শীলা বিশ্বাস

 



সম্পাদকীয়


এমন এক যুগের প্রবর্তন হলো, সমাজ যেন নিজে নিজেই অচ্ছুত্‍ হয়ে গেল। জীবন বিষাণু দূষিত। যখন তখন প্রিয়জনের প্রিয় সাহিত্যিকের অকাল বিয়োগ জানতে পারছি এই সোশ্যাল মিডিয়ায়। মৃত্যু এখন পরিসংখ্যান। হ্যাঁ, অনেক প্রতিকূলতা আছে যা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে পজিটিভিটি বা সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে । কিন্তু আতঙ্ক বা ভয় সেক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়েই দেয়। আসলে কাজের ঘরে আলো নিভিয়ে দেয়।

বিগত এক বছর ধরে সম্পাদকীয় লেখার সময়ে ভেবেছি  অতিমারি বিষয়ে একটি  শব্দও খরচ করব না। অথচ ঐ বিষয়টি কেমন জাপটে ধরে আছে আমাদের। ক্রমশ হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছি। আর তার থেকে  আমরা অনেকেই ডিপ্রেশনের মতো মানসিক ব্যাধির শিকার হচ্ছি। কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি।  কিন্তু লক্ষ্যচ্যুত হলে তো হবে না । ভিতরের লড়াইটা জারি রাখতে হবে। 

আমরা জানি যে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন ও হারিয়ে যাওয়া জীব বৈচিত্র্য যা আমাদের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট করছে । জীবাণুর বাহকরা নিজেদের বাসস্থান হারিয়ে মানুষের শরীরকে তাদের আবাস করে নিয়েছে । এই আত্মঘাতী সভ্যতা আর কবে পরিবেশ সচেতন হবে?  সদ্য প্রয়াত সুন্দরলাল বহুগুণার 'চিপকো' আন্দোলন এখনও বইয়ের পাতায় আর পরীক্ষার খাতায় রয়ে গেল।

ছাপার অক্ষরে সাহিত্য করতে পারছি না বলে আমরা কি  হেরে যাচ্ছি?  নাকি ইতিহাস এই সময়কে অন্ধকার সময় বলে দেগে দেবে যে সময়ে কোনও সৃষ্টিশীল ভালো কাজ হয়নি  ... আসলে এসব আশঙ্কার কথা...  তার চেয়ে বরং আশার কথা ভাবা যাক... নিজেদের অস্তিত্ব্ বাঁচিয়ে রাখার জন্য হয়তো বা জিনগত ভাবে এক ধাপ বিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। হয়তো গবেষণারত ভাইরোলজিস্ট খুব শীঘ্রই এমন কিছু  যুগান্তকারী আবিষ্কার করবেন  যা আমাদের কল্পনাতীত।

যদি বলি অন্ধকার সময়ে ই-পত্রিকা আমাদের একটা সুন্দর পথ দিয়ে নিয়ে চলেছে খুব কি ভুল হবে? অনেক নতুন নতুন জমি অনেক নতুন ফুল। মরণ আতঙ্কের পাশে সুন্দর জীবনের অভিব্যক্তি পাচ্ছি। একি কম বড় কথা?  এই অতিমারি ,প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েও এবং সইকথার  সাধারণ সংখ্যা হিসাবে তৃতীয় বর্ষ -দশম সংখ্যা প্রকাশিত হলো যা বাঙালির ভাষাপ্রেমের পরিচায়ক। এই সংখ্যা থেকে একটি নতুন বিভাগ শুরু করলাম ‘সাক্ষাৎকার’। আশা করি এই সংযোজনা পত্রিকার প্রিয় পাঠকদের ভালো লাগবে।

বাংলা ভাষার জয় হোক। পৃথিবীর ভালো হোক ।

 

শীলা বিশ্বাস

২০/০৬/২০২১


--------------------------------------

ছবি ঋণ: গুগল



লেখা পাঠানোর ঠিকানা: ebongsoikotha@gmail.com


২টি মন্তব্য: