বিদ্যুৎলেখা ঘোষ





আবার নতুন করে চিনবো 



কিন্তু রিভার্সটাই বা হবে না কেন ? আচ্ছা বেশ । ধরে নিলাম এমনই : " সুখ দুখ দুটি ভাই / সুখের লাগিয়া যে করে পিরিতি / দুখ যাবে তার ঠাঁই " । ধরো এই যে হদ্দ বিটকেল খিটকেল অষ্টম আশ্চর্য তোমার সঙ্গে পিরিতি করেছি মানে ভালোবেসেছি গর্ভমীন হয়ে ওঠার কত না আগে থেকে ও হে জীবন মোড়ল ! জ্ঞাতে অজ্ঞাতে ঘোর অন্ধকার ব্যথাজর্জর টানেল পেরিয়ে এই ভুবনডাঙায় অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে সেই যে কী ভারি বিশ্রী শীত নয়তো গরমে আমার উথালিপাথালি অস্থিরতা আর তাই দেখে তোমার কাদাখোঁচা হাসি আর ধরে না । তা বাপু জীবন মোড়ল সে তুমি হাসো । প্রাণ খুলে হাসো । মন খুলে হাসো । আর যা যা খুলে হাসতে দিল চাহতা হ্যায়, হাসো । নো , নেভার । কক্ষনো বলবো না " সুখে আমায় রাখবে কেন / রাখো তোমার কোলে / যাক না গো সুখ জ্বলে "...ইইহ্ ইল্লি আর কি ? কেন হে তোমার কোলে উঠে বসে থাকবো ? তুমি যে দুঃখ । গলার কাছে একদলা ভাতের মতো । যদিও হজম হয়ে বেরিয়ে যাও না । তুমি তো নবীন প্রেমিক । দোলকের তাল গুনে গুনে আমার চোখে জাল , কালোয় সাদায় রেশমি উড়ান । তবু তুমি কিন্তু তেমনই চিরহরিৎ । পাতায় পাতায় এড্রিনালিনের হিসেব রেখে চলেছো । দাগ পড়ে যায় লাল হলুদ ছোপ দিনগুলোর , তিরতির পার্পল মুহূর্তের , স্ট্রবেরি শীৎকারের । তারপর শুকিয়ে ঝরে যাওয়া ঋতুগন্ধ । আফটার এফেক্ট নিয়ে তোমার আমার তুমুল... রাতভর বৃষ্টি নামে । অনুসারী বিমূর্ত ঐন্দ্রজালিক বীতশোক স্বপ্নে হাত ধরো । কোথায় নিয়ে যেতে চাও ! কেনই বা সমস্ত পথে তোমাকেই সবটুকু দিয়ে নিঃস্ব মাইলফলক ছুঁয়ে ছুঁয়ে এগিয়ে চলা ! এর নাম বুঝি সুখ ! হবেও বা । ধরো যদি এই মধ্য ব্যঞ্জনে তোমার কাছে খুব আহ্লাদ করে বলি , আর একটুও হাঁটবো না । দেখো না পা ব্যথা করছে । বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে আমার অপূর্ণ নুনখড়ি ধুলোয় । এবার ছাড়ো আমাকে...প্লিজ....। জানি হেসে উঠবে আবার সেই কাদাখোঁচা হাসি । হয়তো তখন বিকেল, তুমি কিন্তু বলে উঠবে , গুড মর্নিং...দেখো কেমন সুন্দর লাগছে তোমার আলতুসি মুখে নরম রোদের ব্লাশ অন । ভাবো আকাশ ছুঁয়েছে জমিন । এই বিশাল ঊষর ভরে দিতে হবে কিষান আর কিষানী তোমাকে আমাকে । অথচ কোনো লাঙল নেই সহায়তা নেই । কিছু তো নেই একেবারে । এত নেই এর মধ্যে আছে এতগুলো পরাজয়ের শংসাপত্র আর কেবল একটি মাত্র নচিকেতা খুরপি । এসো তেওড়ার স্বেচ্ছা ঝোঁকে মহড়ার মাটি খুসে খুসে বুনে দিই পকড় থেকে আভোগ । ভালোবাসো আমাকে ? তাহলে জেনো বেহিসেবের ভিতরে যে হিসেব তোমাকে ছুঁয়ে বাতাসে গিয়ে মেশে তার মধ্যেই তো আছে সোনাঝুরি সুখের চাবিগোছা । তুমি কি থেমে যাবে বলো ? প্রতিধ্বনি হবে তুমি ! ছেড়ে দেবে আমার হাত ! নিজের কথাগুলো দৃপ্ত স্বরে বলে উঠবে না ! ও হে জীবন মোড়ওওল অনেক মোড়লি করেছো আমার উপর.. এবার আমার টার্ন..তুমিই আমার সাতটা ঘোড়ায় টানা সপ্তাশ্ব রথ..আমিই রথী আমিই সারথী...আমার সূর্যোদয় সূর্যাস্ত আমারই ইশারায়..আমার মধ্যে আমৃত্যু..। বলবে না তুমি ! এসব হেব্বি পাম্প কানে খেয়ে খানিকক্ষণ পরে আমি বলবো , হেঁ হেঁ.. চলো এগোই আর কি ? গ্যাস ভরে ভরে আমি নামের এই অটোরিকশাটাকে যখন এতখানি চালিয়ে নিয়ে এসেছো , এই আমি পাশের সিটে গ্যাঁট হয়ে রইলাম । চলো.. যেমন বলবো ।