বৈশাখী নার্গিস


বৃষ্টি এবং আমরা 


প্রাত্যহিক আজানের পর সন্ধে নেমে আসে চিঠিতে। ট্রাম লাইনে তখনও পড়ে থাকে কাঠ ফাঁটা রোদ্দুর। আমাদের চার হাত এক হয়। ও আকাশে মেঘ দেখিয়ে বলে, আজ কিন্তু একদম মেঘের বাড়ির আবদার করবে না। আমি বলি ফড়িং ধরতে যাব। অন্ধকার গুলে খেয়ে নেওয়া সাদা বিল্ডিংটায় ঘুম আসতে শুরু করে। নিয়ন আলোর মতো স্বপ্ন ব্যাসার্ধ মেপে নেয়। আমরা হাসতে থাকি বেহিসেবী।এইসব দিনগুলো একদিন গল্পের মতো শুনিয়ে যাবো আত্মজকে। গ্রিলের এপারে একটা শহর। আর ওপারে পা রাখলেই যেন, উপবাসী ঠোঁট বাংলায় লিখে রাখবে পায়ের ছাপ। ও আনমনা হয়ে গান ধরে, 'কেমন বাঁশি বাজায় শোনো মাঠে তে রাখাল'। ফড়িং ধরা ছেড়ে তখন গভীর দিঘি হয়ে যেতে ইচ্ছে করে আমার। একটা গোটা মাঠ জুড়ে শুধু আকাশ... আর আকাশ। আমাকে বলে, পরের জন্মে তুমি শুধু চড়ুই পাখি হবে। যে শুধু আকাশ দেখবে আর গান গাইবে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে কথার ভিড়ে। ফেরার সময় আমরা একটা গাছ পুঁতে দিয়ে আসি। নিজস্ব এক ঝড়ের নামে নাম রাখি 'সবুজ'। একটা দুষ্টু কিশোর আর বেনী দোলানো এক কিশোরী হাঁটতে শুরু করে আবার। ভেজা মাটির গন্ধ তাদের মন ভরিয়ে রাখে।