বঙ্গ রাখাল

 



বঙ্গ রাখালের তিনজন প্রিয় মানুষকে লেখা চিঠি…

 

১.মার কাছে চিঠি

শ্রদ্ধেয় মা,

কেমন আছো তুমি? অনেকদিন তোমার সাথে আমি কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমি তো জানো মা কিভাবে আমাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে হল। আমি কেমন আছি সেটা জানতে চেয়েও না। শুধু বলি ভাল নেই এটুকু জানো। তোমার নূরানী মুখখানা খুব দেখতে ইচ্ছে করে। মা, তুমি তো জানো তুমি ছাড়া এই পৃথিবীতে আমার কেউ নেই, তুমিই আমার- তোমার কলিজার টুকুরা ছিলাম আমি অথচ আজ সবার ছেড়ে কত দূরে আমি।  তোমার জন্য অনেক কষ্ট হয় মা। আমার যে মা আমাকে রেখে কোনোদিন খেতে পারেনি, সে আজ কেমন করে আছে আমাকে ভুলে, না দেখে। আমার বাড়িতে আসতে একটু দেরি হলে- যে এত বেকুল হয়ে যেত সেই মা আমাকে ছেড়ে কেমন করে আছে? আমার মনে হয় তোমারও অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কেউ বুঝলো না। জানো মা আমি শুধু তোমাদের ছেড়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চলে এসেছি। যেদিন পাড়ার লোক বলল তোর মা দুশ্চরিত্রা। তোর সহজ সরল বাবাকে রেখে চলে গেল কি করে, একজনের হাত ধরে। আমি এই লজ্জায় মুখ কাউকে দেখাতে পারিনি মা। আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সেই মা আমাকে ছেড়ে কেমন করে আজ অন্যের বুকের ওম খোঁজে। যে মা আমার কল্পনায় একদিন আবাস গড়েছিল, যাকে নিয়ে আমি স্কুলের রচনা প্রতিযোগিতায় আমার সেরা মা রচনা লেখে প্রথম হয়েছিলাম- সেই মা এমন করতে পারে আমি কখনও ভাবতে পারিনি মা। জানো মা, আমার তোমার কথা মনে উঠলে বুকের মধ্যে একধরণের কাঁপন দিয়ে ওঠে। চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়ে। তুমি আমার আসতে একটু দেরি হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে সেই মা তুমি এমন হলে কি করে, আমি বুঝতে পারিনা। কি অভিমানে তুমি অন্যের হাত ধরলে মা। পৃথিবীর কোন সুখই স্থায়ী নয় তবু কেন মানুষ এই মরিচিকার পিছু নেয় আমার জানা নাই? মা তোমার মনে আছে আমি একবার জ¦রে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম তাই তুমি বার বার আমার মাথায় পানি দিচ্ছিলে এবং সারা রাত আমার মাথার কাছে বসে রাত পার করেছিলে। বাবা আমাকে একদিন কটুকথা বলেছিল বলে তুমি সারারাত না খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলে। হয়তো বা আর কোনদিন ভাল করে তোমাকে জানাও হবে না। কারণ আমি আর কোনদিন দেশে ফিরতে চাই না? তোমাকে নিয়ে মানুষ খারাপ কথা বললে আমি যে তা সহ্য করতে পারি না মা। জানো মা এখনও তোমার একটা ছবি আমার কাছে কাছে রাখি। আমি সব সময় আমার প্রিয় মার ছবিটা বুকের মধ্যে পুশে রাখি। কারণ কি জানো- আমি মনে করি আমার মাই আমার সমস্ত ক্ষমতার উৎস। তোমাকে কোনদিন না দেখে আমি ঘুম থেকে উঠিনি মা। তবে কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে? তোমার অনেক বছর সন্তান হতো না। পাঁচ বছর পর আপু, দু‘বছরের মাথায় আবার আমি। আমিতো দেখতে অনেক কালো, আমার সারা শরীরে নাড়ী প্যাঁচানো ছিল, তোমরা বলেছিলে আমি বামন ফকির। তাইতো আমাকে তোমরা অনেক বেশি আদর করতে। আপুর চেয়েও আমার খোঁজ খবর বেশি রাখতে তোমরা এ জন্যই তো আপু বেশি গোশস্যা করে থাকতো এবং বলত কালু খাঁ কেন যে আবার আসল। এখন আমাকে আর কেউ আদর করে না। আমার সারাক্ষণ তোমাকে মনে পড়ে মা। কত কষ্টে তুমি আমার বুকে করে রাখতে। এক ঝড়ের রাতে তুমি আমাকে বুকের মধ্যে আটকিয়ে রেখেছিলে যেন আমি বিদ্যুতের আলোয় চমকিত না হয় কিংবা বাজের শব্দে আমি ভয় না পাই। আমার সেই মা... এই দেশের সব কিছু ছেড়েছুড়ে থাকতে আমার খুব খারাপ লাগে। তোমার মুখ দেখার ইচ্ছে হলেই তোমার ছবিটা বের করে দেখি-সেদিন আর খেতে পারি না। বুকে জমে কষ্টের পাথর। চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারি না। এ যে এক নিরব হন্তারক। আমাকে প্রতিদিন তিলে তিলে হত্যা করে চলেছে। তবুও কাউকে বলতে পারি না । মা মা করে চিৎকার করি তবুও কেউতো এসে মাথায় হাত বোলায় না। আদর করে কাছে টানে না কিংবা জ¦র হলে সারারাত মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বোলায় না। মা মা কেন তুমি এমন হলে? আমার বেদন কি কখনও বুঝবে না। তোমারও কি এমন হয়? তোমারও কি আমার কথা মনে হলে বুক হু হু করে ওঠে। হাজারও শেল বুক বিদ্ধ করে...নিজেকে একটু হালকা করতে তোমাকে এই পত্র লেখতে বসা। যেখানে থেকো ভাল থেকো মা।

 

                                                                       ইতি

                                                                  তোমার চোখের মণি

                                                                         বঙ্গ রাখাল





২.বাবার কাছে চিঠি

শ্রদ্ধেয় বাবা,

তুমি কেমন আছো? বড্ড জানতে ইচ্ছে হয়। আজ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছে তোমাকে, তাই এই চিঠি লিখতে বসা। প্রতিটা মানুষকেই পাড়ি দিতে হয় জীবনের কঠিন সত্যের নদী। কখনো সখনো এ সত্য পথের সঙ্গী হয় পরিচিত মানুষ, আবার সঙ্গী হয়ও না। সঙ্গী হওয়াটা যেমন বাস্তবতা, তেমনি আবার না হওয়াটাও কঠিন বাস্তবতা। না হওয়াটাই সত্যজাত। আবার কখনো হঠাৎ সঙ্গী হয়ে যায় অপরিচিত মুখ। বাবা তোমার মনে আছে একদিন তুমি আমাদের সার্কাস দেখাতে চড়িয়ার বিল বাজারে নিয়ে এসেছিলে। এমনকি আমাদের গাজীর গানের আসরে গান শুনতে নিয়ে যেতে। প্রথম যেদিন আমার স্কুল জীবন শুরু হয়, তাও তোমার হাত ধরেই। একদিন তুমি আমার হাত ধরে নিয়ে গেলে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান মাষ্টারের বাড়ি। সেখানে তুমি অনেক কথা বলেছিলে; সেদিন কি কথা হয়েছিল তা আজ আর সব কথা মনে নেই; কিন্তু আমি প্রথম ক্লাসে যে ভর্তি হতে এসেছি তার পরীক্ষা করার জন্য স্যার আমার কান ধরতে বলেছিলেন তা ঠিকই মনে আছে। কান ধরতে সক্ষম হলে স্যার তার ঘর থেকে একসেট বই এনে আমাকে দিয়েছিল আর বলেছিল- বাবার মান রেখো। তোমার সাথে বই নিয়ে বাড়িতে চলে এলাম। তোমার মনে আছে বাবা একদিন আমাদের গ্রামে বায়োস্কোপ আসল। এ কথা আমরা কেউই জানি না। তুমি বাজার থেকে আসার সময় দেখে এসেছো। গ্রামের বোর্ড অফিসে কারা যেন এসেছে সরকারি জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য। তুমি সেসব দেখার জন্য আমাদের ঘুমন্ত মানুষগুলোকে ডেকে নিয়ে গেলে। আমি আর আমার আপা সেদিন প্রথম দেখেছিলাম- নানা নাতনির গাম্ভীরা গান। আর জুলেখার বিয়ে নামক দুটি অনুষ্ঠান। বাবা তুমি তো খুব মজার মানুষ এবং বিনোদন পাগল ছিলে। কত গাজীর গান দেখতে গিয়েছি তোমার সাথে। তুমি গাজীর গান হলে খবর পেতে এবং আমাকে নিয়ে গিয়ে ঝুরি ভাজা কিনে দিতে, কি যে তৃপ্তি! জনগণের মাঝে বসে খাওয়া। বাবা তুমি খুব ভালো মানুষ ছিলে (সবার বাবাই সবার কাছে প্রিয় মানুষ)। কিন্তু আমি কোনোদিন ভাবিনি যে, এত তাড়াতাড়ি তোমাকে হারাবো। আমাদের এ মধ্যবিত্ত পরিবারটা চালাতে তোমার খুব কষ্ট হত তাই না বাবা? সেকথা তো তুমি কোনদিন মুখ ফুটে বলোনি? তুমি