তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়



শিকার






প্রচণ্ড চেনা লাগছিল বলেই আমি আগ বাড়িয়ে চুমু খেতে গিয়েছিলাম
আপনাকে। আপনার ছটফটের ভেতর এত আহ্বান ছিল, আমি
সামলাতে পারিনি। ভেবেছিলাম ডুব, ভেবেছিলাম ভেসে ওঠা,
ভেবেছিলাম মায়ের পেটের ছ্যাঁকা ও খুন্তি, খলবলে ইলিশ, তেলে
চুবিয়ে রাখা একটা গোটা বেসনমাখানো বাড়ি, ভেবেছিলাম একটা
চুমুতে এই সমস্ত থলথলে মেঘ আপনার ভেতর আস্তে আস্তে চলে
যাবে। এর আগে প্রতিটি ভদ্রমহিলাই বড্ড কেতাদুরস্ত ছিলেন,
ঠোঁট বেয়ে তাঁরা সন্তানের কাচ, স্বামীর যৌনঈর্ষা, বাগানের থেঁতলে
যাওয়া টব, ট্যুইশন পড়ানো প্রাক্তনের ঠিকুজি ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন
আমার ভেতর। সেই যে গেছেন, আর আসেনওনি। প্রচণ্ড চেনা
লাগছিল বলেই আমি আপনার শিরায় মিশে যাচ্ছিলাম এই উপত্যকার
রোদে। অথচ আপনার মুখের গড়ন পালটে যেতে যেতে গা-ছমছমে আঁশ
জেগে উঠছে গালে, থুতনিতে... আপনি বুঝতে পারছেন? আপনার মুখ
পালটে ধীরে ধীরে ফণা হয়ে গেল, টের পেলেন একটুও? চেরা জিভে
বাসি ইঁদুরের গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছে, অথচ এত নরম ঠোঁট ছাড়তে
এতটুকুও ইচ্ছে করছে না, বিশ্বাস করুন। কীরকম ঘোর যেন,
আমি...আমি...সত্যি বলছি...উফ্ কীভাবে যে বোঝাই! 
কামড়ালেন বুঝি? আপনারও এত লোভ ছিল? বেশ, আর লজ্জা পেতে
হবে না। বুঝেছি সব। শুধু পুরোপুরি নীল না হওয়া অবধি আমায় জাপটে
ধরে থাকুন। জাপটে, হ্যাঁ, আরও জোরে। যতক্ষণ না পুরোপুরি
স্থির...ততক্ষণ...ততক্ষণ...
রাতটা তো পড়েই রইল। আস্তে আস্তে গিলবেন না হয়।