তোমার খোলা হাওয়ায়
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি / ডুবতে রাজি আছি আমি
ডুবতে রাজি আছি।।গুন গুন করছে রেডিও তাল মিলাচ্ছে রাণু পিসি। খোলা হাওয়ায় পাল
তুললে যে ডুবতে হয় একথা
তার থেকে ভালো আর কেইবা জানে দীর্ঘ পেরিয়ে আসা জীবন, টুকরো টুকরো
জোড়া লাগাবার ব্যর্থ চেষ্টা। এই একটি দিনে তিনি ভুলে যান নাপাওয়ার
হিসাব। ফুল চন্দন স্নিগ্ধ আসনে বসান প্রাণের ঠাকুরকে।জুঁই ফুলের মালায় অলৌকিক আলো
আরো রহস্যময় হয়ে ওঠে বসার ঘর। একে একে সমস্ত আত্মা মন অনুভূতি অনুযোগ অনুরণিত
হতে থাকে। জানলার ফাঁকে রোদের আভা এসে পড়ে ঠাকুরের চোখে, বুঝি একটু
অন্যমনস্ক। গভীর প্রেমে মগ্ন চারধার।
এ প্রেম, এ সমর্পন অনন্ত। হাওয়া যেমন পাতায় পাতায়
মর্মরিয়া বনকে কাঁদায় তেমনি আমার বুকের মাঝে কাঁদাও কাঁদাও গো ঠিক এভাবেই কাঁদছে
তানপুরা, দু -গাল বেয়ে নেমে আসছে অস্রু। দীর্ঘ সময় কেটে যায়। হঠাৎ নিজেকে
খুঁজে পান বনের পথে। হাত ধরে আছেন তিনি। নতুন কচি পাতায় ভরেছে বাদামি শাখা। ফুলের
রেণু ঝড়ে পরছে মুখে মাথায়। অজানা গন্ধে ভরে যাচ্ছে পথ, পথের পাশের
হাওয়া, হাওয়ার সাথে আলো কী ভীষণ ভালো লাগা এই চলা। ডুরে শাড়ির ভাঁজে
লুকিয়ে থাকা যৌবন শেষের আর্তি। তামাম গীতবিতান সুর হয়ে বাজতে থাকে মনে, তাকে ছাপিয়ে
দুচোখ ভেসে যায় জলে। ওগো প্রাণের ঠাকুর আর কতটা ডুবলে তোমার স্পর্শ পাব।
আজি বহিছে বসন্তপবন সুমন্দ তোমারি সুগন্ধ হে... মনে হয় "কোনো
কালে হয়নি যারে দেখা, ওগো, তারি বিরহে এমন করে ডাক দিয়েছ -ঘরে কে রহে "
অনন্ত হয়েছে যে পথ তার ইশারা দিয়ে যায় পথিক। সমস্ত ব্যথার উপশম বুঝি এইখানে।
মনে হয় যার সাথে কখনো দেখা হয়নি তারই বিরহে কাঁদছে মন। মনে ভাসে স্কুলের
রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন মায়ের লাল পাড় গরদ, লম্বা চুলে জুঁইয়ের মালা পেচানো, ঠোঁটে
হালকা রঙ কত ডাক উড়ে আসছে এই শুনছিস তোকে রবীন্দ্র নায়িকাদের মতন লাগছে। আহা সেই
বুঝি শুরু তার পর কত অমল ধবল পালে লেগেছে হাওয়া, মন ডুবুরি
হয়েছে কে জানে। মন চাতক হয়েছে, হাওয়া বয়ে গেছে দূরে, আরো দূরে , আরো আরো... কবে কখন যে এভাবে রাণু পিসিরা চলে যায়
অনন্ত পথে , কে তাদের হাত ধরে জানা নেই। শুধু সেই প্রতিক্ষিত
দিনটা এলে নতুন
ভাবে খেয়া সেজে ওঠে ভেসে যাবার ছলে, পালে হাওয়া লাগে হাওয়া লাগে...
কাকলি মান্না

.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