মানবেন্দ্র সাহা

 


গুচ্ছ  কবিতা


নদী
১.

নরম পার ভেঙে যায় চূর্ণ আলোয়
অবুঝ কিশোরীজেদ
তবু
চঞ্চল পায়ের গোছে অভ্র মেখে
একটানা দৌড়
ওরাঁও বধুর মুখের আদলে
ধীরেধীরে শ্লথ হয়ে যায় দিনান্ত
প্রভাতের কথা আর মনে পড়ে না
মনে পড়ার কথাও নয়
শুধু সূর্যাস্তের কিছু পরে
মুঠো খুলে দেখি
একটা মিটমিটে হলুদ জ্যোৎস্না
আজও সযত্নে বয়ে নিয়ে চলেছি

২.
 
এ কি তবে আত্মহত্যা
নাকি সহমরণ
সম্যক জানিনা
ঠোঁটে প্রাচীন রক্তচিহ্ন
পারিবারিক নীরবতার
ট্যাবু
ভেঙে যায়
অচেনা ঢেউয়ের উচ্ছ্বাসে
অবেলায় সন্দিগ্ধ চোখ এড়িয়ে
জনাকীর্ণ বনপথে এসে মিশে যায়
প্রিয় বান্ধবীর শরীরে
এ-সকল দেখি আর ভাবি
কে এ কুমারী.....



নিয়ম ক'রে জেগে ওঠে
যেভাবে জল সরে গেলে চর
আদিম মন্ত্রের নাদ
সৌরনেবুলার কেন্দ্র থেকে ছিটকে এসে
যেন তারাফেনীর স্নিগ্ধ শরীরে
ক্ষুধার্ত পিঁপড়ের ঘুমঘোর আঁচড়
দূরত্বে মিশে যায় সন্ধ্যার রঙ
পায়ের পাতা বেয়ে আলতাগোলা জল
ধীরেধীরে নেমে যায় শহুরে প্রহেলিকায়
কানে ঘাসের ঝুমকো পড়ে
ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে একলা শীতার্ত হরিণী
নাভীর নিচে আড়াল ক'রে রাখে
একমুঠো আধফোটা হলুদ নিম ফুল




কুয়াশার মত আবছা বালিকাদের মুখ। ঝোপঝাড় পেরিয়ে বহুদূর থেকে আলোর গল্প শোনাতে আসে এক গল্পদাদু। শিকারী বাঘ ঝর্ণার পাশে ব'সে প্রহর গোনে একমনে। আর অভাবজনিত চাতুর্য্যে ঘোমটা ঢাকা বধু ধীরপায়ে জল ভাঙে। আমিই সবচেয়ে বেমানান এখানে।
  একটা শুকনো ডাল নিয়ে ছুঁড়ে দিই বাঘের দিকে। সহস্র আলোর কণায় ভেঙে যায় বাঘের শরীর। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে সহস্রধারায় মিশে গেলে আমিও হাঁটা দিই শহরের পথে। আমার একদিকে তখন স্নান করা ভীল রমণী আর অন্যদিকে কুয়াশা জড়ানো স্রোত....