অন্তঃপাতী
এক
ইপ্সিতের দিকে যাই । যাই তোমার ইঙ্গিতে।
ক্রমাগত যাই আর আমি স্পষ্ট হতে হতে
দেখেছি তুমি বুক থেকে কাপড় খুলে ফেলে
পূর্ণোপমার মতো এসে সামনে দাঁড়ালে।
এভাবে কেন যে দাঁড়াও ?
আমি তো স্তনের লোলিত লিখিনি কখনও।
লিখিনি নাভীর ছন্দতা।
সেই যন্ত্রণা ভোগ করতে দাও।
তুমি ধীরে ধীরে কবিতা হয়ে যাও।
দুই
এভাবেই ভাঙতে ভাঙতে একদিন চব্বিশ তত্ত্ব ফুরোবে।
যা কিছু সমক্ষে সে সব আমার নয়, আমিও তাদের
নই।
নিষ্প্রয়োজনের মতো আছি। অস্বীকার্যের মতো আছি।
আছি কাব্যহীনের মতো।
এভাবেই থাকতে থাকতে একদিন অভাব বদ্ধমূল হবে।
তোমাকে পাওয়ার অন্য কোনো উপায় নেই কবিতা ছাড়া।
কবিতা হয়না তোমাকে ব্যতীত।
তিন
রোরুদ্যমানতার কথা আর লিখবো না।
আর লিখবো না যা কিছু আত্মবিষয়ক।
নিভে যাওয়া সেঁজুতির আলো ও যুথিকার ঘ্রাণ এবং আমার বসে থাকা
ঠায়...
সেই অনর্থক প্রত্নচরিত আর লিখবো না।
তুমি অচল হওয়ার আগে আমাকে নীরব করো প্রিয় ডটপেন।
ঠিক যতটা মৌনী হলে বাকসিদ্ধ হওয়া যায়।
চার
সাধ্য ও ইপ্সিতের মাঝে যতটা ব্যবধান সেটাই জীবন ।
আমি ধারণ করবো কাকে ? কাকে দেবো বিবিধ
ব্যাঞ্জনা ?
পাখিগান, ফুলদোল, বিলোল
ভ্রমরীর ডানা,
আর স্বতঃসম্ভবে কলাবৃত্তে ঘটবে প্রিংয়বদা...
কার ঠোঁট, কার স্তন করবো কাদাকাদা ?
যমক মিশিয়ে দেবো কার রতাভ্যাসে ?
কেন যে বারবার কবিতা অর্থহীন হয়ে যায় শেষ পঙক্তিতে এসে ।
পাঁচ
যে আমি নিমিত্তহীন তবু কেন ঘটাচ্ছো বারবার ?
যে আমি অকামহত তবু কেন এত স্পর্শ তাড়না ?
সর্বাঙ্গ ছোঁয়ার পরেও বোঝোনি কতটা অসার ?
কেন যে আমাকে তুমি মুছতে পারো না।
যে আমি অছান্দিক তবুও তোটক আঁকছো সারা গায়।
কেন লিখছো সাঙ্গরূপক? অভিরতি কেন অহেতুক
?
এমন ভাঙাতরী নিয়ে কেন যে ভাসলে সরিতায়।
দেখি কত আনন্দ পাও। দেখি কত সুখ।
অমর্ত্য দত্ত



0 মন্তব্যসমূহ