাইনে সময়ের নিরিখে কাব্যিকবিস্তৃতি নেই ? " জিভের গায়ে লেপ্টে আছে শীত " কোনো কাব্যিক রহস্যময়তা নেই ? কিমাশ্চর্যম !

৬ ) মাত্রাতিরিক্ত রূপকের ব্যবহার । কখনো কখনো তা এত বাড়াবাড়ি রকমের সূক্ষ্মতায় যে ঋদ্ধ পাঠকেরও গ্রহণ করায় রীতিমতো অস্বস্তি :-............................................................................" ঋদ্ধ " কে ? " ঋদ্ধ "র গুণগুলি ঠিক কী কী ? কবিতা পুরোনো প্যাটার্ন ভাঙার চেষ্টা করলেই " নিতে পারছি না বুঝতে পারছি না গ্রহণ করতে পারছি না "র সমস্যা সর্বযুগে " । কবিতা গলগলে আবেগাশ্রিতর পাশাপাশি   রূপকাশ্রিত নয় কোন সময়কালে ?  রূপক অতি  সূক্ষ্মতায় কাব্যিক শিল্প হয়ে উঠতে পারলে সে শিল্প তো বরং শ্রেষ্ঠতম কবিতা । 

" সোনালী সিংহের কান্না খাঁচা চাপা দিতে পারেনি । / সবুজস্থলীর স্পন্দন আঙুলে ছুঁয়ে বিহ্বল এমন শতাব্দীর অপেক্ষায় / সিংহকেশর দোলাচ্ছে ঢেউ সিংহকে আমন্ত্রণ জানিয়ে । / আমাদের মার্চপাস্ট বালির কাঁকড়ার স্তত্রতায় সুন্দর দেখাচ্ছে । / উপশম ঝরাতে ঝরাতে ওষুধরাও রাতের তারা । / কান্নাপ্রধান তারাদের জোড়চেলী সামুদ্রিক/ হাওয়ায় মাছুয়াদের হাতে নীলরক্তের কাঁকড়া ধরিয়ে দেয় । / এদিকে অশোকছাতা ছুঁয়ে পা ঋতুমতী । ".... ঠিক এইখানেই হয়ত নতুন শতাব্দীর নতুন সময়যাপন ব্যক্তিগতযাপনের এই  চূড়ান্ত রূপক কবিতাটির সামনে দাঁড়িয়ে ঋদ্ধ পাঠকের অনুভূতি  বলে ওঠে " সিংহেরই তো কেশর ! ঢেউ সে কেশর দুলিয়ে আবার সিংহকেই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ? এ কিরকম ? " -  খুব স্পষ্ট কথা , এই যদি কবিতাবোধ হয় , কবি নাচার । ঋদ্ধর ঋদ্ধতায় সমস্যা । .... "জেগে থাকা চোখের দিকে তাকালে / বিস্তৃত মণি আরো সাদা জ্ঞানগর্ভ হয়ে যায় / খুলে রাখা ক্লিভেজের দিকে তাকালে / চাঁদের ওপিঠে মৌমাছি ডানা মেলে " ।... কী অসাধারণ রূপকের ব্যবহার! এ' কবিতা বরং নতুন শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বাংলা কবিতাধারাকে গর্বিত করে , গভীর পাঠে অনির্বচনীয় আনন্দ দেয় ।

 

