মানবেন্দ্র সাহা

 



দুটি কবিতা

১.

ব্যঞ্জন


গল্পের শেষটুকু শোনাবে ব'লে বসিয়ে রেখেছো কতকাল। এখন এই নিরর্থ অবসরে তোমার হাতে হাতে কাজে লেগে পড়ি। ঘরময় সুধীর ব্যস্ততায় এক আধটা টুকরো ব্যঞ্জন কখনোবা স্থবির শব্দগুলোকে নাড়া দিয়ে যায়। রঙ বেরঙের মশলা শ্লথ ঝালটুকি থেকে গড়িয়ে পড়লে বেছে বেছে সব তুলে রাখি। অল্পের জন্য তোমার ইশারা মিস ক'রে মাংসের নুন দেখার সুযোগ হারিয়েছি কতবার। এখন শুধু তক্কেতক্কে থাকা বই কীই বা করার আছে। আঁশবঁটি আর সব্জিবঁটির ভিতর সুক্ষ্ম পার্থক্য আজও বুঝে উঠতে পারলাম না৷ শুধু শুধু রক্ত ভেবে কাঁচকলার কষ মুছতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হই একাকী। তুমি শুধু দ্যাখো আর হাসো। অদ্ভুত নিরাসক্ত তোমার সে হাসি। সুচতুর নিপুণতায়
  ক্ষতগুলি ধুইয়ে একটা পিঁড়ি পেতে দাও নরম জঙ্ঘার পাশে। গল্পের শেষটুকু শুনবো ব'লে আমিও বোকার মত একমনে নখ দিয়ে রসুন ছাড়াতে বসি।



২.

 

নরম মাটি

কেউ বুঝি মেথির ফোড়ন দিল
বাতাসে
মাথায় মাথায় ঠোকাঠুকি
হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে
বৃষ্টিভেজা ছিমছিমে দুটো সুপুরি গাছ

প্রকৃত মালিই জানে
কতটা রেখে কতখানি ছাঁটলে
বনসাই হয় গাছবৃত্তান্ত

আমি শুধু অকারণে পেছল করি পথ
ঘাসের নিচে নরম হয় মাটি
আর সন্দেহবাতিক পড়শী বিড়াল
সুযোগ পেলেই বেমক্কা খাবলে দেয়
আমার নরম মাটিতে

--------------------------------------

ছবি ঋণ: গুগল


 

1 টি মন্তব্য: