বঙ্গ রাখাল






কবিতা আমার সমবয়সী



                                                                                                আমার যুদ্ধ আমাকে নিয়ে। যাকে বলি  নিজের সাথেই নিজের যুদ্ধ।প্রতিনিয়ত বুকের মধ্যে জন্ম নেয় অজস্র বাহারী ক্ষত-বিক্ষত যন্ত্রণা।যা আমাকে কেটে ফেঁড়ে প্রতিমুহূর্তে সেলাই করে আবার নয়াধারী করে জন্ম দেয়।ঠিক যেন শরৎবিকেলে প্রিয়তীর খোলাচুলে, হাত ধরে চলা আর মাধবীলতার লাল লাল ঠোঁটে ঠোঁট রাখার অনতিম ইচ্ছায় নিজেকে ভেঙ্গে মুচড়ে আবার জন্ম দেওয়া। এর নামই বুঝি কবিতা।কবিতা যদি হয় এক উন্মাদনার নাম তবে আমি সেপথেরই একজন ক্ষ্যাপাটে পথিক। কবিতাই আমার ঘর- সংসার,কবিতাই আমার সঙ্গমের নির্ঘুম রাতে মেলে ধরা শরীরী উষ্ণতা।

কবিতাকে আমি দেবী বা অন্যকোন রুপরাজ্যের রাজকন্যাও মনে করতে পারি।কেননা কবিতা শুধুমাত্র আমার একমাত্র আরাধনা বা তপস্যার বুকখোলা নিতম্বপরী।কবিতা আমার অন্ধকার চোখ বেয়ে নেমে আসা রাত্রির নাম। কেননা আমি অন্ধকারে কবিতাকে ভালবাসতে পারি। তবে বুঝবেন না আমি আলো এলেই কবিতাকে ভুলে যাই বিষয়ইটা সেরকম নয়। কবিতাকে বুকের মধ্যে করে আমি ঘুরে বেড়াই পৃথিবীর পাড়া। কবিতাই আমার জীবন। কবিতা ছাড়া আমি কিংবা আমি ছাড়া কবিতাকে চিন্তা করা দায়। ঘুমের ঘোরে কবিতাকে বুকের ঘরে আটকে রাখি। অন্ধ একবালক যেদিন পৃথিবীর বুকে কান্নায় জানান দিল দেখো আমি কবিতা। ঘুরে ঘুরে তোমাদের চার পাশে কবিতার ফেরি করি । আসলে তোমরা আমাকে পাগল ভেবনা আমি সামান্য এক কবিতার মানুষ। যাকে কবিতাকর্মী বলতে দ্বিধা করিনা। আমি কবিতার সংসার করি, কোন নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে আমার নারীকে কখনো বাঁধতে চাইনে বা বাধিও না । আসলে আমি যা বলতে চাই সেটাইতো আমার কবিতা ।এর চেয়ে সত্য কথা আর কি হতে পারে। গ্রামের চাষার বুকের মধ্যে ধাই ধাই বাড়ি মেরে লাঙ্গল জোয়ালের কলিজা চিরে বের হয়ে আসে ভাষা সে ভাষা আমার কবিতা। পুকুরে ছোট ভাইবোনদের সাথে মাছের সাথে আমিও লুকোচুরির মত করে পাতাহীন চোখ লাললাল করে তোমার সামনে দাঁড়ালে তোমাকেও আমার মনে হয় কবিতা । তোমাকেও লিখেছি আমার অন্তরজগতে। তোমার চেয়ে সত্য কবিতা কি হতে পারে। আমিতো তোমাদের সাথে ভণ্ডামী করতে পারি না কিংবা তোমার বুকের মধ্যে বসিয়ে দিতে পারিনা চকচকে ধারালো ছুরি। যে নারী আমাকে নিজের করে নিজের শরীরের মধ্যে আমার শরীর নিয়ে শিক্ষিয়ে ছিল যে তুমিই আমার কবিতা । কি মিহিন আবেশে আমার কবিতার কাঁদা  মিশ্রিত পানির স্পর্শে  ডুবিয়ে রেখেছিল কিছুটা সময় এবং সে যে আমার অনাগত ভবিষ্যৎ নিজের অন্তরের মধ্যে লুকিয়ে আমার কবিতা হতে চেয়েছিল তাও জেনে ছিলাম চুপি চুপি। আমার মনে হয় কবিতার মধ্যেও কিছু ভুল ভাল কবিতাও থাকে তানা হলে অজানা একবিশ্বাস কবিতার জীবনকে সাজিয়ে অন্য এক ধনী কবিতা বানিয়ে দিল। আমি আসলে কবি হতে এসে হয়তো উষ্ণতার নির্বোধ হয়ে গেলাম।

