প্রবীর রঞ্জন মণ্ডল







গুচ্ছ কবিতা

(এক)
একটা সীমায় 

গাছ থেকে গড়িয়ে পড়ছে 
আস্ত আস্ত মেঘের শরীর 
বারুদ ভরা জল নিয়ে অনন্ত সাগরে 
চকমকি পাথরে পাথরে ঘষা লাগছে 
মুহুর্মুহু জ্বলে উঠছে আগুন।
জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছে এক একটা ভবিষ্যৎ 
খররোদেও তোমার আত্মপ্রত্যয় 
দাঁড়িয়ে আছো বলিষ্ঠ শরীর নিয়ে;
যদি কখনো আগুনটা জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে 
একটা সীমারেখায় সাগরের মতো 
তবে উদার চেতনায় ভেসে যেতে পারো
সুদূর পারাবারে।


                      (দুই)
              দৌড় 

একটা মাঠের প্রান্ত 
বুকে এসে বাসা বাঁধে অনেক দৌড় 
সকালের সীমাহীন রোদের মতোই 
ছুটিয়ে দিই দুচোখের দৃষ্টি 
দিগন্তে গিয়ে থমকে পড়ে সব 
নীরব কাব‍্য করে সূর্য 
গোধূলিতে হেলে পড়ে পশ্চিমের বারান্দায় 
আমি তখনও দুচোখে ছুটতে থাকি
দিগন্তের এপার ওপার।

                         (তিন)
                 বিচ্ছিন্নতা 

একটা ছিঁড়ে যাওয়া দড়ি 
ভেঙে যাওয়া সংসার 
বিচ্ছিন্ন নৌকার মতোই পরপার 
আড়াআড়ি হয়ে গিয়ে বাধা পায়
কোনও এক জঙ্গম চড়ায় ;
ঠেলে বেঁধে কেটে যায় 
কারও কারও কোনো এক সুখের সময়।


                            (চার)
                  কঠিন সময় 

কঠিন সময় মেপে একটি বীজ 
 সভ‍্যতার শক্ত মাটি ছুঁল
বন্ধ‍্যা আশঙ্কা তাকে গ্রাস করল 
একেবারে নির্দ্বিধায়।
পরপারের দরজায় পাঠানো সংকল্প নিয়ে 
ডানায় ভর দিয়ে উড়ে এলো 
দুটি রঙিন ডানার পাখি 
বলল,চল একসাথে সবাই মিলে থাকি 
ওই পরপারের জানালার কাছাকাছি 
একটা নতুন সংকল্প বুকে নিয়ে 
এখনো শুয়েই আছি