জি কে নাথ

 



গণনাচ


 

 

তবু দুঃসাহসিক এই শ্বেতবর্ণ রাত্রির মুখে ভেসেছে গলিত জন্মের একমুষ্টি অন্ধকার চূর্ণ

 

টাটকা ডানা আঁকা অভীপ্সায় ঘোরে অলীক দেহাকাশ

 

বাস্তুর এঁটেল মাটি ফুঁড়ে প্রবল হাড়ের স্রোতফলায় ভিক্ষা জ্বলে , নাচ জ্বলে

 

সতেজ উপরিতলে টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে শুদ্ধ চতুষ্কোণ জুড়ে ছায়া ছায়া শোকবিষাদ 

 

 

মোহমুক্ত হতাশার মতো ঠান্ডা অপেক্ষাকৃত সরল লোক গঠিত মানবজমিন একদিন সহজপাড়ে নামে

 

অসাড় অনন্ত স্থির কিশোরপাখির আকন্ঠ রোদ্দুরে ভিজে ওঠে  হিংসার ক্রান্তিকাল

 

নি:সন্দিগ্ধ লতাগুল্মময় গর্ভের জটিল শিকড় জল গড়িয়ে নিচ্ছে অনায়াসে

 

উড়ে গেছে সরল ও স্পষ্ট ধূসর নাগরিক ঐক্যে সারি সারি রাতচিমনির ধুম্রআকাশ 

 

অসম্ভবের চূড়া জুড়ে ভেঙেছে দুরূহ ফেনায় সাম্যগানমদ্য 

 

ঘুরিয়ে ফেলা চামড়ায় সেঁকা রুটির সুগোল পাশাপাশি শুয়ে ধারালো ধাতব বুকে

 

অতি ক্ষতদৃষ্টি তুলে রক্ত জ্বলে সিঁদুরে কলঙ্কের সহজ দেহে

 

ফসল পাকা এতো অল্প বয়সের মতো বিচ্ছুরিত ধ্বনির আভায় পোকায় কাটা মিহি সংঘাত

 

পেরোই ক্রমশ মজ্জাগত আরও এক উচ্চ সবুজস্বরবৃত্ত , ইঙ্গিতে এই বৃহৎ বিকৃত সুরে জং 

 

গণশস্যের পালক খসিয়ে শেষকার চোখের দূষ্য প্রতি পদে লুকিয়ে চিরকৌশল---- হিমবিপদ 

 

বিসর্গ গাঁথা একচেটিয়া অবাধ গতির বিদ্রুপ পুলিশি হাওয়ায় নষ্টের কিছু সভা, অর্ধদগ্ধ দিবসের

চুক্তিহীন টুকরো নক্ষত্রের পাগড়ি 

 

প্রথানিশ্চিত মেরুজলের উপর নির্ভর কয়েকশ মাইল দূরে বেলা পড়ে আসা পুরানো গ্যাসবাতি নিভিয়ে মায়া বিছিয়ে থাকে স্বপ্নের পড়ন্ত চাতালে 

 

আকৃতি ভেঙে সংকল্প ম্লান স্বরের ছাঁচে ঢালাই ডাকের অত্যন্ত অঞ্চলে ধূপের জোয়ারে ভাসে নিখুঁত কারিগরি যন্ত্র

 

জনতাশূন্য যান্ত্রিক এই যোজনায় নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয় নিপুণতরুণ

 

উড়ন্ত মুর্চ্ছার ছায়ায় মন্দ হাত, পা , বুক, পেট খসে কর্কশ বিকেল জেগে উঠেছে অনেক বস্তির হাওয়ায় 

সম্পূর্ণ জ্বলে ভেতরে ভেতরে চক্রাকারে মুখ রেখে অনেক বাইরে দূরে শিথিল হয়েছে লবণদেহের অর্থ

 

শকুন ভাসা একপলকের শীর্ষে বিদ্যুৎ জ্বলে উঠতেই একফালি ছায়ার উপর ভেসে ওঠে শিকারে পরিণত দেশলাই 

 

থেমে থাকা অবিশ্রান্ত জল ঘিরে নকশারম্ভের খাদে পোশাকহীন দপদপে মুখের শাদা হাওয়ায় ভরা রক্তক্ষরণের চৌকাঠ

 

 

ক্রমপ্রসারিত নিজেকেই এখন নিজের ভিতর দেখি আশ্চর্য স্ফুরণে তৃষ্ণার সূক্ষ্ম পাখায় ঢাকা আয়নার ঘোলাটে স্ফীত কাচে 

 

মৃত স্মৃতির জ্বলন্ত ভুরু ভাঙা সেতারে বেজে ওঠে  হৃদি

 

আমাকে কি চেনোনি ? 

 

পথ খোলা মুখে মুখে পরস্পর স্বস্তিক পাক খাই এঁটো দিনান্তের ভাষা-ডোবা বাতাসে ভেসে মেঘে ক্রমশ

 

 

 স্বপ্নভাবের দূর স্বপ্নে হাত কাটা পাহাড় মানুষ, ফালাফালা চাঁদবটি আদিগন্ত কৃষ্ণমাঠ

 

সুতোর গভীরে শব্দ দিয়ে দেখা ঘনত্বে ভাষাজঙ্গল বুদ্বুদ টিপ

 

অবিবাহিত নির্ঘুম পায়ে পড়ে আছে কেবল একগুচ্ছ নিরস হেমন্তের নৃত্যঘাস ।।

 

                 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন