প্রবীররঞ্জন মণ্ডল

 


দুটি কবিতা

ঘুমের কুয়াশায় আচ্ছন্ন বারান্দা 

 

কথোপকথনের ভীড় সামলে 

প্রাগৈতিহাসিক কালের একটা একক জীবন নিয়ে 

নির্বিকারচিত্তে দাঁড়িয়ে আছে এক পোড়ো বারান্দা।

 

ওর বুকের উপর সরিসৃপ সচল দাগ 

আর কত সজন বন্ধুর আলাপচারিতা

ঘুমের কুয়াশায় একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।

 

দিগ্বিদিক দু'চার জায়গায় মাটি খসে যাওয়া 

শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত নির্মম বেদনার ক্ষত

এখন এই প্রৌঢ়কালে মাথায় ঝিম মেরে আছে।

বুকের অলিগলি মনের ভিতর 

কাদের হাতুড়ি পেটার শব্দ একেবারে নির্বাক করে দিয়েছে।

 

শুধু রাত আর দিনের আলো অন্ধকার 

প্রতি পরতে পরতে স্মৃতিদাগ কেটে 

বেঁধে রেখেছে কালাতীত সময়ের সন্ধিক্ষণে।

একদিন সব স্মৃতিকথা ভেসে উঠবে 

নির্বাক মনের ক‍্যানভাসে।

 

  

 ২


প্রবাহী সময়ের স্রোত 

 

বিকলাঙ্গ এক ছবি মুখ ভেসে ওঠে 

মনের কোন গভীর চোরা পথে!

তার অবয়ব ক‍্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে পারিনা এখন।

 

চৈত্র,পৌষ,ভাদ্র সব মলা মাসের মতো

এক একটা মাস পঙ্গু হয়ে পড়ছে

সব মাস জুড়েই কবন্ধ এক পেরিয়ে যায়,

বুকের মাঝে ছক কাটে কম্পাঙ্কিত দিন।

 

এইযে প্রবাহী সময়ের স্রোত 

দিকে দিকে নীরব পাড় ভেঙে তছনছ করে

চোখ আঁটকে যায় ধসের নীচে 

খুঁজে পেতে দেখি আমাদের পৌরুষ!

 

সবকিছু দূরে সরিয়ে রেখে 

মনের আয়নায় ভাসিয়ে রাখি

পূর্বপুরুষের মাথা উঁচু দিন।

একদিন ঠিক কেটে যাবে বিকলাঙ্গ দিন

আমার এ মনের ভিতর।

 

 

 

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন