অলক্তিকা চক্রবর্তী

 


দুটি কবিতা


শেষ জবানবন্দী


 

সেই উসখুসে লোভ অথবা আগুনের খোঁচায় সত্যি বলতে তোমার কি কোনো ব্যাবধান ছিলো মুড়িমিছরির? 

 

আমার দৃপ্ত প্রেম তখন অধিকার বোধের আসঙ্গ তৃষ্ণায় পাগল প্রায়

ক্রমশ পাষাণ হয়ে নেমে আসছিল যাবতীয় আবেগ চলাচল

 

শীতল এক দীঘির ধারে যেন একা... একদম একা...

অনন্তে মিশে যেতে যেতে প্রাণপণে চাইছিলাম শেষ হোক,

সবটুকু ভালোমন্দ নিয়ে জেগে থাকা এই দিনান্তের সবটুকু...

 

ভাবনায় উঠে আসছিল অন্ধকারে লোকচক্ষুর আড়াল... নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলার সহজ কথকথা...

 

প্রায়ান্ধকার বিদায়বেলায় তখন মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে উঠে আসা উচ্ছ্বাসের দুর্বিনীত ঢেউ

হয়তো ছুঁয়ে যাচ্ছিল তোমাকে... তোমাদের

 

আর আমি,

জগৎসংসারে সুখ-দুঃখের পারে বসে কেবলমাত্র মৃত্যু দেখছিলাম

আমার... আমাদের ভালোবাসার মৃত্যু....

 

 ২

শেষ কথা


 

জীর্ণতার ধুনি জ্বেলে বুকে

পড়ন্ত বেলার আখ্যান

লেখে নাকি নিজেই সে লেখা

আত্মবোধের খতিয়ান

 

আগুনের সারিগান যেন

চিরায়ত দিন জ্বলবার

বাজানোর প্রথাটি নতুন

এটুকুই সারসত্য তার

 

বঞ্চনাও পারে বুঝে নিতে

কতোখানি শূন্যের দিক

তিলে তিলে পাষাণের বুকে

লিখে রাখে পরিশ্রমী গীত

 

'আসঙ্গ' শব্দটি তবুও 

ছাইচাপা নাভি খুঁজে চলে

মৃত্যু  ছাপিয়ে মহাকাল

প্রেম শুধু শেষ কথা বলে

 


 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন