সাম্প্রতিক

6/recent/ticker-posts

শুভব্রত আচার্য্য: অণুগল্প: রাগ

 

রাগ


অনেক হলো, এবার বাংলার ছিপিটা কষে লাগিয়ে ছন্দহীন উঠে দাঁড়ানো। নিভন্ত বিড়ি আঙুলের ফাঁকে ছেঁকা বসানোর আগেই বুঝিয়ে দিতে হবে, এখনো এই ফুসফুস অনায়াসেই বাইস গজ ঘাস উপহার দিতে পারে। নেশার মধ্যে একটা মানুষ তার মানুষীর নাভির ভেতরে সাঁতার কীভাবে কাটবে! এই নিয়ে কোথাও কোন ছাত্র বন্ধু পাওয়া গেল না আজ অবধি।

শেষ যেবার বাবা খেয়ে বন্ধুরা হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে, এ ওকে জড়িয়ে ধরছে তখন রিতম বোঝাচ্ছিল মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে সেই যে কাঁদতে শুরু করেছে সবাই, এখনও এইমুহুর্তেও সবাই কাঁদছে, এবং কেঁদেই যেতে হবে, কিন্তু তার মাঝেও আমাদের এই যে একবার হাসার চেষ্টা, দ্যাট ইজ লাইফ। কেউ গুরুত্ব টা বোঝে নি। গতকাল সুগতর কাছে ১০০ টাকা চাইতেই জিজ্ঞেস করলো আবার বাংলা কিনবি তাই তো?

কেন অভাবে খিদে পেলে ভালো কিছু খেতে মন চায় না? রিতমের সমার্থক এখন বাংলা! এই পঁচিশটা বছরের জীবনে এই প্রাপ্তি? অফিসে রিজাইন লেটারটা জমা দিয়ে আসার সময় খান্না জ্যামে যখন 202 দাঁড়িয়ে তখন খেয়াল করলো একটা ওঁরই বয়সী ছেলে উদাস হয়ে ভিড় দেখছে আর একবার আকাশ। রিতমের খুব ইচ্ছে হয়েছিল হৃদয় ক্ষরণ চেপে দুব্ব ঘাস খুঁজতে যাওয়া ছেলেকে বলতে, পোড়া ঘরের আশেপাশে এত সহজে জন্মায় না ভালোবাসা! এটা ভাবতেই খুব রাগ হলো হঠাৎ , কিন্তু কার ওপর? দু বছরের বেশি উপসী ঠোঁটের ওপর! না। বেকারত্বের সিজনাল ফ্লু? না। রাষ্ট্র ব্যবস্থা ? না।  তাহলে? “ভাই, হাত বাড়িয়ে দিয়ে দাও এইবেলাবলে উঠলো কন্ডাক্টর। পাঞ্জাবির পকেটে দশ টাকা বার করতে করতে বুঝতে পারল রাগটা ছেলেবেলার ড্রয়িং স্যারের ওপর, আর কোন দিন তাকে ক্ষমা করবে না রিতম। যে শুধু সূর্য আর সবুজ ঘাস জমিতে রং বোলাতে বলত বারবার

 



                                                শুভব্রত আচার্য্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