তোমাদের কবিতা আমাকে কাঙ্গাল করেনি। আমি নিজের মত করে তোমাকে আমার করে গড়তে চেয়েছি এক মূর্তিমান সানুমান আকারী নারী। আমার মায়ের চোখের কোণে জমে থাকা কান্নার জল আমার কবিতা । জানোতো মাধুকে আমার কবিতা ছাড়া আমি কিছুই ভাবি না। যখন কোন নারীর বুকের মধ্যে কিংবা স্তনে হাতের স্পর্শে তুমি একটু একটু করে নিজেকে তাতিয়ে তোল তখনও আমি ভাল চাষী হতে পারিনি। কিন্তু আমাল লাঙ্গলের চাষ তোমার বুকের চাষাঢ়ায় কখনো যেতে চাই না। কেনো জানো তো কারণ আমি তোমাকে একমাত্র কবিতায় মিশ্রিত শোকের বার্তা করতে পারিনা । আমি তোমাকে কিংবা নিজে নিজেকে হারামির মত করতে চাই। মিথ্যাবাদী রাখালরাই সবচেয়ে বড় সত্যকথাটা হাসতে হাসতে বলে দিতে পারে।

তোমাদের বুকের মধ্যে যেমন অজাগর সাপকে লুকিয়ে রেখে চোট চোট কাটলেটে নিজেদের প্রদর্শন করে হতে চাও মহাজ্ঞানী কিংবা পেতে চাও মানুষের বাহবা । আসলে এতসব ভণ্ডামী করে তুমি কবিতার যোনীরসে তোমাকে সিক্ত করতে পার না।

কবিতার বড় শক্তি নিজেকে একজন থেকে অন্য জনের কাছে একা করে ফেলা। আসলে এ একা কোন সমাজ সংসার কে ছেড়ে একা হয়ে যাওয়া নয়। নিজের মধ্যে একধরনে তাড়নায় একাকিত্বের জন্ম দেওয়া। একজন একা মানুষ নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে তানা হলে কি করে নদীদের পাড়া বেড়ানো দেখতে গিয়ে নিজেই নদীদের পাড়া বেড়িয়ে আসতে পারে। আমি নিজের করে কবিতার উপলব্ধির ব্যাপার-স্যাপারকে দেখতে চাই। যখন বাবা আমাকে গাজির গানের আসলে বসিয়ে নিজে বিড়ির পাছায় ঠোঁট ছোয়াত- সেই যে কবিতার সুখ। সেই সুখ না পেলে কবিতা করা সম্ভব না। আমি নিজের মধ্যে জন্মদিতে চাই সেই খোলা ধান কাটা মাঠে উদোমবুকে বন্ধুদের হাতে রান্না করা কলাপাতায় সদ্যধোয়া ওঠা ভাতের ধোয়াই মুখ লাগিয়ে আৎকে ওঠা- ধোয়াইতো আমার কবিতা। ন্যাংটা হয়ে যেদিন বন্ধুর সাধে নিজের শিশ্নের মাপ করে পাল্লা দিয়ে ছিলাম কার মুত কত দূর যায় আই দেখি সেটাও আমার কবিতার অংশ। আমার জীবনই কবিতা আমি এককবিতার জীবন নিয়ে পৃথিবীর সমবয়সী হয়ে রাত জেগে জেগে তোমার কপালে, কানের লতিতে, কাঁধে আকতে চাই কবিতাচুম্বন।

