ক্ষত
পনেরো দিন
আগের কথা, নাকি পনেরোটা জন্মের?
স্মৃতিগুলো
এখন নোনা ধরা দেওয়ালের মতো খসে খসে পড়ছে।
প্রকান্ড এক
ইমারত দাঁড়িয়ে আছে আমার মাথার ভেতর,
তার
জানলাগুলো সব ভাঙা, দরজাগুলো
হাঁ করে আছে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো।
হাওয়া নেই, অথচ খড়খড়িগুলো নড়ছে।
তুমি নেই, তাও তোমার গায়ের সেই তীব্র বুনো গন্ধটা
এই
স্যাঁতসেঁতে ঘরটায় আটকে আছে মাকড়সার জালের মতো।
আমি হাঁটছি— নিজেরই স্মৃতির করিডোর দিয়ে,
পায়ে বিঁধছে
ভাঙা কাঁচ আর পলেস্তারা।
হঠাৎ থমকে
দাঁড়িয়ে পড়ি।
কোণের
কুলুঙ্গির নিচে...
চুনকাম করা
দেওয়ালের গায়ে এক ফালি কালচে ছোপ।
শুকিয়ে যাওয়া
রক্ত কি সত্যিই অতটা কালো হয়?
ঠিক যেন কোনো
অচেনা অভিশপ্ত দেশের মানচিত্র।
পনেরো দিন
আগে ওখানে পলাশ ফুটেছিল,
এখন সেটা
নিছক একটা নোংরা ক্ষত।
আমি হাত দিয়ে
ছুঁতে যাই, কিন্তু হাতটা কেঁপে ওঠে।
শুকনো রক্তে
আঙুল ঘষলে কি তোমার হাড়হিম করা আর্তনাদ শোনা যাবে,
যা আমি পনেরো
দিন আগে গিলে ফেলেছি?
এখানে কোথাও
কোনো মানুষ নেই, অথচ
পায়ের শব্দ শুনতে পাই।
অন্ধকারে
একজোড়া চোখ ঝকঝক করে ওঠে,
ওটা আমার
নিজেরই ছায়া,
আমাকে ব্যঙ্গ
করে হাসছে।
দেওয়ালগুলো
ক্রমশ সরে আসছে,
রক্তের ঐ
শুকনো দাগটা এখন আয়নার মতো বড়।
আমি দেখতে
পাচ্ছি নিজেকে—
একটা কীটের
মতো মানুষ,
যে নিজেরই
বানানো ধ্বংসস্তূপে পথ হারিয়ে ফেলেছে।
ঐ তো, শুকনো রক্তের ওপর দিয়ে কি একটা হেঁটে গেল—
ঠিক যেমন করে
তোমার গলার ওপর দিয়ে চলে গিয়েছিল আমার হিমশীতল ছুরি।
এখান থেকে
বেরোনোর কোনো দরজা নেই আর।
আমি এখন কেবল
পচে যাওয়া কাঠের গন্ধ পাই,
তোমার সেই
শুকনো রক্ত এখন কালো পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে।
সুদেষ্ণা রায়



0 মন্তব্যসমূহ