সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

পিউলী মুখোপাধ্যায়:দীর্ঘ কবিতা

 



কবিতা


ধারাবাহিক


স্মৃতির টাওয়ার ভাঙছে চোখের সামনে,

অথচ চাইছি হাতের মুঠোয় বালি ধরে

সেই বালিতে তৈরি হোক স্বপ্নের বাড়ি। 

 

পুরোনো ডায়েরির পাতা পুড়িয়ে 

নতুন লেখালেখিতে ভর্তি মনের দেওয়াল 

এখনও যারা এসব পারে না, তারা 

গোলকধাঁধায় ঘুমিয়ে দেখে 

সামনে রাখা সৌভাগ্যের স্ফুলিঙ্গ

আসল কাজই তো পছন্দের মুহূর্তগুলো 

নিয়ে অ্যালবাম তৈরি করা;

কঠিন সময়ে সামনে ভাসবে 

এক ফুঁয়ে উড়িয়ে কান্নার মেঘ 

 

বিনোদন চিরকালই নেগেটিভিটি মোড়ানো লজেন্স, প্রতিদিন খেলে ক্রনিক ডিপ্রেশন।

পাতার পর পাতা উল্টেও খুঁজে পাইনি যে নিজেকে ভালোবাসোচ্যাপ্টারটা,

নিজেই টাইপ করে ফেলে শেষ রাতে 

একটা মনোনীত বা অমনোনীত চিঠি;

তবে সব চিঠির কি উত্তর আসে?

 

 

লেখা ফুরোয় কথায় আর কথা থামে দেখায়

হয়তো হবে না কিন্তু চেষ্টা তো চলুক 

যেভাবে জন্মায় বেঁচে থাকার স্লোগান,

মানুষ হয়ে ওঠার গল্প,

দৈনন্দিন আলাপচারিতা, 

বিশ্বস্ত কথোপকথন এবং খুবই সাধারন মানুষ...

বনফায়ারের সামনে চিকেন বারবিকিউ খেতে খেতে মুখে মুখে ঘুরবে যেসব লাইন, 

অথবা বইমেলায় কোনও এক স্টলের কো-অর্ডিনেটরের চোখ আটকে যাবে হঠাৎ খুলে যাওয়া কবিতার পাতার যে লাইনে, 

সেই শব্দগুলো ধরে রাখার স্বপ্নই জটিলতায় ছড়িয়ে যাচ্ছে ভাঙা কাচের টুকরোর মতো

একবার এই চক্রে ঢুকলে সহজই ভীষণ কঠিন 

শব্দ ব্যবহারের লোভ অগ্রাহ্যে অনেক টেক্সটই আয়না, বিরক্তিকর।

 

এলোমেলো লেখার পাশে হিজিবিজি ছবি,

এরাও তো রূপান্তরিত কল্পনা থেকে কথায়

যে প্রকাশ করতে পারেনি নিজেকে, 

এইসব সৃষ্টি নিয়ে ঋণী করে রাখে স্রষ্টাকে 

অন্ত্যমিল পেলে কেটে দেওয়ার অভ্যেস 

আবার ঠোঁটে লেগে অনুপম রায়, ভীষণ অদ্ভুত... 

খুবই সত্যি কথা, যতক্ষণ পর্যন্ত

নিজের নামের ছায়া পড়বে না লেখায় 

নিঃশব্দ প্রচার চালাবে উচ্চারণের দলিল 

 

এই যে পরিকল্পনার আগে ইচ্ছে 

চলে আসছে বারবার 

ঠিক একই রকমভাবে ইচ্ছেকে চেষ্টার আগে বসাতে ভালোবাসা ডুবছে অভ্যেসে। 

দীর্ঘ কবিতা লিখতে লিখতে দীর্ঘ রাত, তারপরে

একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস খুঁজতে বেরিয়েছে

কবিতার উল্টো বক্তব্য

 

 

শিরায় শিরায় অকাল-শৈত্য দূর করতে কাল্পনিক প্রশংসা,

মানুষের পরিচয় ঝেড়ে ফেললে বন্ধ আবেগের কম্পন 

ঘড়ি কাটার সঙ্গে পা মেলাতে না পারলে ঘুমই বিকল্প; 

জীবন জুড়ে একজন যান্ত্রব সঙ্গী চাই 

নিষ্প্রাণ হলেও চলবে তবে না হারালেই হলো 

বিজ্ঞাপন শরীরের রেখায় এবং লেখায়

দরকার মিটলে ফিরে যাওয়া মানুষ,

বস্তু হয়ে গুঁড়িয়ে যায় 

পিকনিক শেষে পাতা ফেলার জায়গা 

দেখে নতুন বছর উদযাপনের কাজল।

 

প্রথা না পাল্টানোই যখন নিয়ম,

ইচ্ছে করে লুকিয়ে রাখি প্রিয় লেখা 

ভীষণ প্রিয় মানুষের মতো নিজের কাছে

 

বরং পরীক্ষা চলুক 

ধারাবাহিকভাবে একটা করে অনুভূতি ধরে বা তুলে 

শব্দে পরিণত করলে 

ঠিক কত মিনিট মন উদাস থাকে,

দীর্ঘস্থায়ী হয় স্বপ্নের বাড়ি...

 

 

 


                                                পিউলী মুখোপাধ্যায়

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