 সব মিলিয়ে তাহলে কি দাঁড়াল ? ... সমস্ত দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে এইই কি তবে শতাব্দীর প্রথম কুড়ি বছরের কাব্যদর্শন  যে কবিতা কোনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মাধ্যম নয় , কোনো পাঠক মাতানো মঞ্চসাফল্য পাওয়া এর লক্ষ্য নয় , কবিতা লিখে যায় কবি পাঠকপ্রিয়তার কথা না ভেবেই ? উচ্চকিত স্বরে প্রিয়তা অর্জন নয় , এই কুড়ি বছরের কবিতায় অত্যন্ত স্পষ্ট নিম্নস্বর অভিব্যক্তি ।  ... শূন্য ও এক দশকের কবিতা মানে সেই সময়ের কবিতা, যখন যন্ত্রসভ্যতার সুফল ও কুফল দুইই মোটামুটিভাবে পেতে শুরু করেছে মানুষ । আবেগ সরছে পিছনের সারিতে , স্বাভাবিক বুদ্ধির জায়গা নিতে চলেছে আর্টিফিসিয়াল ইনট্যালিজেন্স । ফলতঃ তথাকথিত ঋদ্ধর অভিযোগ স্মার্ট কবিতার , যার পাঠ নাকি পাঠককে দেয় একধরনের আপাত ভালোলাগা আপাত শান্তি , কিন্তু চিরস্থায়ী গভীর প্রশান্তির অভাব । কে বোঝাবে তাকে ,  অস্থির সময়ের দাবী অনুযায়ীই হয়ত এ' কুড়ি বছরের কবিতার আলো থেকে অল্প অল্প করে কোনো গভীর অন্ধকারলোকের দিকে যাত্রা । .... "আষাঢ় পর্যন্ত দুধের দিকে " ধ " / গলা পর্যন্ত " কে " আকারের মা ও মধু / দিয়ে দিচ্ছি চেনা মানুষের ব্রত / ব্রতপাখির তীক্ষ্ণ পা / প্রজন্ম যদিও শিকার করছি ড্রিল মানুষের মুখ / আমরা মুখবালা " । ...  আবার কখনো দিনান্তের  অন্ধকার শেষ করে আপন অন্তরের অদ্ভূত একাকীত্বকে সঙ্গী করে  অনন্তের আলোয় মিশে যেতে চাওয়ারও প্রবল আকাঙ্ক্ষা । ... "শীতল এক দীঘির ধারে যেন একা ... একদম একা / অনন্তে মিশে যেতে যেতে প্রাণপণে চাইছিলাম শেষ হোক / সবটুকু ভালোমন্দ নিয়ে জেগে থাকা এই / দিনান্তের সবটুকু.... "। কখনো এইমুখী কখনো ওইমুখী এই কুড়ি বছরের কবিতার নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট  অবস্থান বোধহয় সুনীল গাঙ্গুলীর নীরাকবিতার সেই লাইনগুলোর খুব কাছাকাছি , "... দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে / দিকচিহ্নহীন " । বোঝা যায় না , ...স্পর্শসুখ বহুদূর  । শুধুমাত্র  কল্পনায় নয় ,  কল্পনাশক্তির সঙ্গে কোনো এক অদ্ভূত যাপনে মিশে গিয়ে পূর্ণ শৈল্পিকবোধের ডালপালা মেলে অনুভব করতে হয় কবিতা নামক এই শব্দ উচ্চারণের আলোহাওয়া ।  ... "যে রোদ আঁকা যায় না যে পাখি লেখা যায় না / যে সমস্ত ডালপালা জড়িয়ে রাখে চোখ , পলক আঁখি / যে বৃক্ষ যে দলিতবৃক্ষ বুকের ভেতর রুইছে ধানভানা / সেই শব্দ উচ্চারণ কি মুখের কথা ? / সমুদ্রের তলদেশে সরবতের শিখা " ।  এই উচ্চারণই নতুন শতাব্দীর প্রথম কুড়ি বছরের কবিতাবোধের শেষ কথা জেনে তবে নতুন শতকের কবিতাকে গ্রহণ করতে এগিয়ে আসুক পাঠক । ঝলসে উঠুক তারও নতুন অনুভবের দীপ্তি ।  