তো পরিশ্রমও কম করতে না। আমি সবে মাত্র ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন তুমি চলে গেলে। আমরা সবাই ঘুমিয়ে আছি। রাত ১২টার দিকে উঠেই তোমার বুক ফেঁটে যাচ্ছিল। সবাই ভাবল তোমার গ্যাস্টিকের সমস্যা। কিন্তু পরের দিন ঝিনাইদহ্ সদর হাসপাতাল থেকে ইসিজি করে জানা গেলো তোমার হার্টের সমস্যা। নিয়ে আসা হলো খুলনা আড়াইশোবেডে। সাথে ছিলেন সব্দুল কাকা। আর খুলনায় ছিলেন আইউব কাকা। বাবা তুমি যেদিন চলে গেলে সেদিন ছিল শুক্রবার। তুমিতো আমাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন বাবা। আমি তোমার দিকে তাকিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলাম না। তোমার তো খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিছু সময় পর পর অস্থির হয়ে যাচ্ছিলে। মা তোমার এ অবস্থা দেখে সহ্য করতে না পেরে শুধু চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছিল। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য আমার এখনও পীড়া দেয়। আমি কিছুই খেতে চাচ্ছি না। কারণ তোমার এমন অবস্থায় আমার খাবার খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এমতাবস্থা দেখে তুমি বললে মুনি কাঁদছ কেন? কেঁদো না, খাও। খেয়ে নাও। আমি ভালো হয়ে যাব, চিন্তা কর না। খাও... এটাই তোমার শেষ কথা। এখনও তোমার শেষ কথা খাও মনে হলে দুচোখ বেয়ে জল নেমে আসে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারি না, আমার বাবা মারা গেছে। আমি সহ্য করতে পারি না, তুমি নেই। যখন দেখি হাজার হাজার বৃদ্ধ হাঁটতে পারে না তবু হাঁটে, চলতে পারে না তবু চলে, তখন খুব খারাপ লাগে। বুকের মধ্যে একশ একটা ভূমিকম্প বয়ে যায়। মনে হয় তুমি অসুস্থ হয়ে কাছে থাকলেও ভালো লাগত। আমি রাতে বাড়িতে ফিরলে তুমি বলতে- কে? আমার উত্তর পেলে বলতে- মুনি! এত রাত কর কেন? সকাল সকাল আসতে পারো না? কিন্তু এখন ঢাকা থেকে বাড়িতে গিয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ফিরলেও কেউ বলে না- মুনি নাকি? এত দেরি কর কেন? কত রাত বাড়িতে ফিরি না। জানো বাবা এখন কেউ জিজ্ঞাসাও করে না- রাতে কোথায় ছিলি? কি খেয়েছিস? রাতে ঘুম হয়েছে কি না। তুমিই ছিলে আমাদের দুঃখ দিনের সাথী, ব্যথা-বেদনার সঙ্গী।  আজ কেউ বলেও না- বাবা খেয়ে নিস, বুকে ব্যথা হলে ডাক্তার দেখাস, ভালো থাকিস, সাবধানে চলিস। আজ তোমার শেষ কথাই বার বার মনের খোড়লে দোল খায়। মুনি খাও, কাঁদছ কেনো কেঁদো না, আমি ভালো হয়ে যাবো...তাই তো তোমাকে চিঠি লেখছি। যেখানেই থেকো ভাল থেকো বাবা।

