অনিতা অগ্নিহোত্রী

 


দুটি কবিতা


আঁধার সাধনা

আমার সামনে
  মেলা যে জীবন, তাতে ঢেলে দিয়েছ অপরাহ্নের আলো!
এত আলো! আমার শয্যা ভেসে চলে যাচ্ছে দিগন্তের দিকে,
ওখানে কোনও
  পাহাড়ের পিছনে সূর্য অস্ত যায়।
যাকে পাহাড় মনে ভাবি তা এক সাগর পোত, কাজেই দিগন্তেও আমার যাত্রা শেষ হবেনা।
পৃথিবীর ঢাল বেয়ে আমি নামতে থাকবো অন্য এক ঊষায়,
যেখানে এই অস্ত সূর্য সদ্য
  উঠেছে, ঘুম ভাঙা।
অন্ধকারের জন্য পথ চাইতে চাইতে আমার চোখ দুটি ক্লান্ত
আর তারা ফুটলেও আমি দেখতে পাইনা আকাশের অতল গম্বুজ।
মধ্যরাত্রির মধ্যে বসে থাকতে থাকতে দেখি
মেরু বলয়ের রঙের খেলায় মুছে যায় কালপুরুষ।
সূর্য নিভে গেলে একদিন, কোটি বছরের পর, সে যখন এক নিস্তাপ সাদা নক্ষত্র, 
আমার আঁধার সাধনা ভরে উঠবে রাত শিশিরের করুণায়। 





পূর্বজন্মস্মৃতি


এত বার নিয়েছি তোমাকে,আমার ভিতরে তুমি রয়ে গেছ, অদৃশ্য স্প্লিনটার তোমার।
এখনও রক্ত ঝরে অভ্যন্তরীণ অন্ধকারে। আমি পথ চলি, দীর্ঘ পথ। 
রক্ত লেগে থাকে তীব্র, পথের পাথরে, ধূলায়, রৌদ্রে রক্ত মরিচার বর্ণ পায়, গন্ধ হীন স্মৃতির ক্ষরণ।
তুমি কি কোথাও জাগ, দেহহীন বেদনার মত, বিযুক্ত, স্বাধীন পাহাড়?

মনে পড়ে কোনও দিন এই পথে এসেছিলে বলে, এই ঘরে, অন্ধকারে খুঁজেছিলে পথ?
কোনও দিন জ্যোৎস্নায় তোমাকে হারাই আর মনে আসে পূর্বজন্মস্মৃতি।
বিস্ফোরণ ঘটে ছিল, আনন্দে ,আকিঞ্চনে, স্বেদে ও উল্লাসে।
তোমার স্প্লিনটার সব গেঁথে গেল মজ্জায় আমার,
তুমি
  ফিরে চলে গেলে রাত্রি অবসানে।
একদিন ভোরে দেখি,
স্বপ্ন লোক। এইখানে।
একখানি শেফালীর গাছ, জানালার পাশে।
তুমি।
রেখে গেছ নিজের সুবাস।