     আলোচনা এখানেই শেষ করা যেত । কিন্তু আর একটি ছোট্ট প্রসঙ্গের অবতারণা বিনা কিছু অসম্পূর্ণতা যে থেকেই যায় ! শুনেছি , " আমার একটিমাত্র পরিচয় সে আমি কবি মাত্র " । অতএব ভাষা ও স্থানের সীমা অতিক্রম করে কবিতারও নিশ্চয় একটিমাত্রই পরিচয় , কবিতা কবিতামাত্র । তো কথা হচ্ছে, এই কুড়ি বছরের বাংলা কবিতা কি সে' সীমা অতিক্রম করতে পেরেছে ? বিশ্বায়ন যখন , কবিতারও নিশ্চয়ই বিশ্বায়ন । বাংলা কবিতার পাশাপাশি এই দু'দশকে ইংরেজী ভাষায় লেখা তরুণ কবিদের কবিতা লেখালেখি ঠিক কোন পর্যায়ে সেইদিকে যদি একটু দৃষ্টি ফেলি ! কুড়ি বছরে কোনো নতুন ভাঙচুর ? নতুন কোনো ফর্ম ? নিজস্ব ক্যাথারসিস কাব্যিক শিল্পমাধ্যমে উপস্থাপিত করার নতুন কোনো আঙ্গিক যা পূর্ববর্তী ইংরেজী কবিতায় কখনো কোনোসময় পাওয়া যায় নি ? ... কিছুদিন আগে আমি আমার ফেসবুক প্রোফাইলে স্কটল্যান্ডের প্রত্যন্ত গ্রামের একেবারে তরুণ এক কবির" Compass-Point Lullabies for Emily "নামের কবিতাটি পোস্ট করেছিলাম । "এবং সইকথা " র পাঠকদের জন্য সে' কবিতাটি আর একবার রাখছি এখানে । 

             Compass-Point Lullabies for Emily

           .............................................................

 North

_______

Someone re-threads a fishing rod by torchlight

then re-beads the line with Ugie droplets.

Later he reels in floundering silver

wraps it in newspaper then walks homewards.

 

East

______

Waves crack their knuckles on shadowed sea-walls

and suck their teeth through rust-ribbed lobsterpots.

At the sailing club, sails dry into the night.

A woman closes shutters like oak eyelids.

 

South

_______

Instead of milk-pails, men pile up oil-drums

to blot the moon.  Their hearts tick in time to

the spattering pipelines and rain on hard-hats.

They shine torches on skeins instead of helicopters.

 

West

_______

Combine harvesters hum into the night

spitting stems in wake across rutted earth.

Sparrows chorus with the farmer’s whistles.

They guide him home, flitting between branches.

 

             ছন্দপ্রবাহধারা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত অদ্ভূত এক সূক্ষ্মতায় রূপকধর্মী শব্দের অসাধারণ ব্যবহারে কিভাবে আবেগকে " অতি " পর্যায়ভুক্ত না করে চূড়ান্ত সংযমী স্তরে রেখেই তাকে চরম কাব্যশিল্পময় করে তুলতে হয় তার উৎকৃষ্ট নিদর্শন বোধহয় এই কবিতা ।

             এতক্ষণের আলোচনায় যথেষ্ট পরিমাণে বিগত দু'দশকের বাংলা কবিতার কবিদের কবিতাংশ রেখেছি । সুতরাং এই কবিতাটির পাশাপাশি তেমন কোনো  কবিতা আর একবার রেখে কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা আমি করবো না । পাঠক এ' তুলনা আপন অন্তরে আপনি করবেন । আমি বরং আরো এক দুটি ইংরেজী ভাষায় কাব্যচর্চা করা বিগত দুটি দশকের মধ্যে উত্থান এমন তরুণ কবিদের কবিতাংশের উল্লেখ করি ।

       মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ( পড়ুন ' তরুণী ' ) বহু পুরস্কারে ভূষিত ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য কাজে যোগ দেওয়া এক অধ্যাপক কবির  ২০১০ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "ideal cities "এর একটি কবিতা থেকে নেওয়া এই লাইনগুলো :

"'place has views of black cows

                               heads bent

   some galloping across a field " .

