চিরপ্রশান্ত বাগচী


দুটি কবিতা




দিনাঙ্কের ইশারা 
-----------------------
চিরপ্রশান্ত বাগচী 

যেমন বয়ঃসন্ধিকালে ছায়ালোক একইসঙ্গে জট পাকিয়ে যায় 
ঠিক বোধগম্য হয় না, আলো আর আগুনের মধ্যে মিল বা সাদৃশ্য কোথায় 
অথচ দুটোই তোমাকে জানতে হবে 
তারপর পছন্দের পথ ধরে শুধুই ছুটে চলা 
এইভাবেই যখন তুমি অনেক ঋতুচক্র পিছনে ফেলে সূর্যাস্তের আগে 
সংযমের শৃঙ্খলে ভাষাকে বেঁধে রাখো আষ্টেপৃষ্ঠে 
দিনপঞ্জির দিকে চেয়ে প্রতিদিন পুরুষভেদে বিশেষ বিশেষ ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো 
ফর্মুলা জেনেও অঙ্ক ভুল করে ফেলো 
তুমি তখন ডান হাতের তর্জনি ও মধ্যমার দিকে তাকিয়ে দেখো ; স্কুলের  স্যার পেনসিল দিয়ে খুব করে চাপ দিচ্ছেন 
তুমি যন্ত্রণায় বিকৃত করছো মুখমণ্ডল 
অর্থাৎ , তুমি হারিয়ে ফেলেছো তোমার পথ 
দিনপঞ্জির সংখ্যাগুলো আহ্বান করছে  গণনার জন্য তোমাকে  ; নিঃশব্দে ।
--------------------------------------------------------------------

প্রতিবিম্বের ভিতর 
-------------------------
চিরপ্রশান্ত বাগচী 

যে প্রতিবিম্ব তুমি দেখো আয়নায়  ; সেখানে কোনও পুরুষ নেই । 
হয়তো মৌল ভেবে বিস্মিত হতে পারো ।
আসলে তা একাধিক পরমাণুর সম্মিলন --- 
যৌগ  ; জটিল ।
যদি কিছু না-ই ভাবো ; আত্মরতি ছাড়া 
তবে তারই ভিতরে তুমি ডুবে যেতে পারো ; 
কারণ ব্রহ্মাণ্ডের চাবিকাঠি হাতে বিজ্ঞানের হা হা অট্টহাসি একেবারেই অসহনীয় ।
বরং এই মাটির দিকে তাকাও ; 
সেখানে প্রকৃতির গর্ভে পুরুষ খুঁজে পাবে ।

স্বগত এই সংলাপের পর আমি দেখতে পাই 
প্রচুর ধুলো জমেছে আয়নায় ; জমছে...জমতেই থাকবে ।