শুভজিৎ দাস

 


 তাচ্ছিল্যে 

 

" আপাতত আমার সহবন্দি একটি শিকারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আরেকজন সদ্য এক জীর্ন পোড়খাওয়া জানালা দিয়ে আগত আগুন্তকের ওপরে । কিন্তু বারংবার আগুন্তক নানাভাবে তাকে তার অভিসন্ধি থেকে বিরত করছে । অবসরের এই সামান্য প্রহরে এই রকম বাস্তুতন্ত্রের অভিলাষের লুকোচুরি দারুন লাগতে থাকলো । 

 

এই মূহুর্তে আমার আবিষ্কৃত দুজন সহবন্দিকে ছেড়ে আমায় নতুন এই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে , তার আগে আমার দেশভক্তি দেখানোর জন্য উহাদের কর্তব্য পালনের নজির এখনো আমার সারা শরীরে

 বর্তমান ।

 

আরো কয়েকজন সঙ্গীদের দেখা পেলাম তারা দলবেঁধে আমার উচ্ছীষ্ট খাবারের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে তাদের আস্তানার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে । প্রকতির অভিপ্রায়ে , উন্নত জীবের বিকৃত ক্ষুধার আস্ফালনে , ক্ষুদ্র প্রানীসংসারে সামাজিকভাবে সামান্য হলেও বৃহৎ কিছু ঘটে যায় , যা ওদের কাছে নিয়তি বলে বিবেচিত হয় । আপাতত সেই পিঁপড়ের দলের অধিকাংশই মৃত সৈনিকের ন্যায়ে শুয়ে আছে , বেঁচে থাকা কিছু প্রিয়জন হাহাকারের দুর্নিবারে ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

 অমেঘ শান্তির চাদরে আমি এখন শায়িত ;

বিস্ফোরনের ঘটনা আমার কাছে নতুন নয় , তবুও নিজের শরীরে উপলব্ধি এই প্রথম ও শেষবার , চারিপাশের মৃত ইট - কাঠ , পাথরের সাথে কিছু হাত- পা হীন রক্তাক্ত বিভৎসতা আমার মনে বিষাদের নতুন বলয়ে গ্ৰাস করছে । জীবিত অস্থির কিছু পদতলকে বাঁচিয়ে কিছু পিঁপড়ে এসেছে আমার কাছে , তারা যেন এই দেহ নাচিয়ে তাদের এই বিস্ফোরণেও বেঁচে থাকার  অস্ফুট স্বরে উল্লাস প্রকাশ করছে , হাসছে আমার শেষ নিঃশ্বাসের কুন্ডুলীকৃত বাষ্পায়ন দেখে তাচ্ছিল্যতার ভঙ্গিমায়! 

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন