অভিজিত সরকার




আশা-ভৈরবী




"মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ..."
কি ব্যাপার বাবা আজ সকালে ভৈরবী ছেড়ে আশাবরী যে বড়। চায়ের প্লেটটা নামিয়ে রাখে চিত্রা।

--"বৌমা? তানপুরাটা একবার ধরো না মা, মনটা বড্ড উতলা লাগছে আজ। আর কতদিন এই গাড়ি টানবো বলতো।"
--"আবার শুরু করলেন তো! নিন ধরুন..." তানপুরাটা কোলের কাছে নিয়ে বসে চিত্রা।
--"রাগ চিনতে তোমার আবার ভুল হল বৌমা।"
-- "কেন? আশাবরী নয়?"
-- "না।  আশা-ভৈরবী... নজরুলের তৈরী। সুখ দুঃখের মিশেল,  ঠিক যেন বৈতরণীর নৌকাটি।"

কুয়াশাভেজা শীতের রোদ আর আশা-ভৈরবীর মূর্ছণা প্রাণবন্ত করে তোলে সমস্ত জীর্ণতাকে। হঠাৎ বেসুরো তানে গান থামিয়ে দেন মল্লিক বাবু। দেখেন চিত্রার দু গাল বেয়ে নেমে আসছে তরঙ্গসঙ্কুল দুই নদী। হাত রাখেন বৌমার মাথায়। স্নেহের স্পর্শ পেয়ে আবেগ উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে চিত্রার। "রাগ চিনতে ভুল করলে তান তো কাটবেই বাবা।"
"আমাকে কখনও ক্ষমা করিসনা মা। আমার রক্তই তো এইরকম কুলাঙ্গারের জন্ম দিয়েছে। এখনও সময় আছে রে মা, তুই আবার নতুন করে জীবনটা শুরু কর। এই সংসার তোর মূল্য দেবে না। সারাটা জীবন দুঃখই পায়ে যাবি শুধু।"
"তা হয়না বাবা, সংসারটাও যে আশা- ভৈরবী। সুখ-দুঃখের মিশেল।" -- কোলের উপর নুয়ে আসা বৌমার মাথায় স্নেহের বিলি কেটে দিতে দিতে মল্লিকবাবু গেয়ে ওঠেন-- "ভিতর হতে দ্বার বন্ধ ক'রে,  জীবন থাকিতে কে আছিস মরে........."