ওহে কবিতা… তোমাকে আমি কোন নামে ডাকতে পারি। ইরিবিরিসিরি না কি অজানা এক দুমকা। আসলে তুমিতো বলেই দিয়েছো আমি যে নামে তোমাকে ডাকবো তুমিতো সে নামেই সাড়া দিবে। আমি কোন জটিলতা কিংবা সংমিশ্রনের জীবনে তোমাকে কুমিরের মত করে বুকের মধ্যে করে কুমিরমাতা হতে চাইনা। নিভৃতিতে ধানক্ষেতের আল ধরে যে মেয়েটা আলতারাঙা পায়ে নাকে নলক নিয়ে আমাকে অট্ট হাসির ফোয়ারায় মাতাতে চাই সেই তো আমার কবিতা। আসলে আমাকে কেউ প্রশ্ন করলে কবিতা আর আমার প্রেমের প্রণয় কবে কখন কিভাবে আমি হরহামেশায় বলেদিতে পারি আমার জন্মেরও আগে থেকে কবিতার সাথে আমার প্রেম। বাবা আমাকে এক মাদুলি দিয়ে কবিতার সঙ্গী করেছিল আমি এখন সেটাকে আশ্রয় করেই তোমার বুকে বাঁচি কবিতা। কোন নির্দিষ্ট ফর্ম মেনে আমি কবিতা লেখি না, লেখতেও চাই না । আমি আমার মত করে আকিউকি করি এবং সেটাকেই আমার কবিতা মনে করি। আকাশ আমার কাছ থেকে দূরে গিয়ে আমার কবিতা হতে পারে আবার নাও হতে পারে এটা আমার নিতান্তই আমার ব্যাপার। কোন মানুষের কথায় আমি আমাকে আমার পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কবিতা করি না। কোন জবাব নেই কেন বা কিসের জন্য কবিতা করতে এসেছি । আসলে হৃদয়ের ভিতরে ছিল অগাধ ভালবাসা তোমার প্রতি তাইতো ভিতর থেকেই টান অনুভব করি । না করলে আমি কি করে সব ছেঁড়ে তোমার সাথে ঘরবসতি করি।


কবিতা এক মায়া হরিণের দিকবিদিক ছুঁটে চলা কিংবা উন্মাদ কোন ষাঁড়ের জমা রাখা প্রতœতার দায়েগুতিয়ে চলা অনিষ্ট শৈশব।চাষার হালের বলদ, জোয়ালের টানে চিরে যায় জমির বুক অথচ এই চিরা বুকেই জন্ম নেয় সবুজ শ্যা মল সোনালী ফসল শালিকজীবনের মতো নিজেকে একজন কবিতাকর্মী করে নেমেছি পথে... কোথায় কূল কিনারা জানা  নেই। তবুও অজানা পথে নিজেকে সোপেছি। ভেঙ্গেছি নিজেকে নিজের মধ্যে।রাতের পর রাত নিশিযাপনে নিজেকে আরোপ করেছি এক আধ্যাত্মব্রতকতায় যা হৃদয়ে প্রশান্তির জোয়ার তুলে মিলিয়ে দেয় হাজার চাঁদকে যারা আমাদের একজন নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত করে তোলে উন্মাদ, উদাসিন কবির পরিচয়ে।কবি গতরে শীতের উষ্ণতা মেখে খেয়ে যায় গাছির শীককালীন রসের স্বাদ।যা আমাদের পরাস্ত কিংবা অন্ধবালকের মতো নেতে যাওয়া নারীস্তন করে তোলে না।

 গ্রাম্য একজন কবিতা কর্মী হওয়া সহজ ব্যাপার নয়। যার প্রতিরুপ আমাদের নিতাই। কে পেরেছি নিতাই হতে নিতাইয়ের বুকের মধ্যে কবিতা খেলা করে, নিতাই অন্তরে কবিতা নিয়ে ঘুরে বেড়াই। সে যেনতেনো কবি না। বৃন্দাবনের বনজকুটিরে নিজেকে একজন সন্ন্যাস করেই আমরা নেমেছি এই মহাযুদ্ধে। যেখানে জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করতে হয়।

 ইচ্ছের ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে বিসর্জনের নৌকায় তুলতে হয় সর্বনাশার পাল। গন্তব্য কত দূরে, কোন অজানায়, জানা নাই। জীবনের সব সুখকে তুড়িমেরে ক্ষুধার্ত বালকের মত পথে পথে ঘুরি। তবু পরাস্ত হতে আসিনি জনাব। বুক জমিনে মনের স্বপ্নকে সঙ্গী করেই বুনে যায় চোখের তাঁত।