সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

অর্থিতা মণ্ডল: কবিতা




গুচ্ছ কবিতা


ব্রিজ


তুমি অন্ধকারের দিকে হেঁটে যাচ্ছ, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক-

গুল্মলতার ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে কিছু মায়া, টুকিটাকি কথার গুঞ্জন

এসবের ভেতর ন্যাপথলিনের গন্ধ বিছানো কাঁথা, গরম ভাত বেড়ে বসে আছেন মা 

কিছুটা সাদা-কালো ছবির মতো আখ্যান…


ঝাঁ চকচকে ব্রিজের উপর দিয়ে দ্রুত ছুটে যাচ্ছে ট্রাক





বুদ্ধপূর্ণিমা -১



বুদ্ধপূর্ণিমার দিন অযাচিত লাশের ভেতর কে যেন পরমায়ু জমাচ্ছেন রোজ

এসো, ভাত বাড়তে বাড়তে কাঁসার থালায় উপুড় করি আয়ু-

বুলবুলির লড়াই শেষ হয়ে গেলে যে পাখিটি উড়তে পারেনি আর,

তার কাছে রেখে দেই জন্মত্রুটির যাবতীয় সংলাপ




বুদ্ধপূর্ণিমা-২



তুমি আজকাল বুদ্ধের কথা ভাব-

সিদ্ধার্থ যশোধরার প্রেমের ভেতর খুঁজে দেখছ বুদ্ধমুহূর্ত


আজ রাতে কপিলাবস্তু থেকে হেঁটে আসতে আসতে

অন্য এক শুক্লপক্ষ কপিশা নদীটির জলে হাঁটু মুড়ে বসে,

কেউ কি মন্ত্র পড়ছেন ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’…


এক গভীর আকুতি নিয়ে গৃহী হও, 

উত্তরের হিমালয় ছুঁয়ে দক্ষিণের জানলায় প্রেম নামে খুব 

শ্রমজল মেখে কী চমৎকার ফুটফুটে হয়ে উঠছে বুদ্ধপূর্ণিমার চাঁদ




বৃক্ষ



অসংখ্য লাশের উপর বীজ ছড়িয়ে দিচ্ছেন মা

কে যেন বলেছিল সমস্ত বৃক্ষেরাই পরমাপ্রকৃতি


শ্রমজীবী তাপে সেঁকে নেওয়া শরীর ঘিরে 

মা হাঁটছেন, বাবা হাঁটছেন …

দ্যাখো, সমস্ত লাশ আয়ু ছুঁয়ে ছুঁয়ে

নিজেরাই বোধীবৃক্ষ হয়ে উঠছে  ক্রমশ




 

জাদু কিংবা সোনার কাঠি



তুমি ভাবছ এটা কোনো রূপকথার শহর নয়,

অথচ দোদুল্যমান গোলকটির ভেতর জাদু নগরীর প্রতিচ্ছবি

এখানে কি কোনো নারী আছে কিংবা পুরুষ!

তুমি কিছু ভয়াবহতা আশা করো বা অসম্ভব কিছু!

এই যেমন ধরো হঠাৎই একটা প্রেম নিদেনপক্ষে আলগা চুমু 

অথবা গোলকটার গা বেয়ে চুঁইয়ে নামুক ক্লান্তিকর দিন, শ্রম, ঘাম, উল্লাস … 

তুমি বুঝতে পারছ শহরটা মৃত আর একটা জাদুদণ্ড, বীভৎস চিৎকার, খুনিদের চোখ…


এদিকে নক্ষত্রদের ভেতর তারাখসা রাত জড়িয়ে জেগে উঠছে 

তোমার সন্তান এবং জন্ম না নেওয়া ভ্রূণেরা 






অর্থিতা মণ্ডল








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