 

                                                        ইতি

                                                  তোমার স্নেহের

                                                     বঙ্গ রাখাল




৩.প্রিয় মানুষের কাছে চিঠি

প্রিয় রবিদা,

কেমন আছো বাংলাসাহিত্যের সিংহ পুরুষ? হয়তো ভাল আছো? তোমার তো খারাপ থাকার কথা নয়। তোমার কথা আজ দিকে দিকে ধ্বনিত হয়? আমার মনের মধ্যে তুমি চিরস্থায়ী আবাস গড়ে নিয়েছো। আমার পড়ার টেবিলে তোমাকে দেখি, পড়ার জন্য যে পুস্তিকাটা খুলেছি তার মাঝেও তোমাকে দেখি? সেদিন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তোমাকে দেখতে পেয়েছি? তোমার সাথে কথা না হতেই তুমি চলে গেলে। তোমার তো একদিন স্থান ছিল চার দেয়ালের ভিতরে। তোমার মনে পড়ে রবিদা, তুমি ছিলে তোমার মায়ের অনেকগুলো সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান এবং তোমার গায়ের রং ছিল কালো। সেজন্য তোমার মার কত ভাবনা  ছিল তোমার কালোত্ব নিয়ে। তোমার মা বলতো আমার রবি সবার চেয়ে ভিন্ন রুপে, গুণে। মা তো তোমার গায়ের কালো রং দূর করার জন্য সারা দিন রাত তোমার শরীরে ননী মাখাতো। মনে পড়ে রবিদা, গগণ হরকরার গানের কথা। যার গানে তুমি বিমুগ্ধ হয়ে তার পানে চেয়ে থাকতে। এই গানেই তোমাকে পেয়ে বসল নতুন সৃষ্টির... তোমার হাতের স্পর্শে নতুন নতুন সোনা ফলতো। তুমি আমাদের শিল্প সাহিত্যকে কতদূরে নিয়ে গেছো তুমি কি কল্পনা করতে পারছো পরবাসী রবিদা? আমাদের ভোরে আজও পাখি ডাকে, ঘাসের ডগায় শিশির ঝিকিমিকি কওে, গড়াই নদীতে স্রোত বয়। তোমার সেই বোট- যে বোটে তুমি ঘুরে ঘুরে নদীর কূলবতী নারীদের স্নান দেখতে বের হতে, সেটাও তোমার কুঠিরে তোলা আছে। রবিদা, তোমার বকুল তলের কথা মনে পড়ে? যেখানে বসে তুমি কবিতার লাইনের মিল খুঁজতে? সেই বকুলের তলে আমিও বসেছি আজ-পাশে তুমি। গাছেরা তোমার দেখা পেতে চাই? বকুলের ফুল তোমার মালা হতে চাই? তোমার ব্যথায় ফুলগুলো আজ ঝরে ঝরে পড়ে-বিষাদী চেহারা ওদের, মুখপানে তাকানো যায় না। সেই বকুলের তলে তুমি ক্লান্তি দূর করতে আর সম্মুখে চেয়ে চেয়ে পানির জল ছটা দেখতে। তোমার সেই ছোট্ট পুকুরে মুখধৌত করে তুমি নতুন কাজে হাত দিতে। রবিদা, তুমিতো বাংলার প্রতিটা শাখাতেই তোমার পদচিহৃ রেখেছো। হেঁটেছো নতুন পথ সৃষ্টির নেশায়। তোমার স্পর্শে সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় ফুল, ফল, রসে পরিপূর্ণ্য হয়ে উঠেছে। তোমার গান আমাদের কাছে নতুন নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। রবিদা, তোমার মনে পড়ে সেদিন জোছনারাতে তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ছিলে আর বলে ছিলে তোমরা আমাদের সাহিত্যের নদী, পাখি, গাছ সবকিছু রক্ষা কর। আমরা তো কবি ওগুলোকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকি। তোমরা আমাদের সাহিত্য- সংস্কৃতিকে বিলিন করে দিও না। জানো রবিদা, তোমার ভালোবাসার মানুষগুলো আজ তোমার কথা বলে। তোমার মানবপ্রেমের কথা বলে ডুকরে ডুকরে কাঁদে। তোমার ভালোবাসায় মানুষের হৃদয়ে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার প্রদীপ। তোমার খাট আমি দেখলাম নিঃসঙ্গ পড়ে আছে। তোমার ব্যথায় কিযে দুঃখ বুকের মধ্যে পুষে রেখেছে, আমি বলতে পারছি না। কৃষকেরা তোমার নামে মাঠে কৃষিকাজ শুরু করে। এখনও কুঠিরবাড়ির তাঁতীরা, শাহজাদপুরের কৃষকেরা চিৎকার করে বলে ফিরে এসো রবিদা। তোমার ব্যথায় আমাদের হৃদয় কাঁদে। তোমার না দেখলে বুকের মধ্যে হুহু করে ওঠে। তোমারে দেখলে চোখের জ্যোতি বাড়ে। বসন্তে তোমাকে একবার অনেক খেপিয়ে ছিলাম তোমার মনে পড়ে? তোমার হাতের আঙ্গুল ধরে অনেক দূরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিলাম যেখানে তরুণ-তরুণীরা আজ সাজিয়ে তোলে হলির আবির মেখে। লালনকে তো তুমি দেখোনি-তোমার দাদা তাকে বসিয়ে তাঁর ছবি এঁকেছে অথচ পাগল মানুষেরা তোমার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে বলে কত যে গল্প ফেদেছে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। রবিদা, তোমার বউদি,তোমার ভাল বন্ধু ছিল, তোমার বাল্যেও সব লেখা তুমি তাকে দেখাতে? সেও এগুলো পড়ে তোমাকে উৎসাহ দিত। কিন্তু তুমি কি জানো মানুষ বলে তোমার নাকি তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তোমাকে পাইনি বলে তোমার বউদি মরেছে? তুমি আজ প্রেমিক নামের হন্তারক কিছু মানুষের কাছে। ভালোবাসলে তার জ্বালাও তো ভোগ করতে হয় যেমনটা আমি ভোগ করছি। জানো রবিদা, আমাদের গ্রামে নতুন ভাটিফুল ফুটেছে। ভাটিফুল তো তোমার অনেক প্রিয়। এ ফুলের ঘ্রাণ তুমি তোমার হৃদয়ে মেখেছো। তোমার তো সাদা রং অনেক পছন্দ ছিল তাইতো তোমার গায়ে দাদা দরবেশী পোশাক তুমি পরিধান করতে। তুমিতো পীরালি ব্রাক্ষণ। সেদিন রাতে জোনাক পোকা তোমাকে দেখতে এসেছিল, তুমি যে আমার মাথার কাছে ছিলে সেখানেই জোনাক ছিল সারা রাত আমার শিথানবালিশে। তুমি যেখানেই থেকো ভাল থেকো রবিদা। আর পরবাসী হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রেখো না? নিজেকে তো আমাদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছোই... তুমিতো তোমার কাল সময় বয়সকে অতিক্রম করে আজ একজন কিংবদন্তী হয়ে উঠেছো। তোমার সৃষ্টিতো আজ তোমার চেয়েও বড়। তুমিতো তোমার সৃষ্টির মাঝেই বেঁচে থাকবে অনন্তকাল...ভাল থেকো রবিদা। 

 

                                                ইতি

                                          তোমার একান্ত স্নেহধন্য

                                               বঙ্গ রাখাল