কিভাবে  অনুভব করা যাচ্ছে , পাঠক ? কাব্যগ্রন্থের নামটি ধ্যানে রাখবেন - "ideal cities "।

        ভারতবর্ষে আসি । ভারতীয়র ইংরেজী কবিতাচর্চা । দিল্লী নিবাসী হিন্দী ভাষাভাষি তরুণ ( পড়ুন ' তরুণী ' ) আর একজন কবির একটি ছোট্ট চার  লাইনের কবিতা :

"'have rain outside

             a window to watch it through

            ....... no business not being in love

                                        with the world "

    আবারও বলি ,  বিগত দু'দশকে অতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতময়তায় হৃদয়ের একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ থেকে পারিপার্শ্বিক আবহ , যে কোনো ভাব কবিতাশিল্পে প্রকাশ করার যে ইংরেজী কবিতার ধারা তার পাশাপাশি এই দু'দশকে বাংলা কবিতাধারার আন্তর্জাতিক  অবস্থান নির্ণয়ের কাজটি অবশ্যই করবেন পাঠককূল । স্বল্প পরিসরের এই আলোচনায় আমার এই প্রসঙ্গ টেনে আনার উদ্দেশ্য শুধু কয়েকটি উদাহরণ সামনে আনা ।

তবে বিগত দু'দশকের কবিতা পড়তে গিয়ে একটি কথা বারবারই মনে হচ্ছে , মোটামুটিভাবে এতদিনের সযত্নে সাজানো পুরুষশাসিত  কবিতাসাম্রাজ্যে বিজয়া মুখোপাধ্যায়, দেবারতি মিত্র, গীতা চট্টোপাধ্যায়, সুতপা সেনগুপ্তর মতো স্বল্পসংখ্যক কয়েকজন নারীর কবিতা লেখালেখির সঙ্গে পরিচিত বাঙালী পাঠকের কাছে আটের দশকে এসে রাহুল পুরোকায়স্থ , জয়দেব বসুদের কবিতার পাশাপাশি অনুরাধা মহাপাত্র, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জলি দাশ, মল্লিকা সেনগুপ্ত, রূপা দাশগুপ্তদের মতো একসঙ্গে একঝাঁক কবির কবিতায় নারীর একান্ত ব্যক্তিগত যে অনুভূতির আবরণ উন্মোচিত হয়ে সামনে এলো , তাকে অবশ্যই নতুন আঙ্গিকে নতুন মোড়কে সার্থক ,  সুদীপ্ত , অয়ন , সুমিতেশ ,  দেবজ্যোতিদের সঙ্গে নয়ের দশকে কবিতা লেখালেখিতে সমান তালে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন যশোধরা , রোশনারা ,  মন্দাক্রান্তা ,  পাপড়ি , বুবুন রা । শুধু আটের দশকের ধারা এগিয়ে নিয়ে গেছেন এমনও নয় , তাকে আরো বৃহত্তর পরিসরে সমাজনীতি রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে রীতিমতো মিশিয়ে দিতেও সক্ষম হয়েছেন । ... বিগত দুটি দশকের ( শূন্য ও এক ) কবিতার নিবিড় পাঠে যেন মনে হয় এই " পাল্লা দিয়ে " শব্দটি বোধহয় এবার একশো শতাংশ  তুলে নেবার সময় হয়েছে । ভাবগাম্ভীর্যে সূক্ষ্ম ইঙ্গিতময়তায় রূপকধর্মীতায় সমস্ত দিক দিয়ে বোধহয় তারাই এগিয়ে অনেকটাই এগিয়ে । ... "এবং সইকথা " র সম্পাদক ও পাঠককূল ক্ষমা করবেন , আলোচনার শেষবেলায় এসে এই কথা কয়টি লেখা দু'তরফকে পরস্পর লড়িয়ে দেওয়ানোর জন্য নয় । এ' একেবারেই একটি ব্যক্তিগত মনে হওয়া , শুধু বাংলা কবিতা নয় , বিগত দু'দশকের কবিদের নিরিখে ইংরেজী কবিতায়ও ।

