অধরা আলো

 


কবিতা

হেমন্তের প্রেম


হীম শীতল স্নিগ্ধ ধূয়াসায় ঘেরা কুহেলিকা ভোর
উওরা বাতাস বইছে শির শির মূদু কাঁপন,
পানকৌড়ির দল ডুব সাঁতারে মেতেছে নদীর জলে
হলদে পাকা ধানের শীষগুলো ঢেউ খেলছে প্রান্ত জুড়ে,
নিবিড় মিতালী পেতেছে হাওয়ার সাথে হেমন্তের লগ্নে।

হেমন্ত যেনো এসেছে নতুন ধানের পসরা সাজিয়ে
নয়নাভিরাম প্রাকৃতির প্রেম আমায় টানে,
কৃষকের হৃদয়
  জুড়ে প্রশান্তির ছায়া হাসোজ্জল আনন!
বৈরী হওয়া বয় পুরোনো পাতা ঝরে, নতুন পাতায় সাজে ডাল পালা।
শিউলি, কামেনি, গন্ধরাজ, কাঁঠালচাঁপা ফুলের সৌরভে ভরে উঠে
  প্রতিটি প্রভাত।
কাঁঠালচাপায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে চড়ুই পাখির ঝাঁক।

শিউলি কুড়িয়ে মালা গাঁথার ধুম পরে ভোরের শিশিরে,
পূর্ব আকাশে ভোরের সূর্য মূদু উষ্ণতায় উঁকি দেয় কুয়াশার ফাঁকে।
দিগন্ত জুড়ে শস্যে ফুলের হলুদ রং-এ সবুজের খেলা চলে।
নতুন ধানের মাড়াইয়ের উৎসবে কৃষাণীদের কাটে ব্যাস্তমুখর দিন।

ঢেঁকির তালে নোলক দুলে নতুন ধানের চাল তোলে
পায়েস পিঠের পরে যায় ধুম গ্রামের ঘরে ঘরে।
হেমন্ত সাজায় প্রকৃতিকে নতুনের সাজে জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে।
নতুন পাতায় বিন্দু বিন্দু শিশির ভেজা কুয়াশা ভোর মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ টইটম্বুর।
হেমন্তের এই রৃপ মাধুর্যে প্রকৃতি ময়ূরপঙ্খির মত মেলে ডানা।
বারংবার পড়ি প্রেমে প্রকৃতির এই মায়ার টানে অপরূপ
এই ধরনী তল।






তুমি ফিরবে বলে


তুমি ফিরবে বলে পথ চেয়ে রই
এক সমুদ্র আশা জাগে অন্তর জুড়ে
শীতের তীব্রতায় চাদর মুড়িয়ে গায়
কুয়াশা ঘেরা প্রভাতে ভেজা মেঠো পথ
ধরে খুঁজে ফিরি তোমার পথ ধ্বনি।


তুমি ফিরবে বলে বিধাতার দরবারে
প্রার্থনায় দু- চোখে অশ্রু টলমল
ভালোবাসায় বন্ধী আজও তোমার স্মৃতির  ঘরে
পারিনি ফিরাতে মন, পারিনিতো ভুলতে! 
কি ছোঁয়ায় আমাকে জড়ালে তুমি
কি ভালোবাসায় বাধঁলে পুড়ালে মন?
কেন এত মরমে মরি তোমার বিহনে সর্বক্ষণ।

তুমি ফিরবে বলে রোজ চাঁদের সাথে করি মিতালি
আধঁার  ঘরে প্রদীপের শিখা জালিয়ে নিরন্তর
প্রতিক্ষার প্রহরগুনি।
নির্ঘুম রাতগুলো করে উপহাস কান্নার নোনাজলে।

মেঘলা দিন বৃষ্টি স্নাত সাঁঝের বেলায় তুমি এসে দাড়ঁাতে
কৃষ্ণতলায় জরা ফুলের পাপড়িতে ছাওয়া পথে।
কত অভিমানে বৃষ্টির জলে ভিজতে ভালোবাসি বলিনি বলে।
দক্ষিনা জ্বানালায় চুপিসারে দাঁড়িয়ে তোমার পাগলামিতে
কতটা অনুভবে জড়িয়েছি তোমায় বলেছি ভালোবাসি
আজ তুমি দূর--বহুদুর, কেবলি স্মৃতির অনল।
তবুও পথ চেয়ে রই তুমি ফিরবে বলে।