মন্দার মুখোপাধ্যায়

 


রবিবার - ২৪ মার্চ


সকালে কথা, প্রায় বলেই না ঝিলম । যন্ত্রের মতো এ ঘরের দু’টো জানলা আর বারান্দার দিকে একটা দরজা খোলে, পর্দা সরায়। খোসা ছাড়ানো চারটে ভেজানো এমন্ড, ত্রিফলা চূর্ণের শিশি, থাইরয়েডের ওষুধ আর জল ভরা তামার বোতল ট্রেতে সাজিয়ে, সাইড টেবিলে রাখে।এ.সির মেইন সুইচটা অফ করে, এ ঘর থেকে চলে যায়।  কাপড় ছেড়ে, ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে, পুবমুখো চেয়ারটায় এসে বসেন শমিতা। প্রথম কলিং বাজতেই ঝিলম আবার ঘরে এসে, সদর দরজার চাবি নিয়ে যায়। শমিতা জানেন যে, কে কে এবার পর পর আসবে। প্রথমে রান্নার সুবলা, তারপর একে একে চাবি নিতে গাড়ি ধোয়ার কানাই, খবরের কাগজ দিতে শিব , আর সব শেষে বাসন  মাজা - ঝাড়ু মোছার ঝর্ণা। মাথা না ঘুরিয়েও সুগন্ধেই শমিতা বুঝতে পারেন যে, ড্রেসিং টেবিলে রাখা পেতলের  থালায়, ধূপটাও ঝিলম মনে করে জ্বালিয়েছে।

সুবলা এসেই সকালের চা বানায়, সঙ্গে রুটি। ঝিলমও  এক কাপ চা আর একটা রুটি নিয়ে বাইরে ঘরে বসে, নিজের মোবাইলে কি সব কুট কাট করে। ঝর্ণা এলে, সাড়ে  সাতটা নাগাদ শমিতার ঘরের পর্দা সরিয়ে ঝিলম বলে, আন্টি আমি চলে গেলাম। শমিতা প্রতিদিনই মুগ্ধ হয়ে দেখেন, ঝকঝকে টান টান পোশাকে ওর সকালের প্রস্তুতি। আরও দুটো বাড়িতে, এবার দফায় দফায় গিয়ে ও  সারাদিন কাজ করবে। সেখানেই কোনও একটা বাড়িতে স্নান খাওয়া। মাঝে কোথায় একটা অর্ডারি সেলাইও। সন্ধেবেলা নিয়মিত আড্ডা এবং রাতের খাওয়া সেরে, দশটা নাগাদ শুতে আসে শমিতার কাছে। যে বাড়িতে ও বড় হয়েছে, সে বাড়িতে এখন আর কাজ না করলেও রাতের খাবারটা খায়। ওখানে ওর একটা পোষা টিয়া আছে। ওই গিন্নির খুবই টান আর মায়া, এই ঝিলমের ওপর।    

রাত্রে শমিতার এই একা একা থাকাটা তাঁর মেয়ের একেবারেই পছন্দ নয়। আবার রাতদিনের লোক রাখায় শমিতার আপত্তি। তিনি এখনও চাকরি করেন। খালি বাড়িতে সে লোক সারাটা দিন কি করে কাটাবে! তার ওপর শমিতার বাড়িতে আবার টি ভি ও নেই। যাই হোক ঝর্ণার ব্যবস্থায় রাতের লোক গৌরী দি কয়েক বছর করলেও,  অসুস্থ হয়ে কাজ আর করতে পারলনা। এবার ঝর্ণা আনল একটি অল্প বয়সী মেয়ে পিয়াকে। সে আবার সোচ্চার গিন্নি ,ফলে ঝর্ণা আর সুবলা দুজনকেই টাইটে রাখতে চায়। যে বাড়িতে তারা মাসি বোনঝি দু’জনেই থাকে, সেই বাড়ির ‘দিদা’ মারা গেলে পিয়াদের দেশে চলে যেতে হল। দিনে কোথাও থাকবার ব্যবস্থা না থাকলে, রাতে আর কি  করে  থাকবে? ঝর্ণা এবার নিয়ে এলো ঝিলমকে। একেবারে পিয়ার বয়সী কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। খুবই সপ্রতিভ, তবে বাচাল নয়। যদিও একটু অদ্ভুত আর আপাত এক চ্যাটাং চ্যাটাং ধরণ। আদর করে ওকে যেমন টম বয় বলা যায়, তেমনই  ভুরু কুঁচকে বখাটেও ভাবা যায়। আবার একটা দম চাপা বিষণ্ণতাও যেন ওকে ঘিরে। সারা শরীরেও কেমন যেন একটা পাকানো ভাব। কায়দার পোশাকেও স্বাস্থ্যের উজ্জ্বলতা একেবারে নেই বললেই চলে।  

তো কাজে বহাল হল ঝিলম। খুচরো খোঁজ খবরও সাধ্য মতো শমিতা নিলেন। খুব সৎ আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। একেবারেই ছেলে ঘেঁষা নয়। যদিও ওর গল্প থেকেই বোঝা গেল যে, রাজ্যের ছেলে ওর বন্ধু কিন্তু প্রেমিক নেই কোনও। কিন্তু, অসম্ভব বেখেয়াল আর ক্লান্তিতে যেন ধুঁকে পড়ছে। কিছুটা শিখিয়ে, কিছুটা শাসনে, ওকে যা হোক   একটু পথে আনতে পেরেছেন শমিতা। তাঁর একটাই ভরসার কারণ হল, ঝিলমের সত্যি কথা বলা। তবে সে সব সত্যি শমিতার পক্ষে হজম করা খুব কষ্টের। দুর্ভাগ্যের শক্তি যে কি সাঙ্ঘাতিক তা জেনেই যেন ঝিলমের ওপর বড় মায়া পড়ে গেছে তাঁরও। আর কিছুটা যেন কৌতূহলও বটে, কারণ ঝিলম এক বিচিত্র জগতের বাসিন্দা। তো, আজ সকালে ঘরে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়ালে, শমিতা বললেন - কিছু বলবি? ঝিলম বলল – কালকে তো সব বন্ধ, দুপুরে আমাকে এখানে থাকতে দেবে? শমিতা বললেন – বুঝলাম না, কি বলছিস?   

ঝিলম বলল – যে বাড়িতে সকাল বেলা থাকি, ওরা আজ রাত থেকেই ওদের বাড়ি থেকে যেতে বলেছে। আমি থাকতে চাইনা, খুব খাটাবে। অন্য মাসিও তো আসবেনা। সব কাজ আমার ঘাড়ে পড়বে। 

শমিতা বললেন – থাকতে পারিস, তবে বাড়ি থেকে একেবারেই বেরোতে দেবনা।

মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বেরিয়ে গেল ঝিলম। এ ঘরে শমিতা তখন একা থাকায়, ঝর্ণা কিছু জানতে পারলনা। সুবলা তো এমনিতেই আসছেনা, দিন দশ হল। শমিতা যা হোক নিজেই একটু করে নিচ্ছেন। চাকরিতে বেরনোর তাড়া না থাকলে কি আর এমন রান্না! তবে নিয়মিত রান্নার লোক এলে খাওয়াটা পরিমাণ মতো হয়, না হলে অনেক  কিছুই সময়ে বাদ চলে যায়, বিশেষত রাতের খাবারে। ঝর্ণা এখনও দু’বেলা আসছে। গত পনেরো তারিখ থেকে  তাঁর কলেজ নোটিশ দিয়ে বন্ধ। ঝর্ণার আসাটাও বন্ধ করা উচিৎ। চার ছয় বাড়ি ঘুরে ঘুরে কাজ করে। সারা  পৃথিবী জুড়ে ‘হোম আইসোলেসনের’ কথা ভাসছে। করোনা ভাইরাসের বলি হাজার হাজার মানুষ। চীন, ইতালি,   আমেরিকা, ব্রিটেনে জনজীবন স্তব্ধ। ক্লেয়ারমন্টবাসী বাসব জানিয়েছে যে, মেক্সিকো থেকে বাড়ি এসে, ওদের ছেলে  শুভ ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকে আছে। আরেক ছেলেও জার্মানি থেকে আমেরিকা ঢোকার অনুমতি পায়নি। শমিতার ভাইপোও তার বউ সমেত ব্রিটেনে আটকে পড়ল। ওয়াটস আপ গ্রুপের ইশকুল বন্ধুদেরও এই এক উদ্বেগ। যারা বিদেশবাসী তারা তো চরম উদ্বেগে, আর ছেলে মেয়েদের কাছে বেড়াতে গিয়ে যারা আটকে পড়ে ফিরতে পারছেনা তাদেরও আর এক দুশ্চিন্তা। গত মাসে আমেরিকার আর এক প্রান্তে, আরলিংটনে থাকা শুভাদি লিখেছে যে ওদের  ওখানে সব ‘শাট ডাউন’। সেটা অবশ্য বিশদে লেখেনি বলে শমিতা খুব ভাল বুঝতে পারেননি। এখানেও বন্ধ,   উড়ান সমেত যাবতীয় পরিবহন ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে  করোনায় প্রথম মৃত্যুও  ঘটে গেছে, নয়ডায় এক বৃদ্ধার, ইতালি থেকে আসা ছেলের সংক্রমণে। শমিতার মেয়েও চাকরি সূত্রে প্রবাসী। বাচ্ছা নিয়ে থাকে। জামাই আসা যাওয়া করে। জামাই এবারে কলকাতায় ফেরার পর পরই মহারাষ্ট্রে সব বন্ধ হয়ে গেল। এত উদ্বেগের মধ্যেও শমিতা ভাবছেন শুধু আগামীকাল, রবিবারের কথাই। কেন্দ্র - রাজ্য জুড়ে মিলিত প্রচার, একদিন ‘হোম আইসোলেসনের’    এবং কাজের মেয়ে ও অন্যান্য পরিষেবায় থাকা মানুষদের সবেতন ছুটি দেওয়ার আবেদন। রবিবার ঝিলমকে এখানে থাকবার অনুমতি দেওয়াটা কি ঠিক হল! একটা দোমনা ভাবের সঙ্গে বেশ আরামও হল, সারাদিনটা যা হোক একা কাটাতে হবেনা ভেবে।  

ঝর্না চলে যাবার পরেই আটটা নাগাদ ঝিলম ঢুকল, দু’টো বিগ শপারে ঠাসা জিনিস নিয়ে। ঠিক যেন, কোনও আস্তানা চিরদিনের মতো ছেড়ে চলে এলো। শমিতা যেন দেখেও দেখলেন না। রোজকার রুটিন মাফিক জিজ্ঞেস করলেন, খেয়ে এসেছিস - ভাল করে হাত ধুয়ে কাজে হাত দিস।  শমিতার খাওয়া হয়ে গেছে। রাতের ওষুধ খেয়ে পোশাক বদলে, ঢিলে একটা থ্রি কোয়ার্টার পালাজো আর স্লিভ লেস শর্ট কুর্তি পরলেন। শুতে যাওয়ার আগে ঝিলম একটু পা পিঠ কোমরে তেল মালিশ করে দেয়। ঘুমের ওষুধ এখনও লাগেনা। 

অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভাঙে। আজ কেউ বেল দেয়নি – ‘লক ডাউন’। বাইরে ঘরে গোল পাকিয়ে আড়মোড়া ভাঙছে ঝিলম। শমিতা নিজের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন। রবিবারে প্রায় সব বাংলা দৈনিক আসে। সে সব নিয়ে বসবার আগেই ঝিলম চা দিতে এলে ওকে  বললেন, 

- ছোলার ডাল আর বেগুন ভাজাটা ফ্রিজ থেকে বার করে রাখ। আর আটা মেখে খান চারেক রুটি কর। 

ঝিলম বলল - আর কি করব? 

শমিতা বললেন - আপাতত জল খাবার খেয়ে নিজের মনে থাক। আমাকে বিরক্ত করিস না।

গরম রুটি খেয়ে খুব তৃপ্তি হল। শমিতা ডুবে গেলেন রবিবারের কাগজ সাহিত্যে। অন্য দিন এভাবেই বেলা হয়ে যায়। এক ফাঁকে দুপুরের খাওয়া সেরে একটু  গড়িয়ে নিতে নিতেই অন্ধকার হয়ে আসে। আজ ঝিলম থাকাতে  সব অন্যরকম লাগছে। ঝিলমের ফোনের কথা হঠাৎ থেমে গেল। শমিতা ঘাড় না ঘুরিয়েও বুঝলেন যে, এ ঘরে সে এসেছে।

পর্দা সরিয়ে বলল- চা খাবে? তুমি খেলে আমিও একটু খাই। 

শমিতা বললেন – ছোট কাপে। বিস্কুট নয়। ঘড়িতে দেখলেন, বেলা এগারোটা।

ঝিলম বলল – ঘর ঝাঁট দিয়ে মুছে ফেলি, ইস্তিরি থাকলেও দিতে পার।

শমিতা বললেন – ও বাড়িতে  ইস্তিরিও করিস ?

ঝিলম বলল – ওরে বাবা! দোকান দিতে পারি, তায় আবার টেবিল নেই , মাটিতে থেবড়ে বসে। শমিতা বললেন – শুধু ঝাঁট দিয়ে দে, আজ তুই আমার গেস্ট। 

