কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়




সম্পর্ককথা



সম্পর্ককথা-১
যে বিশেষ পারাযুক্ত আয়নায় তোমাকে দেখতাম
কয়েকদিন হল সেটি টুকরো হয়ে গেছে
#
প্রভাতীগানের আকাশও এখন বিবর্ণ
বিগত ও আগামী নিজের মতন
#
তবু জানো, সম্পর্ক কাকে বলে এখনও ঠিক বুঝলাম না
#
এদিকে বর্ষা শেষ হয়ে আসছে
মেঘের গায়ে সাদা রং ধরছে
মাঝখানে তো মাত্র একটা ঋতু
#
তারপর শরীর ও মন শিথিল হয়ে আসবে
চোখের দৃষ্টিতেও টান
#
আমরা কী কোনও দিনও বুঝবো না
আমাদের নিজস্ব পৃথিবীর ভাষা
.......................................

সম্পর্ককথা-২
রাত্রির থেকে রাত্রি মুছে যায়
সময় যে কোলাহল এনে ছিল
একসময় সময়ই তা হারিয়ে ফেলে
#
অথচ একটা বর্ষার জন্য আমরা কতটা প্রত্যাশী
#
ঋতু এইসব কথা জানে
প্রকৃতি এইসব কথা জানে
#
সম্পর্ক এতই চতুর
সম্পর্কের গভীরে সবকিছু লুকিয়ে রাখে
.......................................
সম্পর্ককথা-৩
সময় থেমে থাকেনি কখনও সময়ের ভেতর
#
অথচ যে বিন্দুর জন্ম হয়েছিল কোনও সময়ে
সে আজও অপরিবর্তনীয়
#
একটা উত্তাপরেখা ঠিক মাথার ওপরের আকাশে
সেই কবে থেকে ঝুলে আছে
নাগালবিহীন
#
মধুর ঋতুর ভেতর কেমন চটচটে হাওয়া
#
এইসব কোনও কিছুই উপেক্ষা করার নয়
সময় খুব ভালো ভাবে জানে
#
তবুও আমার মাটিতে মাধ্যাকর্ষণ
একশো ভাগ স্বয়ংক্রিয় হয় না
...........................................
সম্পর্ককথা-৪
একটা নদীর সঙ্গে চলতে চলতে
তার স্রোত ও নাব্যতা জানা সহজ হয়ে যায়
#
আমি নদীর সাথে দিগন্ত ছুঁইনি
#
এখনও অঝোর বৃষ্টি হলে
জলের গোপন রসায়ন ভেসে ওঠে
#
মাটি সব কথা জানে, ছায়াছাপ ধরে রাখে
#
আমার পথের ওপর পা রেখে দেখি
কুয়াশাশীত নেমে আসে শৈলরেখায়
................................................
সম্পর্ককথা-৫
টুকরো আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি
সবটুকু আকাশ জড়িয়ে নীল হয়ে আছে
#
আকাশও টুকরো টুকরো এখন
#
সমূহ প্রকৃতি কখনও শান্ত হয়না
ভেতরে ভেতরে হাওয়া অস্বাভাবিক থাকে
#
দূরের শীতল বাতাস যেন ভাঙা সরু কাচ ---
তীক্ষ্ণ স্পর্শ করে, ফুটে যায়
#
যে ব্যথার জন্ম হয় প্রতিদিন
তাকে আমি সম্পর্ক বলে রেখেদি
গোপন রক্তবাক্সে
.......................................