কুশল ভৌমিক

 


 গুচ্ছ কবিতা


শূন্যতা 


 

প্রতিটি থাকার মাঝে কিছু না থাকা ফুটে থাকে

অসীমকে বুকে ধরেও আকাশের আরেক নাম তাই শূন্যতা 

জীবন যতটা শিল্পকলা তারও অধিক গণিত 

এ কথা জেনেও শূন্যবাক্সে উঁকি দিয়ে মুগ্ধতা খুঁজি

এই মুগ্ধতার আরেক নাম বেঁচে থাকা।

 

আমি কেন প্রতিদিন নিজেকে খনন করি 

আমার বুকের ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছে তুতানখামেনের সমাধি

সে তুমি জানবে না কোনদিন। 

 

আমি তো জানি সব মেঘে বৃষ্টি হয় না

কোনো কোনো মেঘ বৃষ্টির আফসোস বাজিয়ে

চলে যায় দূরে- দূরের হাওয়ায়।  

 

এই দূরত্বটুকুর নাম শূন্যতা 

শূন্যতার আরেক নাম জীবন। 

 

 

 

 

 

আমাকে নেবে তুমি

 

 

আমাকে চিনতে পারেনি কেউ

না মাটি, না সমুদ্র, না ঈশ্বর। 

বিগত বিনয়,নির্জীব আকাঙ্ক্ষা,উদাসীন প্রলোভন 

আমাকে চিনতে পারেনি 

আমি আঁজলা ভরে জোছনার ছাই কুড়োনো মানুষ। বিবিধ বাঁকে এসে

খুঁজে মরেছি সরল পথের বিন্যাস

কোন পথ আমাকে চিনতে পারেনি। 

মূঢ়ের তর্ক আর তর্জনীর ভয়ে

হাঁটু মুড়ে পান করেছি সমকাল

দ্যাখো কেমন তামাটে আমার ওষ্ঠ

জিহবায় আগুনের আন্দোলন। 

এ সংসার আমাকে চিনতে পারেনি 

আমাকে ধারণ করেনি কেউ

না নদী,না নিসর্গ, না মাতৃভূমি। 

 

আমাকে নেবে তুমি? 

 

 

 

 

কিছুই থাকে না

 


শেষ পর্যন্ত শেষ বলে কিছুই থাকে না।

 

সূর্য কেন ডোবে এবং পরের দিন ওঠে 

এটুকু বোঝার জন্য অন্ধকারের 

একটা আড়াল প্রয়োজন 

শেষমেষ বিরহ বলে কিছুই থাকে না 

আড়াল এবং বিরহ মূলত ঝিঁঝি পোকার আর্তনাদ। 

 

মানুষ আমৃত্যু আলো শিকারী 

অন্ধকার মানুষ ভয় পায় জন্মান্ধ বলেই

বস্তুত আলো-অন্ধকার না থাকারই আক্ষেপ

কালোর শক্তি রাধা জানে আর জানে কৃষ্ণগহ্বর। 

 

শেষ পর্যন্ত কিছুই থাকে না

 

একটা ডট

একটা হাইফেন 

একটা অন্তর্গত অন্ধকার ছাড়া।