            শূন্য ও এক , এই দু'দশক জুড়ে বা আটের দশকের শুরু থেকেই কি প্রকৃতপক্ষে নারীর এমন পরাক্রমী কবিতাযাপন ? ... এ' প্রসঙ্গে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিমান  তরুণ একজন  কন্নড় কবির ২৯ শে সেপ্টেম্বর ২০১৩ তে টাইমস্ অফ ইণ্ডিয়ার ব্যাঙ্গালোর সংস্করণের রবিবার এর পাতায় দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের দিকে প্রত্যেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাই । ... প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন ছিলো "we see that poetry is kept alive mainly by women now . What's your view in this context ? Would you say that's true of most of the Indian languages and  English poetry ? "

কবির উত্তর  : "No , not at all . Actually literary history fails to document sufficient women poets , rewriting of histories by women's movement in the world of poetry cangive us a fair idea of the situation . Today it is easily documented and hence you think that women have made a mark as poets in different languages throughout the world " .

       নতুন দশকে এর  সত্যি / সত্যি নয়  উদ্ঘাটনে কোনো অনুসন্ধিৎসু গবেষক-প্রাবন্ধিক এগিয়ে আসেন কিনা দেখার তীব্র কৌতূহল রইল । সাথে বাংলার কবিতাপাঠককূলএকাগ্র চোখে তাকিয়ে রইল দুইয়ের-তিনের দশকের তরুণতম  কবিদের কবিতা লেখালেখির দিকে , তাদের মনকলম বেয়ে  কবিতায় নেমে আসুক   অন্যতর কোনো ঘাত-প্রতিঘাত , শব্দপ্রয়োগ কিংবা ফর্মে নতুন কোনো ভাঙচুর । কোনো লড়াই নয় , আদতে এই সবার সবটুকু একসঙ্গে মিলে  নিশ্চিত সমৃদ্ধ করবে বাংলা কবিতাকে , পাঠকের বিচারে সত্যিই  আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে পারলে বিশ্বকবিতাকেও ।



 ছবি ঋণ:সুবল দত্ত

 


৩টি মন্তব্য:

  1. এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। অনেককিছুই ছুঁয়ে গেলেন। খুব সুন্দর আলোচনা করলেন।

    উত্তরমুছুন
  2. সজ্জ্বল দত্তের এই যে বৃত্তের মধ্যে ও বৃত্তের বাইরে আনাগোনা আর নিজেদের অবস্থান বুঝতে নেওয়া, এই জমিটি চেয়েছে প্রত্যেক কবি। বিদ্যুৎচমকগুলি তিনি যথার্থ তুলে ধরেছেন। নারীপুরুষের দ্বন্দ্ব নয়। এই দুই দশকের কবিরা কবিতাই লিখতে চেয়েছে। এই বোধে পরিতৃপ্তি জাগে বৈ কি।

    উত্তরমুছুন
  3. পড়ছিলাম বিশিষ্ট কবি তথা সমালোচক সজ্জ্বল দত্তের পাঠ-প্রতিক্রিয়া । পড়তে পড়তে ভাবছিলাম কবিতার অক্ষর ছাড়িয়ে কবিতার স্নায়ু কিভাবে বের করতে হয় তারই পোস্টমর্টেম । আসলে যিনি কবিতার ধমনী চেনেন । তিনি সফলভাবে অস্ত্রোপচারের জায়গাটি বের করে নিতে পারেন । প্রতিটি কবিতার লাইন অন্যভাবে তিনি এঁকেছেন । আসলে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যার কলমের প্রতিটি ডগায় উঠে এসেছে এক অদৃশ্য মায়াঘর । প্রতিটি অক্ষরের উলম্ব উত্তল ও অবতল পার্শ্ব রেখার কাছে খুঁজে বেড়িয়েছেন কবিতার অন্য অভিমুখ । আমার নজর এর মধ্যে তিনি এক অসাধারণ সমালোচক ,কবি ,ও মননশীল মানুষ । ভালো থাকবেন দাদা । অনেক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা ।প্রণাম নেবেন দাদা 🙏🙏🏻❤️🌼🌼

    উত্তরমুছুন