চন্দ্রদীপা সেনশর্মা



আত্মপ্রকাশ


যে কোনো বিষয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রকাশ, কমবেশি আত্মপ্রকাশ।
এই মেঘলা নাগরিক জীবন, থেমে থাকা ইচ্ছার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে অহরহ। দু পশলা বৃষ্টি এসে পড়লে ইচ্ছার সর্পিল বাঁকগুলো নড়েচড়ে বসছে। যেন ঋতুবন্ধের পর পুনর্বার ঋতুমতী হয়ে ওঠা। ভেসে আসছে মৃত্যুর ওপারে চলে যাওয়া বহুযুগ আগের এক বৃদ্ধার মনসামঙ্গল পাঠ। আবছা ছায়ার মতো তাকে বাবার জেঠিমা চিনে নিচ্ছে মন। বিদ্ধ করছে নিজেকে হানিকম্ব ফোঁড়ে। জানলার গারদে গাল ঠেকিয়ে আছে প্রৌঢ় মন। নাগাড়ে বৃষ্টির ঝাপসা পেরিয়ে প্রতিবেশী অবরুদ্ধ জানলা দরজা আলো রাস্তা দেখে চলছে সে।মন ক্লান্ত বড়ো ক্লান্ত আজ। হাতের সুবর্ণরেখায় শুকনো বালি, তার আড়ালে চলে যাচ্ছে পরিচিত স্বজন বন্ধু।

ডিজিটাল স্ক্রিনে লেখাগুলো ভাবে আজ পেনডাউন হবে, হয় না। ব্যস্ত কালখণ্ডে প্রকৃতি কি তুলে রেখেছিল  একটানা বিশ্রাম? ছবির মতো একের পর এক ভাবনা--ভূগর্ভের জল বা আশ্লেষের শেষবিন্দু নিংড়ে তুলে নিচ্ছে অমার্জিত সভ্যতা। পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে আমাজনের বুক। মাইক্রো বায়োলজি পদার্থবিদ্যার গতি আর মোমেন্টাম নির্ভর দ্রুত এগিয়ে আসছে অনুশীলিত অথচ বিমনস্ক ছোট ছোট বুলেটিনে। পুরোনো বালিঘড়ি বুঝে নিচ্ছে বালির নীচে অশ্রু অন্তঃসলিলা। ঢেলে দিচ্ছে সময়ের সব বালি অঝোর শ্রাবণে। জল ফিরে যাচ্ছে মোহনার ভার্জিন গর্ভে পুনর্বয়নের ইচ্ছায়। আকাশ নীল ফুটে উঠছে, আত্মপ্রকাশে যে কোনো একটি সান্ধ্যরাগ এরপর...