ঝিলম বলল – তা হলে ভাতটাও বসিয়ে দি, ওটা আমি পারি। 

কথাটা বলেই শমিতা চমকে উঠলেন। বাড়াবাড়ি করে ফেলছেন না তো! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু হাসলেন, নিজেকেই আজ আবার না হয় একটু প্রশ্রয় দিলেনই। কতকাল কোনও বেনিয়ম নেই। এত আলো ঝলমল করে,  অবেলার রান্নাঘরে! আশ পাশের ফ্ল্যাট থেকে মাংস রান্নার সিটি পড়ছে। সরকারি নির্দেশে ‘হোম আইসোলেসন’ তো  কি! রবিবার মানে অন্য আয়োজন। একটা বাচ্চাও আজ নিচে নামেনি। গাড়ির শব্দ নেই। বেশির ভাগ বাড়িতেই  টি. ভির শব্দ, বারান্দায় ফোনালাপ। কেউ কেউ নৃত্যনাট্যও চালিয়েছে সাউন্ড সিস্টেমে। ঝিলমের ভাত রান্না, ঘর ঝাঁট সব শেষ। একটা নতুন সাবান বার করে নিতে বললেন শমিতা, আর স্নানের পর জল টেনে শুকিয়ে তবে বেরোতে। স্নানে যেতে যেতে, মজা করে ঝিলম বলল – আজ সকলের শোবার ঘরে ঠাসা ঠাসি হয়ে যাবে। বুড়ো বুড়ি গুলোকে খাট থেকে না নামিয়ে দেয়। কোথায় যাবে সব? মলগুলো তো সব বন্ধ। সারাদিন শুধু গড়াবে। মটর ডাল ভাতে, বড়ি ভাজা, আম ঝোল আর নিম বেগুন করে গ্যাস অফ করলেন শমিতা। একটু জিরিয়ে নিতে ঘরে এসে ভাবলেন, বাড়াবাড়ি করছেন না তো! বুঝলেন, ভেবে সময় নষ্ট না করে দইমাছটা আভেনে বসিয়ে দেওয়া যাক। ওটা হয়ে গেলে কয়েকটা পাঁপড় স্যাঁকাও। টেবিলের কাছে এসে দেখলেন, ঝিলম সব সাজিয়ে  রেখেছে। নিজে থেকেই কেটে রেখেছে শসা টম্যাটো পেঁয়াজের এক প্লেট সালাদও। গন্ধরাজ লেবু কেটে জলে ভাসিয়ে রাখলেন শমিতা। ঘরে গিয়ে, মাথা আঁচড়ে, পাটভাঙা একটা শাড়ি, সাদা স্লিভ লেস ব্লাউজ

দিয়ে পরে, কপালে টিপ লাগালেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আবার মুচকি হাসলেন শমিতা। কাউকে কি মনে মনে বললেন,     -  আরে বাবা, কারও জন্যেই নয়, নিজের খুশিতে! 

পোরসিলেনের সাদা প্লেটে খাবার গুলো বেড়ে দিলে, ঝিলম সেটা নিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগোল। শমিতা বললেন,  -- ওদিকে কেন, বসার ঘরে ছোট টেবিলে রেখে খা।  কিছুক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে,

বাধ্য মেয়ের মতো তাই করল। ভাতে হাত না দিয়ে, মোবাইল বের করে ছবি তুলে রাখল। শমিতা হাসলেন। ভাত নিবি না? বলাতেই, ও এদিকে তাকিয়ে মাথা নাড়তে, শমিতা দেখলেন, ওর চোখ দুটো জল উপচে টলটল করছে। সামলে নিয়ে বলল,   

 --  রোজ তো ওদের কিচেনে প্লেট হাতে নিয়ে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাই, তাই ভাবছি।  

শমিতা বললেন -  তোর না আমার বাড়িতে আজ নেমন্তন্ন!  

ঝিলম বলল – তাই তো দেখছি।

খাওয়া শেষ হলে জিজ্ঞেস করলেন - কাকে পাঠালি নেমন্তন্নের ছবি?

ঝিলম বলল – আমার তো ওই একজনই আছে, সুমনা দিদি।

ঘরে এসে কাগজ হাতে এলিয়ে পড়ে শুনতে পেলেন, ঝিলম ফোনে খুব ঝগড়া করছে। মান অভিমানই চলছে ।    বুঝলেন যে, ওই সুমনা দিদির বাড়িতেই আজ সারাদিনটা কাটাবার ছিল ঝিলমের। একেবারে প্রেমে প্রত্যাখ্যানের  সংলাপ এবং লাগামহীন কান্নাকাটি। কিছুক্ষণ পরে, শমিতাকে চমকে দিয়ে, না ডাকতেই ঘরে এলো ঝিলম।এলোমেলো চুল, ফোলা চোখে জানতে চাইল, চা খাবেন কিনা। শমিতাকে চা দিয়ে আবার শোনা যেতে লাগল ঝিলমের গলা। আবার সেই অভিমানী ফোন পর্ব। কৌতূহল এবং কিছুটা উদ্বেগে কান পাতলেন শমিতা। পাগলের মতো চেঁচিয়ে কেঁদে, সুমনাকেই বলছে ঝিলম, 

- কেন তুই বিয়ে করবি? তুই তো আমার বউ। আমার সঙ্গেই তো তোর সব কিছু । তোর বর কি মেনে নেবে, আমাদের সম্পর্ক………..  !

শমিতার কানে খট করে লাগল ঝিলমের ওই আধিপত্য পূর্ণ স্বর – ‘তুই তো আমার বউ’।