পরান মণ্ডল







কোনও এক মল্লের দেশে নদী'রা হেঁটে যায় 


যতক্ষণ আলো থাকে ততক্ষণ এই অন্ধঘরে
ফিরে এসো না

যে-ফুল ঈশ্বর পৃথিবীর-- তুমি তার অধিক কিছু

বনকল্পলতার তরু-সম্মোহনে ভাসমান বিমানপাখির 
জলন্ত আগুনের দ্বীপ ছেড়ে

                  তুমি এক অন্যদ্বীপ -- আনত ভুবন
                 একাকী ভাস্বরদিগন্তের পুবে প্রজ্জ্বালক
                  তুমি উদীয়মান তুমি উদ্দালক |

ব্রজকেশরী লতার বন্ধনে এই নদীমাতা এই নদীপিতা
ভাঙনের কারণ ;
জান তুমি দুঃখ ধুয়ে দিতে নদীজন্ম হয়--
তুমি এসো না ফিরে এই অন্ধঘরে আলো জ্বলে যতক্ষণ!

এই নদীর মতো তুমি রয়ে যাও রহস্যকুয়াশায়--
কাগচরে-বগচরে আছে বৃক্ষরা-- ছবি দ্যাখে হালকা আলোয় ম্রিয়মান তখন সন্ধ্যাবেলায়--তুমি দ্যাখ অন্ধকারে দীপ জ্বেলে কোনও এক মল্লের দেশে নদী'রা হেঁটে যায়|




তপস্যায় বস বাল্মীকি 



ব্যথা এসে বলে দিয়ে যায়:ওঠো রাতপাখি ভোর হল লাল হল কংসবণিকের চর,রাখো ফুল জলন্ত চিতার আদরে--যে ফুল প্রহেলিকায় ঝরে 

মন্দ ঝড় অখিলে পূর্বাভাস 
দেব-দৈত্য থাকে দারুবনে ;

নিশিনন্দার প্রলাপে গুলমহর--কঙ্কাবতীর আকাশ
আমাকে রাখো ভাদ্রমাস, সেই জল সেই বনকল্পলতার  ইঙ্গিতে

বহে চৈত্র মাস -ব্রহ্মপিশাচ কুম্ভিলক কবিসন্দর্শনে !


অসীমে বিনষ্ট হোক রাঙাহলুদের যত বুর্জোয়া প্রতাপ
শুরু হোক চুরাচণ্ডের তরাস-- এই ধর্মভেদে ঢালি ময়লাজল
জটাজুট এঁটুলি উকুন মাথার যত খুসকি--

মা-মাটির গন্ধে যদি আসে গেরুয়াপ্রকৃতি কপালে দয়াল হরি দয়াল সত্যপীড়
অসীমে বিস্তৃত গান ,আলো শুদ্ধ রেখেছি অসীমে;
ক্ষুধাগদ্য শোনাবে তাই ঠেঙোধুতির কবি গ্যাছে হিরন্ময় প্রাসাদে-- সে কথা প্রাসাদ শোনে কি?


দ্বিজবালকের ভৈরবীকন্ঠে ভাঙে ঘুম-- শরাহত ডানার আর্তনাদে; শরীর তার ক্ষত বুঝে নেবে--তুমি তপস্যায় বস বাল্মীকি; ওষধিবৃক্ষ আর কালকণ্ঠলতা থাকে পাশাপাশি ;

শব্দের ভিতরে থাকে নীলজলরথ -- ভেলকির ভিতরে থাক আহ্লাদি গুল্মফুল ফুলের চারা
ঢলে মৃত্যু ছলেকৌশলে -- তুমি মৃত্যুদূত তুমি মৃত্যুমুখ,রাজতরঙ্গিনী হয়েছে কি সেরার সেরা?

জেনে রেখো -- যোগীর হাতে থাকে রক্তমাখা অক্ষত সেতার ;আমাদের হাতে আছে একটি আড়বাঁশি !