দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

 





গুচ্ছ কবিতা

ভুবন বাড়ি১


 

ভোরের দেরি । দিনের গণিত ভুল । লম্বা রোদ।

বর্শা ধারালো ফলায় । অরণ্যপথ ছিন্ন

 

নষ্ট ঘাস । বুকে  জল । মানিক । কষ্ট উড়ছে। ফুল প্রশান্ত। মৃত জীবিত। তবুও গমণ

 

মনোরোম । আলাপের পর । ইচ্ছে বাঁচা তোলে । ধনেপাতা সুস্বাদু । কুরূপের পাশে রূপসী

 

সীমানা ‌। গীতা বা কোরান। অদৃশ্য ঈশ্বর ।

অক্ষরে খোঁজে । জেরবার । রক্তিম বিকেলে

 

লেখা ঘোড়া । কেশর ফোলালেই । দৌড় গন্তব্যে । কিন্তু কিন্তু কিন্তু । আছি যৌগিকে 

 


ভুবন বাড়ি ২

 

 

রোদের দিনলিপি । গান ছড়াচ্ছে । হাওয়ায়

নৃত্যের মুদ্রা । ঠান্ডা মাংস। উষ্ণ সম্বর্ধনা কামনায় 

 

নায়ে জলের আদর । বৈঠা গভীর । আশ্রয় অস্থির । মৃদু শিৎকারে । কুমারী দিনের যাত্রা

 

তার হাত । নেভা তেলের বাতি ।  মদ যোগ ।

শিখায় পরশ । আয়নায় আভা । ঘুম বিধবা 

ভাঙে 

 

ভাঙন বালুর বিছানায় । ত্রিভুজ। লঘু সংগীতের হেঁটে যাওয়া।  খিদের অংকজ্ঞান চিতা সাজায় 

 

জায়গায় জায়গায়। আলো। অন্ধকার । গ্রাম 

খাচ্ছে শহর । পেটে ঘা । পচনের বিলাপ অক্ষরে

 

রেখা হিরণের । সাদায় কালো অবয়ব । পুরনো

অ্যালবাম কোনো বাম না দেওয়ায় মান্যতা এক আপোষের নাম

 

 

ভুবন বাড়ি ৩

 

 

রোদের সুবাস । বাসা বেঁধেছে মুক্তির ঠিকানায়। প্রাণ আর প্রাণ আপ্রাণ ভাবাচ্ছে

 

ছেদ নেই । এই অঙ্কের ঘর । লিখে নেয় বৃত্তের পাঠ । ঘুরে ঘুরে অসুখ ফিরলে ছবি বেরঙ

 

রঙ্গ রঙ্গমঞ্চ সাজায় । ঐতিহাসিক পালা । কনসার্টে যুদ্ধের দাগ ।  সরবে বাজছে জামায় জামায়

 

মায়ের স্নেহ । দোকানের নাম । নরম পুতুলে 

আদল আমার মুখের । খিদে চাগিয়ে দুপুর

 

পুরের অন্ত নেই । নিষেধ জেগে থাকে দেয়ালে

দেয়ালে । পর্দা সরা ধৈর্যের পরীক্ষা।পর্দারও

 

ওপারের সব খবরই কুয়াশার । সারি সারি গাছের স্বরলিপি গান ছড়িয়ে ডাকছে পুরনো বেলা

 

ভুবন বাড়ি ৪

 

 

নৌকার ১লা । বিদায়কালীন সবিতারও ১লা ।

শ্মশানের আগুনেও ১লা । নিভে যাওয়ার ১লাপন

 

পনেরো শব্দটি । সংখ্যাও । দিনে মাসে বছরে ।

ঘুরে ঘুরে আসে । পুড়ে পুড়ে হারিয়ে যায় মা 

 

মাতাল করে । দুপুর রাত । তারায় তারায় তারানা । আকাশগঙ্গায় সংগীত ভেসে যায় 

 

যাওয়ার পাশে । হাঁটাকে বোঝাই । বেশি দূর

নয় । পড়ে থাকা ভাগশেষ। অংকের চলমানতা

 

তাহলে কিছু কথা তুলসী তলায় ১লায় ফিরে 

প্রদীপকে উসকে লিখে রাখে কেউ কেউ ঈশ্বরী

 

 

ভুবন বাড়ি ৫

 

 

রূপের দরজা । তালা বন্ধ। চাবি শ্রীরূপের কাছে । শ্রীরূপে মিশলেই  মিলে যাবে হদিস

 

স্নান । সারতে হবে । আপাদমস্তক। আহা মুক্তি। আগুনে আগুন বোধ । নেই। সব খোলা

 

খোল বোল তুলছে । কাঁহা কাঁহা । প্রেম উথলাচ্ছে । ভেঙে পড়েছে ভিতর বাহির মহল

 

হ্লাদিনী + বীজ =চৈতন্য । বোঝা বড় দায় ।

কুয়াশা কাটলেই  । অংক খোলসা । রোদে জলে মণি 

 

মণিময় দেবাশিস । সরাতে সরাতে মায়া । আলোর কারিগরের কাছে পায় আলোলিকা

 

২টি মন্তব্য: